• সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

নেশায় বেসামাল হয়ে বন্ধুকে হত্যার পর লাশ গুম

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৫

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় একটি ডোবা থেকে মঙ্গলবার হুমায়ুন কবির নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তাঁর বন্ধু হারুন অর রশিদ।

মাদকাসক্ত দুই বন্ধু অতিমাত্রায় নেশা করার পর বেসামাল হয়ে পড়েন। মাতলামির একপর্যায়ে বন্ধু হুমায়ুন কবিরকে লাথি মেরে হত্যা করেন হারুন অর রশিদ। এরপর লাশ গুম করে অপহরণের নাটক সাজান। বন্ধুর মুঠোফোন থেকেই পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তিনি।

বন্ধু হত্যার অভিযোগে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বুধবার বগুড়ার একটি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন হারুন অর রশিদ।

নিহত হুমায়ুন কবির বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ইসলামপুর খাঁ পাড়ার বাসিন্দা। অপর দিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হারুন অর রশিদও ইসলামপুর খাঁ পাড়ার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে হুমায়ুনের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে মুঠোফোনে মুক্তিপণ চেয়ে ফোনকলের সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতে হারুন অর রশিদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের তথ্য  নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হারুন অর রশিদ তাঁর বন্ধুকে হত্যার যে তথ্য পুলিশকে দিয়েছেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও হুবহু তা স্বীকার করেছেন।

বুধবার বিকেলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত-৪) আদালতের বিচারক মমিন হাসানের কাছে হারুন অর রশিদ এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত শনিবার রাতে মাদক সেবন করার পর বেসামাল হয়ে মাতলামি করতে গিয়ে লাথি দিয়ে বন্ধু হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করেছেন তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হারুন অর রশিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হত্যাকাণ্ডের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে হারুনের বরাত দিয়ে সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, হুমায়ুন কবির ও হারুন অর রশিদ শনিবার বিকেলে মাদক কিনে ওই দিন রাত ১০টার দিকে হারুনের ফাঁকা বাড়িতে যান। এরপর অতিমাত্রায় মাদক সেবন করে বেসামাল হয়ে তাঁরা মাতলামি শুরু করেন। একপর্যায়ে পিঠে লাথি মেরে হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করেন হারুন।

হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে অপহরণের নাটক সাজান হুমায়ুন কবির। বস্তাবন্দী লাশ ইট বেঁধে ডোবায় গুম করে রাখেন। হুমায়ুনের মুঠোফোন থেকেই কল করে পরিবারের কাছে একাধিকবার মুক্তিপণ দাবি করেন হারুন অর রশিদ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হারুন অর রশিদকে মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়। এরপর হুমায়ুন কবিরের বাবা আবদুল ওয়াহাব দুপচাঁচিয়া থানায় হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর হেডকোয়ার্টার) হেলেনা আকতার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফয়সাল মাহমুদ, সহকারী পুলিশ সুপার (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেল) নাজরান রউফ ও দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান আলী উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..