• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

বিএনপির সব কমিটিতেই থাকছে ১৫ শতাংশ নারী

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
  • ২৪

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সব কমিটিতেই ১৫ শতাংশ নারী রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সামনের সব কমিটিতেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে দলটি। ২০৩০ সালের মধ্যে দলের সব নেতৃত্বে ৩৩ শতাংশ নারীকে জায়গা করে দেওয়া হবে। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি দলের ৮১টি সাংগঠনিক জেলায় চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি জেলা কমিটির নেতাদের ১৫ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠাতে নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে বিএনপির আগামী দিনের সব কমিটিতেই অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের প্রাধান্য থাকবে বলেও সূত্র জানায়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও)-এর ৯০বি ধারায় রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয়সহ সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষণ ও এসব পদ পূরণের সময়সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত দেওয়া আছে। ইতিমধ্যে ওই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। বিএনপিসহ কেউই নির্দিষ্ট সময়ে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এ লক্ষ্য অর্জন নিবন্ধন পাওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল। যদিও গত জুনে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হালনাগাদ তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। বিএনপি সে চিঠির জবাবও দিয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর নির্বাচন কমিশন ২০৩০ সালের মধ্যে এ শর্ত পূরণের সময়সীমা বেঁধে দেয়।

জানা যায়, গত ২১ আগস্ট জেলা ও মহানগর নেতাদের কাছে চিঠি পাঠায় বিএনপি। চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে সমসংখ্যক নারী সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবীর খোকন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতন ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ। নেতারা জানান, তারা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ নিয়ে সবাই ব্যস্ত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরই তারা কেন্দ্রের নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করবেন। বিএনপির জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা এও বলেছেন, শুধু জেলা কমিটিই নয়, থানা পর্যায়ের কমিটিতেও তাদের ১৫ শতাংশ নারী সদস্য রাখতে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠি দলের ৮১টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক/আহ্বায়ক, সদস্য সচিব/১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের গঠনতন্ত্রের বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলের জেলা ও মহানগর কমিটিতে আরও ১৫ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিএনপির জেলা ও মহানগর নির্বাহী কমিটি/আহ্বায়ক কমিটির সভা করে কমিটির বর্তমান সংখ্যার ১৫ শতাংশ নারী সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।’ চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করা নারী সদস্যদের দলের প্রতি আনুগত্য, সম্পৃক্ততা, সক্রিয়তা, বয়স, যোগ্যতা, দল ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে। আশা করি, স্থায়ী কমিটির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’

জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ৭০২ সদস্যের। এর মধ্যে নারী ৭১ জন, ১১.০৯ শতাংশ। স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়া একমাত্র নারী সেলিমা রহমান। ৮২ জনের উপদেষ্টামন্ডলীতে ছয় নারী রয়েছেন। সাংগঠনিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সম্পাদকমন্ডলী, সহসম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সংখ্যা ২০৯। এ পদগুলোতে নারী ২০ জন। নির্বাহী কমিটির সদস্য ২৯৪ হলেও নারী রয়েছেন মাত্র ৪৩ জন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, বিএনপিই সব সময় নারীর অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন শুরু হয়। এটা শক্তিশালী হয়েছে গণতন্ত্রের নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই। আমাদের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী যুক্ত করার সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটিতে আগেই নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে যেসব কমিটি হয়েছে সব কমিটিতেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নেত্রী রয়েছেন। নতুন করে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃত্বে আরও ১৫ শতাংশ রাখার জন্য আমরা দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি নারীবান্ধব দল হলো বিএনপি। এখন আমাদের দলে অনেক নারী সদস্য রয়েছেন। জেলা ও মহানগরে এর সংখ্যা আরও ১৫ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন দলে কাজ করছেন তাদের মূল্যায়ন করা, তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা এর মূল লক্ষ্য। নারী নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নিতে চাই আমরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..