• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

চার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
  • ২৪

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

করোনায় দীর্ঘ বিরতির পর চার পরিকল্পনা নিয়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। এ পরিকল্পনার অন্যতম হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪০ জেলার সম্মেলন শেষ করা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচন, উপজেলা-পৌর এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করা। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে দলীয় জরিপ সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১৪ দলীয় জোটের বাইরে থাকা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের একাধিক নীতি-নির্ধারণী ফোরামের নেতারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ  বলেন, করোনার কারণে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমিত রেখে মানবিক কর্মসূচি বাড়িয়েছিলাম। সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। করোনার প্রকোপ কিছু কমে আসায় আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করব। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সম্মেলন শেষ করার টার্গেট রয়েছে। দলের নীতি-নির্ধারকরা জানান, করোনা মহামারী ও শোকাবহ মাস আগস্টের কারণে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মসূচি স্থগিত ছিল। এবার পুরোদমে মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতারা। ডিসেম্বরের মধ্যে চার হাজারের অধিক ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) ও মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার নির্বাচন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে স্থগিত থাকা সিলেট-৩ আসনে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে কুমিল্লা-৭ আসনে উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও এ নিয়ে নেতা-কর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন।

অন্যদিকে জেলা-উপজেলায় মেয়র-মন্ত্রী, এমপি-নেতা এবং নেতা-নেতার দ্বন্দ্বে দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এ কোন্দল নিরসন করার টার্গেট ক্ষমতাসীনদের। দলীয় সূত্রমতে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪০ জেলার সম্মেলন শেষ করার টার্গেট রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। এ জন্য অনেক আগে থেকেই টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিম সেপ্টেম্বর থেকে জেলা-উপজেলায় সফর শুরু করবে। এ সময় দলীয় দ্বন্দ্ব  নিরসন, সম্মেলন হওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নির্ধারণ করতে মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন দলটির বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ঢাকা বিভাগের মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা এবং ওয়ার্ড-ইউনিটের সম্মেলনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছে। আশা করছি, যথাসময়েই আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ জেলাগুলোর সম্মেলন শেষ করতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, কমিটি গঠনে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের স্থান দেওয়া হবে। কোনো হাইব্রিড উড়ে এসে জুড়ে বসাদের স্থান দেওয়া হবে না। কারণ দলের দুঃসময়ে ত্যাগীরাই থাকে, হাইব্রিডরা উড়াল দেয়। জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষের দিকে অথবা ২০২৪ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঘর গোছাতে চায় আওয়ামী লীগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১৪ দলের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব ঘুচাতে চায় ক্ষমতাসীনরা। বিশেষ করে বাম রাজনৈতিক দল ও যেসব ইসলামী দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য ঘরোয়া, আনুষ্ঠানিক ও বা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে। সে ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতারা। টার্গেট টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসা। এ জন্য সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান তারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচন শেষ হলে আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সামনে আমাদের দুটি বছর রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলা-উপজেলা সম্মেলন, বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় বিজয় অর্জন, অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে নামব।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..