• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

তিনি কি রাজসাক্ষী না বৈরী সাক্ষী

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২৬ বার পঠিত

তিনি কি রাজসাক্ষী না বৈরী সাক্ষী

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮-এর নির্বাচনের পর থেকে দেশের ‘ডিফ্যাক্টো’ (অভিধানে এর বাংলা করা হয়েছে কার্যত, অর্থাৎ কোনো কিছু বিধিগতভাবে সিদ্ধ না হয়েও ধারণাগত ও প্রচলিতভাবে সাধারণ্যে গৃহীত) বিরোধী দল বিএনপি এবং আরো অনেকে ওই নির্বাচনকে ভোটারবিহীন নির্বাচন, ভোট-ডাকাতির নির্বাচন, নিশিকুটুম্বদের নির্বাচন ইত্যাদি অভিধায় অভিহিত করে আসছে। এসব রাজনৈতিক দলের বড় অভিযোগ হচ্ছে, নির্বাচনের আগের রাতেই নাকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আসল কাজটা সেরে ফেলা হয়, অর্থাৎ ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়। এর ফলে বিজয়ী প্রার্থী ও বিজিত প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় আকাশ আর পাতাল। বিজয়ী জিতু মিয়া দেখা গেছে পেয়েছেন তিন লাখ ভোট, আর তাঁর নিকটতম বিজিত প্রতিদ্বন্দ্বী হারু মিয়া, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতায় যিনিও কম যান না, পেয়েছেন দশ হাজার বা বারো হাজার। কোথাও কোথাও নাকি আবার মোট ভোটার সংখ্যার চেয়ে বেশি ভোটও পড়েছে বাক্সে। দলমত-নির্বিশেষে এলাকাবাসী মানুষের কাছে এসব তেলেসমাতি ফলাফল ছিল অবিশ্বাস্য। তবু লোকে ভয়-ভীতিতে সিঁটকে থেকে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য করার সাহস করেনি। বন্যা-জলোচ্ছ্বাস-নদীভাঙ্গনের মত ভোটটাকেও একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মনে করে তারা সবর করে গেছে।

তবে স্বাভাবিকভাবেই ‘অগৃহপালিত’ বিরোধী দলগুলো সবর করতে পারেনি। তারা এই নির্বাচনকে ভোটারবিহীন প্রমাণ করতে শুরু থেকেই তারস্বরে চিৎকার করে আসছে। তাদের মতে, রাতের বেলা আকাশে সূর্য দেখা যায় বলে নরওয়ের পরিচিতি যেমন নিশীথ সূর্যের দেশ বলে, বাংলাদেশেরও তেমনি অচিরেই নাম হবে নিশীথ ভোটের দেশ। সে যাই হোক, বিরোধীদের এইসব চিৎকার-চেঁচামেচিতে জিতু মিয়া সাহেবরা কান না দিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে চলেছেন বলা যেতে পারে। তাঁদের নীতি একটাই : পিঠে বেঁধেছি কুলা, কানে দিয়েছি তুলা।

নির্বাচন যে প্রহসনমূলক হয়েছে, ভোটাররা যে ভোট দিতে পারেননি, এই বক্তব্যের সপক্ষে বিরোধী দলগুলো দেশে-বিদেশে সাক্ষী-সাবুদ খাড়া করার ম্যালা চেষ্টা-তদ্বির করে যখন রীতিমত ‘কেলান্ত’, (বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে ক্লান্ত শব্দটির এই বিপ্রকর্ষীয় উচ্চারণ আমার কাছে কখনো কখনো যথার্থই মনে হয়। বেশি ক্লান্ত হয়ে গেলে ব্যঞ্জনবর্ণ যুক্ত করে উচ্চারণ করাটা ক্লান্তিকর বই কি!), তখন ‘দেনেওয়ালা যব ভি দেঁতে, পুরা ছাপ্পড় ফাড়কে দেঁতে’ প্রবাদ বাক্যটি সত্য প্রমাণিত করে মঞ্চে আবির্ভূত হলেন জিতু মিয়াদেরই একজন—চৌদ্দ দলীয় আওয়ামী জোটের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, আওয়ামী লীগ সরকারের দুই দুইবারের মন্ত্রী জনাব রাশেদ খান মেনন। তিনি সম্প্রতি বরিশালে তাঁর দলের এক সভায় বলেছেন : আমি নির্বাচিত হয়েছি। তারপরও আমি সাক্ষী (সাক্ষ্য) দিচ্ছি, ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি পরবর্তী সময়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেনি দেশের জনগণ।’ তাঁর এই বক্তব্য শুনে দেশবাসী মেঘনাদবধ কাব্য উদ্ধৃত করে হয়ত বলবে : ‘এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।’ বিএনপি বলবে, ‘ভাইসব, আমাদের কথা তো আপনাদের শুনতে দেওয়া হয় না, এবার শুনলেন তো তাদের পরিবারের লোক কী বলছে।’ আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জানী দোস্ত চৌদ্দ দলীয় জোটের অন্যান্য সঙ্গীরাও ওই মেঘনাদবধ কাব্য থেকেই উদ্ধৃতি দিয়ে বলবে : ‘এ কী কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!’

