• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

খুলনায় রিকশা সঙ্কটে যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৫৪ বার পঠিত

মো: মাসুদ রানা, খুলনা:

খুলনা মহানগরে চলছে রিকশা সঙ্কট। গত ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের পর নগরে পায়েচালিত কিছু সংখ্যক রিকশা চলছে। আর এ সুযোগ নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মাহেন্দ্র চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। যা নিয়ে নগরের মোড়ে মোড়ে ঘটছে ঝগড়া-হাতাহাতি। অথচ তা দেখার কেউ নেই।

কতোদিন এভাবে চলবে তা-ও কেউ জানে না। এ অবস্থায় চরম হতাশা আর অসহায়ত্বে দিশাহারা হয়ে পড়েছে নগরের সাধারণ মানুষ।
খুলনার ইকবাল নগর এলাকার বাসিন্দা নিয়ামুল বলেন, রিকশা সঙ্কট থাকায় খুলনায় যাত্রীরা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। বাড়তি ভাড়া দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে টেম্পু, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। আবার বাহনের অভাবে পায়ে হেঁটেও অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

এদিকে খুলনার সড়কে ফিরেছে শৃঙ্খলা। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের পর পরই খুলনা মহানগরীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরেছে।

শনিবার সরেজমিনে খুলনার সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, সড়কে নেই অতিরিক্ত রিকশার জটলা। নিয়ম মেনে পায়ে চালিত রিকশায় চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। রিকশা চালকরাও যাত্রী ওঠা-নামায় তাড়াহুড়ো করছেন না। চিরচেনা যানজট থেকে প্রায় মুক্ত পুরো খুলনা। নগরবাসী মনে করছে, বদলে যাওয়া এই দৃশ্যপটের মূল কারণ নগরী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত।

তবে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের আশায় এখনো অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক তাদের রিকশা থেকে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন অপসারণ করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সাধারণ চালকরা পায়ে চালিত রিকশার অভাবে রাস্তায় বের হতে পারছেন না।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, খুলনা নগরীর ৩৫০টি অবৈধ রিকশা চার্জিং পয়েন্টে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব পয়েন্টে এতদিন রিকশার ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়া হতো। এতে বিপুল অংকের টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

কেসিসির সূত্রে আরো জানা যায়, খুলনা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা আর চলতে দেওয়া হবে না। ব্যাটারি অপসারণের সময়ও আর বাড়ানো হবে না। তবে প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচলে কোনো বাধা নেই।

উল্লেখ্য, গত ২ বছর আগে হঠাৎ করেই খুলনা মহানগরীতে প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেই স্থান দখল করে ব্যাটারিচালিত রিকশা। এতদিন ধরে কোনো বাধা ছাড়াই এই ব্যাটারিচালিত রিকশা অবাধে নগরীতে চলাচল করেছে। এইসব ব্যাটারিচালিত রিকশা ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে প্রায় ঘটাতো ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া নগরীর ৩৫০টি অবৈধ রিকশার চার্জিং পয়েন্টে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার কারণে সরকারও মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে কেসিসি ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) নগরী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের তিন দফা সময় দিয়ে গত ১৫ অক্টোবর থেকে নগরীতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..