• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৬ অপরাহ্ন

যেভাবে করোনাকে হারিয়ে দিচ্ছে চীন!

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৯

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

মহামারি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। পৃথিবীব্যাপী জনস্বাস্থ্যবিদরা ধারনা করছেন চীনের উহান থেকেই এই করোনার উৎপত্তি। অথচ করোনার সংক্রমণ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে চীন।

মহামারি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। পৃথিবীব্যাপী জনস্বাস্থ্যবিদরা ধারনা করছেন চীনের উহান থেকেই এই করোনার উৎপত্তি। অথচ করোনার সংক্রম এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে চীন। পুরো চীন জুড়ে এখন মাত্র ১৬৩৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এছাড়া গত চার মাস ধরে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন বিপর্যস্ত তখন মাসখানেকের মধ্যেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম চিন।

এদিকে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানাচ্ছে, জুলাই মাসের পর সোমবার( ২৩ আগস্ট) এই প্রথম একজন চিনা নাগরিকও কোভিডে সংক্রমিত হননি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, চিনের ডেল্টা সংক্রমণ ছড়ানো মাত্রই যে সব বিভিন্ন প্রদেশে সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি সেগুলোতে ছোট ছোট কন্টেনমেন্ট জোন তৈরি করে প্রায় ১ কোটি মানুষ লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। তার পরই শুরু হয় কোভিড পরীক্ষা এবং সংক্রমিতদের চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া। সেই সঙ্গে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা। এরপরেই আগস্টের শেষ সপ্তাহে দেশকে ‘কোভিড-শূন্য’ ঘোষণা করল চিনের স্বাস্থ্য কমিশন।
এরই মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রথমে ভারতে, তার পর ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পরে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। আর এতেই ২০২০ সালের পর গত জুলাই মাসে প্রথম বার চিনে স্থানীয় সংক্রমণ ১,২০০ ছাড়িয়েছিল। ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রদেশে মিলেছিল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগী। এর পর ডেল্টার হানা বাড়তেই কঠোর হাতে তার মোকাবিলা করে প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, বিশ্বের মধ্যে করোনা মোকাবিলায় যে সব দেশ সক্ষম হয়েছে, তাদের মধ্যে একেবারে উপরের দিকে রয়েছে চিন। তালিকায় রয়েছে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পাওয়ায় তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে এদিকে ভারতের জনস্বাস্থ্যবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতে অক্টোবরে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে চূড়ায় উঠতে পারে সংক্রমণ। তখন সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হবে শিশুরা।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এক প্রতিবেদনে এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশটির জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তত্বাবধানে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি। একইসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ তাদের।

চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত মহামারী করোনায় ভয়াবহ সময় পার করেছে ভারত। একদিকে অক্সিজেন সঙ্কট অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশায় দেশটিতে প্রতিদিনই হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে মৃত্যু ও সংক্রমণ কমে আসলেও ভয় দেখাচ্ছে ভাইরাসটির তৃতীয় ঢেউ। জুলাই মাসে ভারতে করোনার তৃতীয় তরঙ্গ শুরু হলেও আগামী অক্টোবরে এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠবে। যা সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াবে শিশুদের মধ্যে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা জানায়, দেশটির জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তত্বাবধানে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি।

এতে বলা হয়, শিশুদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক, সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যকর্মী বা হাসপাতাল নেই ভারতে। এমনকি করোনার টিকাদান কর্মসূচিতে নেই শিশুরা। এ অবস্থায় দ্বিতীয় ঢেউ থেকে শিক্ষা নিয়ে, এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ তাদের।
একইসঙ্গে আগামী অক্টোবর মাসে ভারতজুড়েই শুরু হবে কালীপূজা, দুর্গাপূজাসহ নানা উৎসব। এর আগেই বিভিন্ন রাজ্য জনজীবন স্বাভাবিক করতে তুলে নেয়া হচ্ছে বিধিনিষেধ। আর তাই তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় জোড়ালো পদক্ষেপের বিকল্প নেই বলে জানায় কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..