• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

বরফ গলার ‘বিস্ময়কর’ তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৪

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

ক্রিওস্ফিয়ার সারাবিশ্বের জলবায়ুর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তরের মতো ভূ-পৃষ্ঠের বরফে আচ্ছাদিত একটি স্তর ক্রিওস্ফিয়ার। ক্রিওস্ফিয়ার ভূ-পৃষ্ঠের সেই স্তরকে বলা হয়, যেখানে পানি ফ্রিজিং অবস্থায় থাকে। কোথাও গ্লেসিয়ার, কোথাও বরফের নদী, লেক, কোথাও বরফের সমুদ্র থাকে। কোথাও বা বরফে ঘেরা থাকে পুরো একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলগুলোকেই ক্রিওস্ফিয়ার বলে।

জলবায়ু পরিবর্তনে পৃথিবীর এই ক্রিওস্ফিয়ার এখন হুমকির মুখে। চীনের লানঝু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, ১৯৭৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ক্রিওস্ফিয়ার ৮৭ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার করে কমেছে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে।

লানঝু বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবী, পরিবেশ আর বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করা প্রভাষক জানান, সারাবিশ্বের ক্রিওস্ফিয়ার নিয়ে এই গবেষণা করা হয়েছে। বিশ্বের ক্রিওস্ফিয়ার বা বরফে ঢাকা অঞ্চলগুলো বিশুদ্ধ পানির তিনভাগই মজুদ করে রেখেছে। পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই অঞ্চলের ভূমিকার কোন তুলনা হয় না। এটা এখন আর অঞ্চলভিত্তিক কোন ইস্যু নেই, বিশ্বের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর ক্রিওস্ফিয়ারের একটি বড় অংশ অ্যান্টার্কটিকা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকির মুখে এ মহাদেশ।

সমুদ্রের উপরিভাগের বরফ গলে বিশ্ব উষ্ণায়ন আরও বাড়ছে। কারণ সূর্যের প্রখর তাপ আর ক্ষতিকর রশ্মি সমুদ্রপৃষ্ঠের বরফ প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে মহাকাশে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সমুদ্রের অন্ধকার অংশের বরফের স্তর সূর্যালোক শুষে নেয়, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এখন পৃথিবীর বরফ দ্রুত হারে গলছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। এ কারণে বরফ গলার হারও বেড়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশক থেকে বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বরফ, বরফখণ্ড ও হিমবাহের মধ্যে প্রায় ২৮ ট্রিলিয়ন মেট্রিক টন গলে গেছে। তিন দশক আগে যে হারে বরফ গলত, বর্তমানে সেই হার ৫৭ শতাংশ। এ–সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে বিজ্ঞানীদের এক নতুন গবেষণায়। তারা বলছেন, মাত্র গত ৩০ বছরে যে হারে বরফ গলছে, তা বিস্ময়কর।

গবেষকরা বলছেন, অ্যান্টার্কটিকা, আর্কটিক, গ্রিনল্যান্ড ও পর্বতে থাকা হিমবাহগুলো তিন দশক ধরে বিশ্বের সমুদ্রগুলোয় যথেষ্ট পরিমাণে পানি যোগ করেছে। ফলে বিশ্বের সমুদ্রপ্রষ্ঠের গড় উচ্চতা বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন সেন্টিমিটার। পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয়টি বরফ গলে যাওয়ার মোট বার্ষিক হিসেবের প্রায় ২২ শতাংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..