• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪১ অপরাহ্ন

নতুন অ্যাকর্ডে ‘খুশি’ নয় বিজিএমইএ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১
  • ২৭

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

নানা রকম কৌশল, আইনি লড়াই ও উদ্যোগের পর কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কর্মরত ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডকে বিদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের চাপে নতুন রূপে এবং আগের চেয়ে বড় পরিসরে আসছে অ্যাকর্ড। ইতিমধ্যে চুক্তিও হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে পুরো বিষয়টিতে খুশি হতে পারেনি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

নতুন অ্যাকর্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার চার দিন পর গতকাল রোববার বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অ্যাকর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা এই শিল্পের অংশীজনদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। কারণ, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অ্যাকর্ড চুক্তিটি স্বাধীন জাতীয় ত্রিপক্ষীয় আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি) দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে-এই ঘোষণা বিভ্রান্তিকর।

আরএসসি বোর্ড শুধু তার অংশীজনদের কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য। একটি বা দুটি গ্রুপ কোনোভাবেই আরএসসির কার্যক্রম প্রভাবিত করতে পারে না। আরএসসি তার সার্বিক কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
ফারুক হাসান, সভাপতি, বিজিএমইএ

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। সাত বছরের নানা টানাপোড়েন শেষে গত বছর দেশীয় ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ আরএসসির কাছে কার্যক্রম হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ছাড়ে অ্যাকর্ড। তার পর থেকেই নেদারল্যান্ডসে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালানো অ্যাকর্ডের চুক্তির মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হওয়ার কথা। অবশ্য সেটি হচ্ছে না। নতুন নামে ফিরছে অ্যাকর্ড। নাম হচ্ছে দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকর্ড ফর হেলথ অ্যান্ড সেফটি ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি বা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকর্ড। বর্তমান অ্যাকর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অনেক ব্র্যান্ডই নতুন চুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

বিজিএমইএর সভাপতি বিবৃতিতে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের তত্ত্বাবধান ও অনুমোদনক্রমে সরকারের অনুমতি নিয়ে একটি স্বাধীন, অলাভজনক সংস্থা হিসেবে অ্যাকর্ডের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরএসসি গঠিত হয়। গত বছরের ৩১ মে বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের কার্যক্রম শেষ হয়। তারপর ১ জুন থেকে পোশাক কারখানার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব নেয় আরএসসি। পোশাক খাতের সব অংশীদারের সমান প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আরএসসি গঠিত হয়, যা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম। আগের অ্যাকর্ডের প্রটোকলগুলো আরএসসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফারুক হাসান বলেন, আরএসসি বোর্ড শুধু তার অংশীজনদের কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য। একটি বা দুটি গ্রুপ কোনোভাবেই আরএসসির কার্যক্রম প্রভাবিত করতে পারে না। আরএসসি তার সার্বিক কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী আইএলও এবং ইইউ আরএসসি গঠনের শুরু থেকেই অনুমোদন দিয়েছে।

অ্যাকর্ডের পরিদর্শন ও সংস্কার কার্যক্রমের অধীনে ছিল ১ হাজার ৬২৯টি কারখানা। গত বছর অ্যাকর্ড যখন বাংলাদেশ ছাড়ে, তখন কারখানাগুলোর অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত ত্রুটির ৯২ শতাংশ সংশোধন কাজ শেষ হয়। আর ২৭৯টি কারখানা প্রাথমিক পরিদর্শনে পাওয়া সব ত্রুটি সংশোধন করেছিল।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে আরএসসি ছাড়া অন্য কোনো সংস্থার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত কাজ করার অনুমোদন নেই। আগের স্টিচিং বাংলাদেশ অ্যাকর্ড ফাউন্ডেশন এবং প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকর্ড ফর হেলথ অ্যান্ড সেফটি ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি ফাউন্ডেশন-এই দুটি সংস্থার সঙ্গে আরএসসির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংস্থা দুটি বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশে কোনো কাজ করতে পারবে না।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের বাইরে স্বাক্ষরিত কোনো চুক্তিতে যদি এমন কোনো ধারা বা উপধারা থাকে, যা দেশীয় আইনের সঙ্গে সংগতি পূর্ণ নয়, তবে বাংলাদেশে সেগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের সুযোগ থাকবে না। তা ছাড়া আরএসসি তার অর্পিত দায়িত্বের বাইরে কোনোজ করবে না।

অ্যাকর্ডের পরিদর্শন ও সংস্কার কার্যক্রমের অধীনে ছিল ১ হাজার ৬২৯টি কারখানা। গত বছর অ্যাকর্ড যখন বাংলাদেশ ছাড়ে, তখন কারখানাগুলোর অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত ত্রুটির ৯২ শতাংশ সংশোধন কাজ শেষ হয়। আর ২৭৯টি কারখানা প্রাথমিক পরিদর্শনে পাওয়া সব ত্রুটি সংশোধন করেছিল। আরএসসি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কারখানাগুলোর ত্রুটি সংশোধন ১ শতাংশ বেড়েছে। আর সব ত্রুটি সংশোধন সম্পন্ন করা কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬১। তবে ১ হাজার ২৪২টি কারখানায় মানসম্মত অগ্নি শনাক্তকরণ ও ফায়ার অ্যালার্ম যন্ত্র বসানো হয়নি। ৩৭৭টি কারখানার কাঠামোগত সংস্কারকাজ বাকি রয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল কাউন্সিলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত বুধবার জানানো হয়, নতুন অ্যাকর্ড কেবল কারখানা ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা নয়, কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ও তদারকি করবে। তা ছাড়া প্রথম দুই বছরে অন্তত একটি দেশে কার্যক্রম চালু করবে অ্যাকর্ড। সে জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

তা ছাড়া বাংলাদেশে আরএসসির কাজ তদারকি করবে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকর্ড।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..