• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

তাকে হারানোর এক বছর

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২
  • ১২৪

পর্দায় তারকার অভিনয় দেখে তাদের প্রতি ভক্তের ভালোবাসা তৈরি হয়। আর সেই ভালোবাসা থেকেই একরকমের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা জন্মে। সেই জায়গাটা তৈরি করেছেন কিংবদন্তি তারকারা। তেমনই একজন সারাহ বেগম কবরী, সবার হৃদয়ে জায়গা করে আছেন এ অভিনেত্রী। তাকে হারানোর এক বছর আজ।

তার আসল নাম মিনা পাল, কিন্তু সবাই চেনে তাকে কবরী নামেই। ঢাকাই সিনেমায় ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামে খ্যাত এই অভিনেত্রী ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আগমন, আর ১৪ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ। তারপর তো একে একে সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। অভিনয় দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন চলচ্চিত্রাঙ্গন, পেয়েছেন মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান কবরী। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন কবরী। শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ চলচ্চিত্র পায় বেশ জনপ্রিয়তা।

নায়ক ফারুকের সঙ্গে তার ‘সারেং বউ’ ও ‘সুজন সখী’ সিনেমা দুটি কালজয়ী হয়ে আছে। ‘সুজন সখী’ সিনেমাটি ব্যবসায়িক দিক থেকে ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক। এ ছাড়া কবরী পার্বতী চরিত্রে দর্শক মাতিয়েছেন বুলবুল আহমেদের সঙ্গে ‘দেবদাস’ সিনেমায়। তিনি নায়িকা হয়েছেন সোহেল রানা, উজ্জ্বল, আলমগীর, জাফর ইকবালের বিপরীতেও। অভিনয়ের পাশাপাশি ছিলেন একজন পরিচালক ও প্রযোজক। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কবরী। সর্বশেষ শুরু করেছিলেন সরকারি অনুদানের একটি সিনেমার নির্মাণকাজ। কিন্তু শেষ করে যেতে পারলেন না।

কবরীকে ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ সরকার। ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এ ছাড়া ৫ বার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। কবরী যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যুক্ত হয়েছেন অসংখ্য নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশ হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’। এই প্রিয় মানুষটি সবাইকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন ২০২১ সালের ১৬ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে। তবে এই কিংবদন্তি মানস হৃদয়ে থাকবেন আজীবন।

ডেস্ক রিপোর্ট: সূত্র- সময় টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..