• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৯:৪১ অপরাহ্ন

সংকটে পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০২২
  • ৯৯

টানা ১৯ দিন ধরে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। বন্ধ দাপ্তরিক কার্যক্রম। ৬ মার্চ উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর ৯ দিন আগেই দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে চুপিসারে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি। সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদও শূন্য। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নিশ্চুপ আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকশূন্যতায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তারাও ঠিকমতো ক্যাম্পাসে আসছেন না। বিভাগগুলোতে দু-একটি ক্লাস হলেও বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা কার্যক্রম। এতে দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলছেই। তিনি নীরবে অন্য একটি কক্ষে বসে আছেন। প্রশাসনিক ভবনের অধিকাংশ কার্যালয় বন্ধ। কর্মকর্তাদের অনেকেই কার্যালয়ে নেই। বিভাগগুলোতে গিয়েও একই দৃশ্যের দেখা মেলে। শিক্ষার্থীরা হইহুল্লোড় করছেন। শিক্ষকদের বেশির ভাগকেই কর্মস্থলে দেখা যায়নি।

কয়েক শিক্ষার্থী বলেন, উপাচার্য এম রোস্তম আলী গত চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। নিজে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়ে ভাতিজা-ভাগনেদের চাকরি দিয়ে নিজ স্বার্থ উদ্ধার করে চুপিসারে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। মেয়াদ শেষের আগে সহ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ ঊর্ধ্বতন পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেননি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা ঝুলিয়ে রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকশূন্য হয়ে আছে। এ সুযোগেই যে যার মতো চলছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত। সবাই যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। শিক্ষার্থীদের দিকে কারও নজর নেই। নামমাত্র ক্লাস চললেও পরীক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ আছে। উপাচার্যের অদক্ষতার কারণে এমনিতেই দুই বছরের বেশি সেশনজট তৈরি হয়ে আছে। এভাবে চলতে থাকলে আরও দীর্ঘমেয়াদি জট তৈরি হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সমিরন কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সেশনজটের আশঙ্কা থাকেই। এ অবস্থায় দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম বলেন, রোস্তম সাহেব ছিলেন একজন পুরোদস্তুর অদক্ষ উপাচার্য। তিনি একাডেমিক, প্রশাসনিকসহ সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি করে পালিয়ে গেছেন। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় এখন মহাসংকটে পড়েছে। সংকট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে হলে এখনই প্রশাসনিক ও একাডেমিক দক্ষতা সম্পন্ন উপাচার্য প্রয়োজন।

একদিকে টানা ১৯ দিন ধরে রেজিস্ট্রারের কার্যালয় বন্ধ, অন্যদিকে উপাচার্য না থাকায় একাডেমিক সমস্যা তৈরির পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তালা খোলা না হলে এবং নতুন উপাচার্য না নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানতে চাইলে কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যত সমস্যাই হোক, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তালা খোলা হবে না। আমরা নতুন উপাচার্যের অপেক্ষায় আছি। তিনি এলে আলোচনা সাপেক্ষে তালা খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) বিজন কুমার ব্রহ্ম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার মতো কেউ নেই। সবকিছুতেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ না হলে সমস্যা আরও বাড়বে। আমরা নতুন উপাচার্যের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছি।’

গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য এম রোস্তম আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৬০তম সভা ডাকেন। সভার ৬১ আলোচ্যসূচির মধ্যে ৪২টিই ছিল নিয়োগসংক্রান্ত। সভায় ১০২ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতায় সভা স্থগিত করেন তিনি। সেই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। রিজেন্ট বোর্ড না করায় ক্ষিপ্ত হন পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা। নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য। প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পাবনা-১ আসনের সাংসদ ও রিজেন্ট বোর্ড সদস্য শামসুল হকের মধ্যস্থতায় উপাচার্য মুক্ত হন।

২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের সভা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি। এর ১৩ দিন পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর দুদিন পর নীরবে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য। এতে আবারও ক্ষুব্ধ হন পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তারা। তাঁরা ১৭ দফা দাবি তুলে ২৬ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে বিভাগগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল ও নতুন পরীক্ষা কার্যক্রম আটকে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা গত ৭ মার্চ প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট: সূত্র- প্রথম আলো

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..