• সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:১১ অপরাহ্ন

আইএস-কের রকেট হামলায় কেঁপে উঠল কাবুল

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৮

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পর তালেবানরা সরকার গঠন এবং নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শপথ গ্রহণ নিয়ে যখন বেসামাল অবস্থায় রয়েছে, তখন সাংহাই সম্মেলন থেকে রাশিয়া, চীন, ইরান এবং পাকিস্তান এক সুরে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আফগানিস্তানে সবাইকে নিয়েই অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে হবে। এদিকে এরকম সময় রাতে হঠাৎ রাজধানী কাবুল কেঁপে উঠেছে রকেট হামলায়। অভিযোগ, আইএসকে (ইসলামিক স্টেট-খোরাসান) একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ হামলা চালিয়েছে। এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আলজাজিরা, পার্স টুডে, রয়টার্স, স্পুতনিক।

খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাবুলের খইর খানেহ এলাকায় রকেট হামলা হয়। সেই রকেট ছামতালা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু বিস্ফোরণের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কী উদ্দেশ্যে এই হামলা, তাও স্পষ্ট নয়। যদিও কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আইএসকে (ইসলামিক স্টেট-খোরাসান) এ হামলার পেছনে রয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এর তিন সপ্তাহ আগে কাবুল বিমানবন্দরে এই গোষ্ঠীর হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাজিকিস্তানের রাজধানীর দুশানবেতে অনুষ্ঠানরত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন সম্পর্কে খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের জন্য তালেবানের প্রতি আহ্‌বান জানিয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়া। দেশগুলো বলেছে, আফগানিস্তানে এমন সরকার গঠন হতে হবে, যেখানে সবার অংশগ্রহণ থাকতে হবে। থাকতে হবে সব নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশী আলাদা এক বৈঠকে বসেন। সেখান থেকে তারা সম্মিলিতভাবে এ আহ্‌বান জানান। বৈঠকে চার মন্ত্রী সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত আফগানিস্তান গঠনের ওপর জোর দেন। তারা উল্লেখ করেন, আফগানিস্তানে এমন একটা অবস্থা গড়তে হবে যাতে এই দেশটি প্রতিবেশীদের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি না করে।

নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না নারীদের : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থিত দেশটির নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভবনে নারী কর্মীদের ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবানরা। ভবনটিতে শুধু পুরুষদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মী জানান, কাবুলের নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চার নারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে বিক্ষোভ করেন।
খবরে বলা হয়, নারীদের অধিকার নিয়ে তালেবান নানা কথা বললেও এর প্রতিফলন তেমন ঘটছে না। চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তালেবান। সেখানে রাখা হয়নি কোনো নারী সদস্যকে। যদিও প্রথম থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল তালেবানরা। আরও ঘটনার মধ্যে রয়েছে, তালেবানের অধীন নারীদের পড়ালেখা ও খেলাধুলার ওপর খড়গ নেমে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর জারি করা হয়েছে নানা বিধিনিষেধ। নারীদের খেলাধুলাও বন্ধ করে দিয়েছে তালেবানরা। নারীদের সাংস্কৃতিক বা সংগীত করাও বন্ধ করেছে তারা। এ অবস্থায় বিখ্যাত নারী শিল্পীরা দেশত্যাগ করে চলেছেন।

অভাবে বাড়ির ফ্রিজ-টিভি বিক্রি করে দিচ্ছেন আফগানরা : অনেকটাই দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে। এ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করে অর্থ জোগানোর চেষ্টা করছেন বহু মানুষ। তারা নামমাত্র দামে বিক্রি করছেন বাড়ির রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন সেট, আসবাব, কার্পেট এমনকি বাসনপত্রও। কাবুলে খাবারের জোগাড় করতে গিয়ে আফগান নাগরিকদের একাংশ এভাবেই নানা জিনিস বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

কাবুলের চমন-ই-হাজোরি পার্ক এবং তার সামনের রাস্তায় এখন এ রকম রকমারি দ্রব্যের পসরা বসছে। স্থানীয় বাসিন্দা লাল মুহাম্মদ জানান, কয়েক মাস আগে ২৫ হাজার আফগানিতে (আফগান মুদ্রা) কেনা রেফ্রিজারেটর এখানে তিনি বিক্রি করেছেন মাত্র ৫ হাজারে। একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী ছিলেন তিনি। তালেবান শাসনের ফলে চাকরি গেছে তার। তিনি বলেন, ‘ছোট ছেলেটার জন্য খাবারের জোগাড় করাও এখন দায়। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ির নানা জিনিসপত্র বিক্রি করতে হচ্ছে।’

দেখা গেছে, তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে অনেক বাণিজ্যিক সংস্থাই বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশি সংস্থার পাশাপাশি সেই তালিকায় রয়েছে অনেক আফগান প্রতিষ্ঠানও। সেই সংস্থায় কর্মরতরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে। বন্ধ হওয়া ওই সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়িতরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা খাবারের জোগাড় করতে বিক্রি করছেন বাড়ির নানা দ্রব্য। সংকটে রয়েছেন সরকারি কর্মীরাও। তালেবান আমলে মাইনে পাচ্ছেন না তারা। আফগান পুলিশের কর্মী মুহাম্মদ আগাকেও তাই গত কয়েক সপ্তাহে বাড়ির নানা জিনিস বিক্রি করতে চমন-ই-হাজোরি পার্কে যেতে হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..