২.

তা মেনন সাহেবের উক্তিতে দেশের লোক পুলকিতই হোক আর বিস্ময়ে বিষম খাক, কিংবা যাদের সঙ্গে এত দিন তাঁর দল গাঁটছড়া বেঁধে সুখে সংসার চালাচ্ছিল সেই আওয়ামী লীগ ও তাদের টিমমেটদের টাসকি লাগুক অথবা ব্রহ্মতালু জ্বলে উঠুক, বিএনপি কিন্তু হঠাৎ করে না চাইতেই পানি নয় একেবারে ঠাণ্ডা এক বোতল কোমল পানীয় পেয়ে গেল। (বাই দ্য ওয়ে, বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, কোমল পানীয় কিন্তু, ডাক্তাররা বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতএব, ওটা গলাধঃকরণের আগে একটু ভেবে দেখবেন। ধরে নিন, এটা একটা সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ!) তারা যখন দেখছে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরাও জানের ডরে মুখ সেলাই করে বসে আছে, তখনই তাদের পক্ষে সাফাই সাক্ষী হিসেবে ফেরেশতার মত নাযিল হলেন বিরুদ্ধ পক্ষের একজন প্রধান সেনাপতি। আর শুধু নাযিল হওয়াই নয়, ময়দানে এসেই কামান দাগলেন নিজেদের জোটের ওপর। এ যেন অস্ট্রেলিয়া দলেরই একজন খেলোয়াড় স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে বল ট্যাম্পারিংয়ের শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়ে বসল। এর চেয়ে বড় নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও ওয়াকিবহাল সাক্ষী আর কে হতে পারে। রাজসাক্ষীই বটে!

দাঁড়ান, দাঁড়ান। ইত্যবসরে অর্ধ শতাব্দীরও আগে যখন বিচারকের দায়িত্ব পালন করতাম তখনকার দিনে শেখা রাজসাক্ষী, বৈরীসাক্ষী, ‘স্টক উইটনেস’ ইত্যাদি কতিপয় আদালতি শব্দ বা পরিভাষার যিকঞ্চিৎ পরিচিতি তুলে ধরি। তা হলে আপনারা নিজেরাই স্থির করতে পারবেন স্বঘোষিত সাক্ষী জনাব মেননকে কোন ক্যাটাগরিতে ফেলা যায় : রাজসাক্ষী, বৈরীসাক্ষী, না ‘স্টক উইটনেস’। রাজসাক্ষীকে ইংরেজিতে বলা হয় অ্যাপ্রুভার। ইনি সেই ব্যক্তি যিনি আসামী-তালিকাভুক্ত হয়েও যে কোনো কারণে মামলার তদন্ত চলাকালে বাদীপক্ষের সাক্ষী হয়ে নিজের ও অন্য বিবাদীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বৈরীসাক্ষী বাদীপক্ষের এমন একজন সাক্ষী যিনি ফৌজদারি মামলার তদন্তকার্য চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট যে বক্তব্য দিয়েছেন (সাধারণত ফৌজদারি কার্যপ্রণালী বিধির ১৬১ ধারায়), আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় হলফ নিয়ে দাঁড়িয়ে তা না বলে ভিন্ন কথা (প্রায় সব সময় উল্টো কথা) বলছেন, এবং এই কারণে বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বা কৌঁসুলির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে বৈরী, ইংরেজিতে ‘হস্টাইল’ ঘোষণা করেন এবং সেই কৌঁসুলিকে সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি দান করেন। আর ‘স্টক উইটনেস’ আসলে একজন টাউট, যাকে যে কোনো মামলায় অর্থের বিনিময়ে কিছু শিখিয়ে-পড়িয়ে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। এ ধরনের সাক্ষী একেকজন একেকটা কারেক্টার বটে। এদের সম্বন্ধে অনেক মজার মজার গল্প চালু আছে। যেমন এক স্টক উইটনেস হালের বলদ চুরির মামলায় সাক্ষ্য দিতে একজন অতিরিক্ত হাকিমের আদালতে হাজির হয়েছে। সে কোনো দিন হাল বাওয়া দেখা তো দূরের কথা, গ্রামেও যায়নি কখনো। অতিরিক্ত হাকিম সাহেব তাকে দেখেই বুঝতে পেরেছেন সে একটা টাউট—হালচাষ, হালের বলদ ইত্যাদি সম্বন্ধে কিছুই জানে না। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, বলেন তো, হাল বাইতে কয়টা গরু লাগে? সাক্ষী অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে বলল, হুজুর তিনটা। হাকিম সাহেব যথেষ্ট উষ্মা প্রকাশ করে বললেন, এটাও জানেন না, আর এসেছেন গরুচুরির মামলার সাক্ষ্য দিতে। হাল বাইতে গরু লাগে দুইটা, তিনটা না। স্টক উইটনেসের স্টকে সব কথারই জবাব রেডি করা থাকে। সে সঙ্গে সঙ্গে বলে বসল, জানি হুজুর। হাল বাইতে গরু দুইটাই লাগে। তয় একটা থাকে অতিরিক্ত। শুনে অতিরিক্ত হাকিম সাহেবের মুখ লাল হয়ে গেল। আর পাছে আদালত অবমাননা হয় সেই ভয়ে আদালত কক্ষে উপস্থিত উকিল-মোক্তার-কর্মচারী কেউই জোরে হাসতে পারলেন না, হাসলেন ঠোঁট চেপে, শীতকালে ঠোঁটফাটা মানুষের হাসির মত হাসি।

