• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন

মুখ খুললেন শাকিব, পাশে থাকার বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৪৮ বার পঠিত

অনলাইন-
মুখ খুললেন শাকিব, পাশে থাকার বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা, বিসিবি

শাকিব আল হাসান। নামটাই টিম বাংলাদেশের শক্তির প্রতীক। ঢাকার মাঠ থেকে বিশ্বের যে কোনও ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশের মোকাবিলায় নামা টিমের কাছে শাকিব মানেই বড় মাপের মানসিক চাপ। অজস্রবার একার ক্ষমতায় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নামের পাশে এত বছর লেখা হয়েছে নতুন নতুন রেকর্ডের তালিকা। এ বারে সেই তালিকায় রেকর্ডের বদলে নিষেধাজ্ঞার দণ্ড। একদিন আগে থেকে যা ছিল আলোচনায়, সেটাই সত্যি হল মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। নিষেধাজ্ঞার খবর আইসিসি জানানোর পরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে অধিনায়ক শাকিব রাত সওয়া ৮টা নাগাদ মুখ খুললেন। বললেন, “ভালবাসার ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হওয়ায় আমি সত্যিই দুঃখিত। কিন্তু ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব পাওয়ার কথা গোপন করার শাস্তি আমি মেনে নিয়েছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীল আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখা (আকসু)। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের দায়িত্ব আমি পালন করতে পারিনি।” এই সময়ে আইসিসির কাছে দেওয়া বিবৃতিটিও পড়লেন শাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অফিসে শাকিব আল হাসান আরও বললেন, “বিশ্বের অধিকাংশ খেলোয়াড় ও ভক্তদের মতো আমিও চাই এই খেলা দুর্নীতিমুক্ত থাকুক। আমি আইসিসির সঙ্গে শিক্ষা কর্মসূচিতে কাজ করতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই, যেন আমার মতো কোনও তরুণ ক্রিকেটার ভুল না করে।” দর্শক আর সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ক্রিকেটাঙ্গনে আমি দর্শক-সমর্থকদের যে ভাবে পাশে পেয়েছি, আপনারা যে ভাবে শুরু থেকে আমাকে সমর্থন দিয়ে গিয়েছেন, সে ভাবেই পাশে থাকুন, এটাই চাই।”

শাকিবের এই শাস্তিতে মন ভার বাংলাদেশের বোর্ড চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান পাপনেরও। বিবৃতি দেওয়ার সময়ে মর্মাহত নাজমুল জানান, তিনি শাকিবের পাশে আছেন এবং থাকবেন। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই শকড। শকড হওয়ার মতো এর চেয়ে বড় খবর আর নেই।” পাপন বললেন, “আমি অনেকবার বলেছি, দু’জন খেলোয়াড়ের বিকল্প আমাদের নেই। একজন মাশরাফি, আরেকজন শাকিব। তাঁদের বিকল্প কাউকে পাব কিনা জানি না। ও খেলতে পারছে না, এতেই আমরা শকড।” নাজমুল আক্ষেপের স্বরেই জানালেন, “ভারতে সিরিজ খেলতে যাচ্ছি আমরা, সব পরিকল্পনা শাকিবকে নিয়েই করা হয়েছিল।”

আরও পড়ুন: ‘এখনই কি কাজ শুরু করব, নাকি অপেক্ষা করব?’

বাংলাদেশের বোর্ড সভাপতির দাবি, আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখা যে শাকিবকে ডেকেছে তিনি এই খবর জানতেন না। তাঁর কথায়, “আমরা কিছুই জানি না। শুধু শাকিবের সঙ্গেই ওরা দেখা করেছে। আমরা শুধু রেজাল্ট জানতে পেরেছি। দুই-তিন দিন আগে ধর্মঘটের পর শাকিবই প্রথম বলল।”

