• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৩০ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার ও হস্তান্তর

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯
  • ২৫ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ-

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনামিনা কৃষি খামারের কৃষকরা বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করে রাজশাহী স্নেক রেসকিউ এ্যান্ড কনজারভেসন সেন্টারে হস্তান্তর করেছে। সাপ পরিবেশের বন্ধু, মানুষেরও বন্ধু। সাপ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কীট-পতঙ্গ, ইদুর, ব্যাঙ এদের প্রধান খাদ্য ঝোপ-জঙ্গল, বন কেটে পরিষ্কার করার কারনে সাপ হারাচ্ছে তার আবাসস্থল।আবাসস্থল হারিয়ে লোকালয়ে এসে মারা পড়ে।

কিন্তু মনামনিনা কৃষি খামারের শ্রমিকরা একটি চন্দ্রবোড়া সাপ হত্যা না করে রক্ষা করেছেন।

মনামনিনা কৃষি খামারে বিষধর সাপটিকে বুধবার শ্রমিকরা দেখতে পায়। তারা সাপটিকে ধরে বস্তায় আটকে রাখে।এর আগে সাপটিকে মেরে ফেলার উদ্যেগ নিলে মনামনিনা কৃষি খামারের মালিক মতিউর রহমান সাপটি না মারার জন্য তাদের বলেন। বিষয়টি মতিউর রহমান সেভ দ্য নেচার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র স্বেচ্ছাসেবকদের জানান। তারা রাজশাহীর স্নেক রেসকিউ এ্যান্ড কনজারভেসন সেন্টার এর পরিচালক বোরহান বিশ্বাস রুমনকে জানালে তিনিসহ একটা টিম বিকেলে আসেন। পরে সেভ দ্য নেচার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি সাপটিকে হস্তান্তর করা হয়।

Viperidae পরিবারের অন্যতম বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ, এর ইংরেজী নাম Russell’s viper, বৈজ্ঞানিক নাম Daboia russelii. চন্দ্রবোড়ার দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত এক মিটার; দেহের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১.৮ মিটার। চন্দ্রবোড়া নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি ও ব্যাঙ ভক্ষণ করে। পৃথিবীতে প্রতিবছর যত মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়, তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারা যায়। এদের বিষদাঁত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃহৎ।

এরা প্রচণ্ড জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে। চন্দ্রাবোড়ার বিষ হোমটক্সিন, যার কারণে কামড় দিলে মানুষের মাংস পচে যায়। রাসেল ভাইপার বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। অন্যান্য সাপ মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও এ সাপটি স্বভাব ঠিক তার উল্টো। তাই প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কেবল এ সাপটির কামড়েই প্রাণ হারান। আক্রমণের ক্ষিপ্র গতি ও বিষের তীব্রতার কারণে ‘কিলিংমেশিন’ হিসেবে বদনাম রয়েছে সাপটির।

সাপে কামড়ালে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অনেক সময় নির্বিষ সাপে কামড়ালেও আতঙ্কিত হয়ে মানুষ হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। আজকাল অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন প্রায় হাসপাতালেই পাওয়া যায়। সময় মতো অ্যান্টিভেনম দিলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে।

সাপ শুধু পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনা-সাপের বিষ থেকে তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধও। তাই অপ্রয়োজনে হত্যা না করে-এদেরও বাঁচার সুযোগ দিন।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..