জনাব মেনন বরিশালের সভায় বলেছেন, ‘…আমি সাক্ষী দিচ্ছি…।’ এখন পাঠক বিবেচনা করুন, তাঁকে কি রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) বলবেন, না বৈরীসাক্ষী (হস্টাইল উইটনেস)। তবে, তওবা তওবা, নিশ্চয়ই তিনি স্টক উইটনেস নন। আল্লাহ মাফ করুন। তিনি যখন সেই ষাটের দশকের শুরুতে তাঁর বন্ধু হায়দার আকবর খান রনোসহ ছাত্র ইউনিয়নের একনিষ্ঠ ও অকুতোভয় সদস্য ছিলেন, এবং আমাদের বছর তিনেক পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হলেন, তখন থেকেই তাঁকে ও রনোকে আদর্শবাদী, সাহসী ও সমাজসচেতন ছাত্রনেতা হিসেবে চিনতাম। তাঁর অগ্রজ প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান ও এই অধম লেখকও তখন ছাত্র ইউনিয়ন করতাম। তখনো ছাত্র ইউনিয়ন মেননপন্থী-মতিয়াপন্থী হয়ে দুই টুকরো হয়ে যায়নি। এসব পন্থাপন্থী শুরু হয়েছে এনায়েত ভাই বা আমার আমলের পরে, ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে। সে যাই হোক, মেধাবী ছাত্র মেনন বা রনো সারা জীবন রাজনীতি ছাড়া আর কিছু করেছেন বলে জানি না। আর রাজনীতির অনেক রাজপথ-গলিপথে সুনামের সঙ্গে চলতে চলতে সর্বশেষ আওয়ামী ঘরানার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন, এটাও অস্বাভাবিক কিছু না। তবে হঠাৎ করে বরিশালের ওই সভায় তাঁর বিস্ফোরক বক্তব্য সবাইকে ধন্দে ফেলেছে। বিষয়টা কী? মেনন কি এবার মন্ত্রিত্ব না পেয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ যে শেষমেশ প্রকাশ্যে বোমা ফাটালেন? নাকি বিবেকের খোঁচা খেতে খেতে অবশেষে রক্তবমন?

৩.

তবে সবকিছু ছাপিয়ে যে প্রশ্নটি লোকের মুখে মুখে ফিরছে তা হলো, মেনন সাহেব আজ দশ মাস পরে কেন বলছেন ওটা ভোটারবিহীন নির্বাচন ছিল। তাঁর মত একজন বিবেকবান আদর্শবাদী প্রবীণ রাজনীতিবিদের তো তখনই তাঁর মতামতটা প্রকাশ করা উচিত ছিল। অবশ্য জনাব মেনন যদি বলেন তাঁকে অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে হয়েছে, অনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ-গবেষণা করে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হয়েছে, তা হলে তো হ্যাঁ, দশ মাস লাগতেই পারে। হাজার হোক, একজন মেধাবী ব্যক্তির গবেষণা বলে কথা! আবার এও হতে পারে, মানুষ যেভাবে শেষ বয়সে বিবেকের তাড়নায় গতজীবনের সব ভুলভ্রান্তির জন্য তওবা-তাহিদ করে দিলটাকে ড্রাইওয়াশ করে, তিনিও তেমনি একটা কিছু করেছেন। কোনটা ঠিক তা শুধু তিনিই জানেন।

