• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

নিউইয়র্কের দায়িত্ব নিলেন প্রথম নারী গভর্নর

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১
  • ২৯

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ক্যাথি হোকুল। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর নারী কেলেঙ্কারিতে দীর্ঘ জটিলতার পর স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে মরিয়া রাজ্য সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে নিউইয়র্কের ৫৭তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ক্যাথি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে শপথ হওয়ার কথা থাকলেও আইনগত কারণে মঙ্গলবার মধ্যরাতেই ক্ষমতা গ্রহণ করেন তিনি।
নিউইয়র্কের আলবানিতে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে তাকে শপথ পড়ান রাজ্যের প্রধান বিচারপতি জেনেট ডিফিয়োর। এরপর ক্যাথি জনগণের উদ্দেশে বলেন, গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে তিনি গর্বিত। দায়িত্ব পালনে তিনি প্রস্তুত।
সোমবার গভীর রাতে নিউইয়র্ক স্টেট এসেম্বলি ও সিনেট নেতাদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন অ্যান্ড্রু কুমো।

এর আগে গভর্নর ভবন থেকে তার আসবাবপত্র সরিয়ে নেন। যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে কুমো আবারও বলেন, আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করার জন্যই তার এই পদত্যাগ।
গত বছর নিউইয়র্কের অন্তত ১১ জন নারী কুমোর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের প্রমাণ মেলে।

যৌন হয়রানির দায়ে ১০ আগস্ট অ্যান্ড্রু কুমো পদত্যাগ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ অন্যরাও তাকে সরে দাঁড়াতে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া আইনগত চাপও ছিল। এর আগে তদন্তে তার বিরুদ্ধে এগারো নারীকে যৌন হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করা কুমোর আকস্মিক পতনে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহৎ জনবহুল রাজ্য নিউইয়র্কের গভর্নর হিসেবে ২০১১ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাটদলীয় কুমো।
এর আগে পাঁচ মাসের স্বাধীন তদন্তের পর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। এতে বলা হয়, তিনি তার আচরণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাজ্যের আইন লঙ্ঘন করেছেন।

তবে যে কোনো ধরনের ভুল করার কথা অস্বীকার করেছেন কুমো। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণের পুরো দায় আমি গ্রহণ করছি। মমতা কিংবা রসিকতার ছলে অসচেতনভাবে এমন অন্যায় হতে পারে বলে মনে করেন কুমো।
তিনি বলেন, দায়িত্বে থেকে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়লে রাজ্য সরকার অচল হয়ে পড়বে। যখন করোনাভাইরাস বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে, তখন এই অচলাবস্থায় করদাতাদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতি হবে।
এ গভর্নর বলেন, আমি মনে করি, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে, পদত্যাগ করাই আমার জন্য ভালো পথ। এতে সরকারের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে। আর এ কারণেই আমি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
১৬৮ পাতার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিনি বর্তমান ও সাবেক নারী কর্মীদের শরীরে হাতড়েছেন, চুমো দিয়েছেন এবং যৌন ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছেন। এছাড়া যৌন অসদাচরণের অভিযোগ আনা এক নারীর বিরুদ্ধে তিনি প্রতিশোধ নিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..