• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

মা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, সিআইডির এএসপিসহ আটক ৩

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৪১

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সিআইডি’র রংপুর কার্যালয়ের এএসপিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুর সদরের বাশেঁরহাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। বুধবার দুপুরে চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটকরা হলেন- রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক। এএসপি সরোয়ারের বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়, এএসআই হাসিনুরের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এবং কনস্টেবল আহসানুলের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায়।
রংপুর সিআইডি অফিসের এসপি আতাউর রহমান বলেন, ওদের অপকর্মের দায়ভার সিআইডি নিবে না। দিনাজপুরে অনৈতিক কাজ করেছে তারা। দিনাজপুর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।

রংপুর সিআইডি, দিনাজপুর পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে রংপুর সিআইডির কাছে পলাশ নামের এক ব্যক্তি চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে রংপুর অফিসকে কোন অবগতি না করে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে সিআইডি’র এএসপিসহ ৩ জন দিনাজপুরে যান। এর মধ্যে এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ছুটিতে ছিলেন। এএসপি সরোয়ার কবির দায়িত্বরত থাকলেও রংপুর অফিসকে অভিযানের বিষয়ে কোন কিছু অবগত করেননি। সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে তারা দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় কোনভাবেই সিআইডি নিতে পারে না বলে জানিয়েছেন রংপুরের সিআইডি কর্মকর্তা।

জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় লুৎফরের বাড়িতে যান এএসপি সারোয়ার কবিরসহ তিনজন। লুৎফরকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুক্তিপণ দাবি করেন। তারা পরিবারের লোকজনকে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এ ঘটনায় থানা পুলিশের কাছে যান ভুক্তভোগীর স্বজনরা। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার বিকালে ভুক্তভোগীর স্বজনরা সাড়ে ৮ লাখ টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। তারা প্রথমে রানীরবন্দর আসতে বলেন। সেখানে এলে তাদের টাকা নিয়ে দশমাইল আসতে বলা হয়। আবার দশমাইল এলে বাশেরহাট আসতে বলে। পরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ ও সিআইডি মিলে বাশেরহাট থেকে তাদের আটক করে। আটকের পর প্রথমে চিরিরবন্দর পরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এএসপি সারোয়ার কবিরসহ তিনজন এখনও দিনাজপুর পুলিশের হেফাজতে আছে বলে জানা গেছে।

চিরিরবন্দর থানায় বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মোতাবেক মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

সিআইডি’র রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) আতাউর রহমান তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। তারা অফিস ও স্থানীয় পুলিশকে না জানিযে অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..