তাঁর এই অতিশয় বিলম্বিত রিঅ্যাকশন টাইম দেখে আমাদের সিলেটের গ্রামাঞ্চলের একটা প্রবচন মনে পড়ে গেল। প্রবচনটি এই : ‘হাই মরলা হাইঞ্জা রাইত/ কান্দিয়া উঠলা পতা রাইত’। সোজা বাংলায় : স্বামী (হাই, সম্ভবত সাঁই শব্দের অপভ্রংশ) মরলেন সন্ধ্যারাতে, (হাইঞ্জা, শব্দটাও বোধ করি এসেছে সাঁঝ শব্দ থেকে), আর কেঁদে উঠলেন শেষ রাতে। (পতা শব্দটা কোথা থেকে এসেছে অনেক চেষ্টা করেও অনুমানটুকুও করতে পারছি না। তবে সিলেটে শব্দটি খুব চাউর, বিশেষ করে রমযান মাসে, যখন শেষ রাতে সেহরি খাওয়াকে বলা হয় ‘পতা খাওয়া’, অর্থাৎ শেষরাতের খাওয়া।) যা হোক, সারা সন্ধ্যারাত, দুপুর রাত একটুও কান্নাকাটি না করে, খুব স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে, খেয়েদেয়ে, গল্পগুজব করে কাটানোর পর শেষরাতে যদি কোনো মহিলা সন্ধ্যারাতে ইন্তেকাল ফরমানো স্বামীর জন্য হঠাৎ বিলাপ করতে করতে পাড়া মাথায় তুলে ফেলে, তা হলে নিশ্চয়ই ব্যাপারটা বিসদৃশ লাগবে। ঘটনা ঘটার দীর্ঘ দশ মাস পর মেনন সাহেবের উক্তিটি তাই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আবার অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন মেনন সাহেব খুব শক্ত মনের মানুষ। তাঁর বিবেক জাগ্রত হয় ঠিকই তবে একটু সময় নিয়ে। আফ্রিকার জঙ্গলের সেই দুর্ভেদ্যচর্মের প্রাণীটির মত আর কি। এক শিকারি হঠাৎ দেখে তার সামনে সেই প্রাণী। আশেপাশে কেউ নেই, শুধু গহীন জঙ্গল। শিকারি জানে প্রাণীটিকে গুলি করে লাভ নেই, গুলি ওর চামড়া ভেদ করতে পারবে না। সে প্রাণভিক্ষা চাইল প্রাণীটির কাছে। কী ভেবে প্রাণীটি বলল, ঠিক আছে। বহুদিন হাসি না। তুমি কিছু জোক শোনাও তো দেখি আমাকে, যাতে আমি প্রাণ খুলে হাসতে পারি। শিকারির ধড়ে প্রাণ ফিরে এল। সে খুব মজার মজার জোক শোনাতে লাগল প্রাণীটিকে। কিন্তু প্রায় দেড় ডজন জোক শোনানোর পরও প্রাণীটি হাসে না। শিকারি তখন চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেছে। নিশ্চয়ই এবার তার ভবলীলা সাঙ্গ হবে। প্রাণীটি বিরক্ত হয়ে বলল, ভাগ ব্যাটা, আর কোনোদিন আসবি না আমার রাজ্যে। একটাও হাসির জোক শোনাতে পারলি না, তুই একটা গাধা। শিকারি পড়ি কি মরি করে জান নিয়ে পালাল।

দিন দশেক পর রাস্তা ভুল করে এসে সেই শিকারি আবার সেই প্রাণীটির সামনে পড়ে গেল। এবার সে দেখে প্রাণীটি হা হা হো হো করে হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে। শিকারি থতমত খেয়ে বলল, ব্যাপার কী, স্যার? এত হাসছেন কেন জানতে পারি কি? প্রাণীটি বলল, আরে মিয়া, তুমি ওই দিন ভীষণ মজার মজার যে জোকগুলো শুনিয়েছিলে তার কারণেই হাসছি। ‘তা দশ দিন পরে হাসছেন কেন?’ জানতে চাইল শিকারি। ‘দশ দিন পর মাত্র আজ সকালে জোকগুলো আমার চামড়ার ভেতর ঢুকে দারুণ সুড়সুড়ি দিচ্ছে’, প্রাণীটি বলল। শিকারি অবাক হয়ে বলল, ‘তাই বলে দশ দিন?’ ‘আরে মিয়া আমি যে গ-গ-’, বলেই আবার সেই বনানী বিদীর্ণকারী অট্টহাসি।

আর আওয়ামী নেতারা বিস্ময় বস্ফািরিত নেত্রে মেনন সাহেবের দিকে তাকিয়ে বোধ হয় শুধু একটা ডায়লগই ছাড়ছেন : ‘দাও ঠু ব্রুটাস?…আমরা তো জানি, ইউ আর অ্যান অনারেবল ম্যান’।কালের কণ্ঠ

 

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..