• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪২ অপরাহ্ন

আফগানিস্তানে কূটনৈতিক উপস্থিতি থাকছে না যুক্তরাষ্ট্রের

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৭

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

আফগানিস্তান থেকে সেনাপ্রত্যাহারের পর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কূটনৈতিক উপস্থিতিও থাকছে না। উপসাগরীয় দেশ কাতার থেকে সেই মিশন পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক অ্যান্থনি ব্লিংকিন।

মার্কিন শেষ বিমানটি কাবুল বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেওয়ার পর তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। সোমবার (৩০ আগস্ট) তিনি বলেন, দেশটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আফগানিস্তানের দুদশকের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বাহিনীকে সহায়তা করা হাজার হাজার আফগান নাগরিককে ঝুঁকির মধ্যে ফেরে রেখে যাওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যান্থনি ব্লিংকিন বলেন, আফগানিস্তানে কনস্যুলার ও মানবিক সহায়তা বিতরণের কাজ কাতারের রাজধানী দোহা থেকে পরিচালনা করা হবে। দোহা থেকে আফগান কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করবেন আফগানিস্তানে মার্কিন মিশনের উপপ্রধান ইয়ান ম্যাক্যারি।

ব্লিংকিন বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। এখন আমরা কাতার থেকে আফগান কূটনীতির নেতৃত্ব দেব। আমেরিকান, বিদেশি নাগরিক, আফগানদের মধ্যে যারা আফগানিস্তান ছাড়তে চায়—তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানে এখনো শতাধিক আমেরিকান রয়েছে—যারা দেশে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। দেশটি থেকে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার আমেরিকানকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারে কাবুলজুড়ে বন্দুকের গুলি ছুড়ে উদযাপন করেছে তালেবান যোদ্ধারা। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) ভোর হওয়ার আগেই কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ পায় তালেবান। এক জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা বলেন, আমরা ইতিহাস নির্মাণ করেছি।

দুদশকের লড়াই শেষে সোমবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা আনাস হাক্কানি বলেন, আমরা খুবই খুশি যে ২০ বছরের জিহাদ, আত্মত্যাগ ও কষ্টের পর এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার সৌভাগ্য হয়েছে।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অস্পষ্ট ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যরাতের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামরিক পরিবহন বিমানটি উড়ে যাওয়ার পর তালেবান যোদ্ধারা বিমানবন্দরে ঢুকছেন। তালেবান মুখপাত্র কারি ইউসুফ বলেন, সর্বশেষ সেনা কাবুল ছেড়ে গেছেন। আমাদের দেশ পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি কাবুল বিমানবন্দরের হুমকিকে বাস্তবিক ও সুনির্দিষ্ট বলে আখ্যায়িত করলেও তালেবানের বিশ্বাস, বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহারে হামলা বন্ধ করে দেবে আইএস।

তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ বলেন, যদি তারা কোনো যুদ্ধাবস্থা তৈরির চেষ্টা করে তবে তাদের মোকাবিলা করা হবে। তার মতে, যেসব আফগান আইএসের মাধ্যমে উৎসাহিত হয়েছে, বিদেশিদের অনুপস্থিতিতে একটি ইসলামিক সরকার গঠন দেখে তারা নিজেদের অভিযান প্রত্যাহার করে নেবেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগন বলেছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলার পর গত দুদশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন সেনার উপস্থিতি নেই আফগানিস্তানে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধের সমাপ্তি ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগঘন পরিবেশকে ‘হৃদয় বিদারক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন মেরিন জেনারেল ফ্রাংক ম্যাকাঞ্জি। এর আগে আমেরিকান নাগরিক ও ঝুঁকিপূর্ণ আফগানদের সরাতে অক্লান্ত ও বিপজ্জনক পরিশ্রম করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..