• বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

রূপপুরে বড় অগ্রগতির সূচনা হচ্ছে আজ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৬

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় ধরনের অগ্রগতির সূচনা হচ্ছে রূপপুরে। আজ রোববার স্থাপন করা হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে পরিচিত রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র। এটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। এর মধ্যেই শক্তি উৎপাদন হবে, যা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হবে বিদ্যুৎ। আজ ঢাকা থেকে ভার্চ্যুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের দুজন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়ে  বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার ক্ষেত্রে এ চুল্লি স্থাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হয়। রাশিয়া থেকে এ চুল্লি দেশে আসে গত বছরের অক্টোবরে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার (আইইএ) মান অনুসরণ করে এ চুল্লিপাত্র স্থাপন করা হচ্ছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চায় রূপপুর কর্তৃপক্ষ। আর ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

রূপপুরের কর্মকর্তারা বলছেন, রূপপুরে ইউনিট–১–এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে চুল্লিপাত্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে এ ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ বলা যায়। এ যন্ত্রের মধ্যেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোড করা হয়। বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলের পাশাপাশি রাশিয়ার জাতীয় টেলিভিশন আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে। সারা বিশ্ব এটি দেখবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন ও অর্থ) অলক চক্রবর্তী বলেন, চাইলেই চুল্লি স্থাপন করা যায় না। এর জন্য আইইএ, রাশিয়া ও বাংলাদেশের নিমন্ত্রণকারী সংস্থা এক মাস ধরে সবকিছু যাচাই করেছে। নিরাপদভাবে প্রাথমিক কাজ শেষে সফলভাবে চুল্লি স্থাপিত হতে যাচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধানতম মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে রূপপুর। পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পথে বড় অগ্রগতি এটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাশিয়া থেকে রূপপুরে এসেছেন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ ও এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লোশকিন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যে রূপপুরে পৌঁছেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর। আগামীকাল সোমবার রাজধানী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

রূপপুর কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। এগুলো সময়মতো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো হচ্ছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব যন্ত্রপাতি দেশে চলে আসবে। দেশেও প্রতিটি কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। দিনে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার লোক কাজ করার কথা থাকলেও রূপপুরে ২৫ থেকে ২৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন প্রতিদিন।

রূপপুরে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। তাঁদের অধিকাংশই রাশিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভারতেরও কিছু দক্ষ প্রকৌশলী আছেন রূপপুর প্রকল্পে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের ১ হাজার ৪২৪ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তাদের রাশিয়া পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..