• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

মরে গেলেও আত্মসমর্পণ নয়: মাসউদ

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ২৫

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

আত্মসমর্পণ আর মৃত্যুর মধ্যে আমি মৃত্যুই বেছে নেব।’ এমনটাই সাফ জানালেন প্রয়াত সোভিয়েত ও তালেবানবিরোধী নেতা আহমদ শাহ মাসউদের ছেলে আহমদ মাসউদ। তবে তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের পাঞ্জশিরে মাসউদ জোর প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমারুল্লা সালেহকে সঙ্গে নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৫ আগস্ট) প্যারিস ম্যাচকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে মাসউদ বলেছেন, আত্মসমর্পণ না করলেও আমরা তালেবানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। প্রথমবারের মত ফরাসি দার্শনিক বার্নাড হেনরি লেভিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে মাসউদ বলেন, ‘আমি আহমদ শাহ মাসউদের সন্তান, আমার শব্দের ঝুলিতে আত্মসমর্পণ শব্দটিই নেই।’

এই সাক্ষাতকারে মাসউদ দাবি করেন, হাজারো লোক তার জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিতে পাঞ্জশিরে আসছেন। এসময় তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৯ সালে সোভিয়েতরা এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের তালেবান শাসনে কেউই পাঞ্জশির দখল করতে পারেনি। উল্লেখ্য, মাসউদের বাবা আহমদ শাহ মাসউদ ‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ নামে পরিচিত ছিলেন। সোভিয়েতদের সঙ্গে আফগানিস্তানের যুদ্ধে এবং তালেবান শাসনের সময় তার সাহসী ভূমিকার জন্যই তিনি এই উপাধি পান।

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, কাবুলের উত্তরে একটি উপত্যকায় আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল সমবেত হয়েছে। তারা শপথ নিয়েছেন শেষ পর্যন্ত পাঞ্জশিরকে ধরে রাখার।

মাসউদ বিশ্বনেতাদের সাহায্যের দাবিটিই আবার নতুন করে তুলে ধরেন। তিনি ইমান্যুয়েল ম্যাঁক্রোর কথা উল্লেখ করে চলতি মাসে অস্ত্র সাহায্য না পাওয়ার দরুণ নিজের খারাপ লাগা প্রকাশ করেন।

ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত ওই সাক্ষাতকারে মাসউদ আরও বলেন, যাদের কাছে আমি অস্ত্রের সাহায্য চেয়েছিলাম তাদের সেই ঐতিহাসিক ভুলের কথা আমি ভুলতে পারি না। ওরা আমাদের অস্ত্র সাহায্য দিতে অস্বীকার করল আর ওইদিকে তাদের ফেলে রাখা আর্টিলারি, হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ট্যাঙ্কগুলো তালেবানদের দখলে চলে গেল।

তবে এই সাক্ষাতকারে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মাসউদ। তিনি তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন বলেও জানান। বলেন, আমরা কথা বলতেই পারি। যুদ্ধে এমন আলোচনা হয়। আমার বাবাও শত্রুপক্ষের সঙ্গে কথা (আলোচনা) বলতেন।

তালেবানকে নিয়ে খানিকটা আশাবাদী হয়ে তিনি বলেছেন, আমি আশা প্রকাশ করি, তালেবানরা নারীদের অধিকারকে সম্মান দেখাবে, গণতন্ত্র এবং মুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তারা কেন বুঝছে না এই ব্যাপারগুলো কায়েম করলে তা তালেবানসহ সকল আফগানের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে।

আফগানিস্তানে একের পর এক প্রদেশ প্রায় বিনা যুদ্ধে দখল করে নিলেও সে পথে হাঁটেনি হিন্দুকুশ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত পাঞ্জশির উপত্যকা। ১৫ আগস্টের পরও তাই তালেবানের দখলের বাইরে ছিল এখানকার বেশ কয়েকটি। মাসউদের নেতৃত্বে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই হয় সেখানে। মাসউদের সঙ্গে যোগ দেন আফগানিস্তানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহও।

ওয়াশিংটন পোস্টকে লেখা একটি খোলা চিঠিতে মাসউদ লিখেছেন, আমি আজ পাঞ্জশির থেকে লিখছি। আমি আমার বাবার পদরেখা অবলম্বনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমার সঙ্গে মুজাহিদিনরা আবার তালেবানদের সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত। আমাদের কাছে যে অস্ত্র আছে তা আমার বাবার আমল থেকে জমিয়েছিলাম কারণ আমরা জানতাম এই দিন একদিন আসবেই।

এদিকে এএফপির খবর অনুযায়ী আফগান সেনাবাহিনীর একটা অংশও যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে। এই বাহিনীর সামনে পড়ে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক বার পিছু হটেছে তালেবান।

তবে পাঞ্জশিরকে মাসউদের বাহিনী যত দুর্ভেদ্যই করে তুলুক না কেন এর নিরাপত্তা নিয়ে এবার সত্যিকারের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা পাঞ্জশিরে তালেবান যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর ফেলে যাওয়া অস্ত্র নিয়ে হামলা করবে। বলা বাহুল্য, পশ্চিমা দেশগুলো দুই দশক ধরে নতুন করে আফগানিস্তান গঠনের চেষ্টা করে অবশেষে নতুন আরেকটি যুদ্ধকেই কাছে ডেকে আনল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..