শাকিবের পাশে থাকার বার্তা দিলেন বিসিবি প্রধান।

চ্যাম্পিয়ন অলরাউন্ডারের পাশে থাকার বিষয় দিয়ে পাপন বললেন, “আমি মনে করি, সবারই শাকিবের পাশে থাকা উচিত। ওর ভেঙে পড়ার কোনও কারণ নেই। সব সময় বিসিবি পাশে থাকবে। আরও শক্তিশালী ও বুদ্ধিদ্বীপ্ত ক্রিকেটার হিসেবে ও খুব শিগগিরই ক্রিকেটে ফিরবে আশা করি। আমরা আশাবাদী, নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে ও। আইসিসির এই সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে এবং ক্রিকেটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের মতোই আমাদের শক্ত অবস্থান।”

মঙ্গলবার বিকেলে ন্যাম সম্মেলন শেষে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সেই সময়ে আইসিসির শাস্তি ঘোষণার খবর না এলেও একটি সংবাদপত্রের খবর ধরে আলোচনায় প্রথমেই উঠে আসে শাকিব আল হাসানের বিষয়ে প্রশ্ন। উত্তরে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেন, “শাকিবের ভুল ছিল, বেশি কিছু করার নাই। তবে আমি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শাকিবের পাশে থাকব। বিসিবি শাকিবের পাশে আছে। ওকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে। এই ধরনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে জুয়াড়িরা যোগাযোগ করে। ও খুব একটা বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি। ফলে আইসিসিকে বিষয়টি জানায়নি। নিয়ম হল, ওর সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা জানানো উচিত ছিল। এখানে ও একটা ভুল করেছে। এ ক্ষেত্রে আপনারা জানেন, আইসিসি যদি কোনও ব্যবস্থা নেয়, আমাদের খুব বেশি কিছু করার সুযোগ থাকে না। তবু আমরা বলব, বিশ্ব ক্রিকেটে তার একটা অবস্থান আছে। একটা ভুল করেছে এবং সেটা ও বুঝতেও পেরেছে। এখানে খুব বেশি কিছু করার নেই আমাদের।”

শ্লোগান ও প্ল্যাকার্ডে তাদের বক্তব্য, ‘শাকিব কি ষড়যন্ত্রের শিকার? দুই বছর আগের ঘটনা কেন এই সময়ে সামনে এল?’

অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তী মাশরাফি বিন মোর্তজা প্রচণ্ড আক্ষেপ নিয়ে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘১৩ বছরের সহযোদ্ধার আজকের ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই কিছু বিনিদ্র রাত কাটবে আমার। তবে কিছুদিন পর এটা ভেবেও শান্তিতে ঘুমাতে পারব যে, তার নেতৃত্বেই ২০২৩ সালে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলব। কারণ নামটি তো শাকিব আল হাসান…!!!’

এই ঘটনায় যখন সারা দেশ স্তব্ধ, তখন শাকিবের স্ত্রী উম্মে আল হাসান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লেজেন্ডরা কখনও রাতারাতি লেজেন্ড হন না। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা আর চড়াই-উতরাই পার হতে হয় তাঁদের। কঠিন সময় আসবেই, কিন্তু তাঁরা সেটা শক্ত মনে মোকাবিলা করবেন এবং আমরা জানি শাকিব কতটা শক্তিশালী! এটা নতুন শুরু, যে কোনও সময়ের চেয়ে ও আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। চোট পেয়ে ও ক্রিকেট থেকে দূরে ছিল। আমরা দেখেছি কী ভাবে ও বিশ্বকাপে ফিরে এসেছিল। এটা কেবল সময়ের ব্যাপার। আমরা আপনাদের এই ভালবাসা ও সমর্থনে সত্যিই কৃতজ্ঞ। এটাই ঐক্য, যা একটা জাতির জন্য প্রয়োজন।’

এ দিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর প্ল্যাকার্ড হাতে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের গেটের সামনে প্রতিবাদে নেমে আসেন শাকিবের ভক্তদের অনেকে। শ্লোগান ও প্ল্যাকার্ডে তাদের বক্তব্য, ‘শাকিব কি ষড়যন্ত্রের শিকার? দুই বছর আগের ঘটনা কেন এই সময়ে সামনে এল?’

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..