• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

স্বার্থান্বেষীদের হাতে রাজনীতি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৪৪ বার পঠিত
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

কঠোর শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হোক

রাজনীতির চেহারা-চরিত্র বদলে গেছে। আগের মতো ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ বা স্বার্থের কথা ভুলে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য কেউ রাজনীতি করতে আসে না। আসে নিজের স্বার্থে এবং সম্পদের পাহাড় গড়তে। এদের একটা বড় অংশই বসন্তের কোকিল। তাদের নিজেদের কোনো দল বা আদর্শ নেই, যখন যে দল ক্ষমতায় সে দলের ছত্রচ্ছায়ায় গিয়ে ভিড় জমায়। তার কিছু নমুনা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক ক্যাসিনো ও মাদকবিরোধী অভিযানে। প্রশ্ন উঠেছে, এমন রাজনীতি দেশকে কী দেবে বা দিতে পারবে? তাই প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশে শুরু হওয়া বর্তমান অভিযান অব্যাহত রাখা ও আরো জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে দেশের মানুষ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোতে বহিরাগতদের বাড়াবাড়িতে অতিষ্ঠ হয়ে অতীতে খোদ আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ‘কাউয়া’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কাউয়াদের কিছু হয়নি। বরং শোনা যায় যে কাউয়া বলার কারণে সেই নেতাদেরই অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গতকাল যুবলীগের বহিরাগতদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বাসই হতে চায় না যে স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন এটি। শুধু বহিরাগত নয়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত আদর্শের রাজনীতি থেকে আসা ব্যক্তিরাই এখানে শক্তিশালী এবং সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি এনামুল হক আরমান আফগানিস্তানে তালেবানি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং একসময় ফ্রিডম পার্টির নেতা ও পরে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি ছিলেন। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং রাজাকার এনামুল হক চানুর ছেলে অ্যাডভোকেট কায়সার আহমদ বর্তমানে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লায় ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি ও বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দীন এখন যুবলীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, ছাত্রলীগ নেতা মনিরুজ্জামান বাদল হত্যা মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন এখন যুবলীগের সহসম্পাদক। শিবির থেকে ছাত্রদল হয়ে ছাত্রলীগে এসে বহিষ্কৃত হওয়া শফিকুল ইসলাম ওরফে টেন্ডার শফিক এখন যুবলীগের আইসিটি সম্পাদক। যুবলীগ চেয়ারম্যানের ডানহাত বলে পরিচিত আনিসুর রহমানের পরিবার বরাবরই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। খালেদ ভূঁইয়া একসময় ফ্রিডম পার্টি করতেন বলেও জানা যায়। এ রকম উদাহরণ আরো অনেক আছে। এদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব কি?

আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের এই বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েই দলকে শুদ্ধ করার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বোপরি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দুর্নীতি ও লুটতরাজ বন্ধ করতেই হবে। আমরা চাই, অভিযান চলমান থাকুক এবং আরো জোরদার করা হোক।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..