• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার অনেক উপরে

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৩২

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সোমবার (২৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গোয়ালন্দ পয়েন্টে এখন বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে দেশের মধ্য অঞ্চলের এই পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ফরিদপুরের পদ্মা, মধুমতি ও আড়িয়ালখাঁর পানি বাড়ছে। সোমবার সকালে পাউবোর পরিমাপ অনুযায়ী গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজাম্মান জানান, হঠাৎ করে গত ৪/৫ দিন হলো পানি বাড়ছে। আমার ইউনিয়নটি পদ্মা নদী বেষ্টিত চারপাশে এখন পানি। মানুষের চলাফেরা এবং গবাদিপশুর খাদ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার (২১ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার ডিগ্রীরচর ইউনিয়নের মোদনখালি এলাকার হাসেম খান ও সকিনা বেগম দম্পতি এখন ব্যস্ত তাদের গৃহপালিত গরু-ছাগলের খাবার সংগ্রহের কাজে। বাড়ির চারপাশে পানি উঠেছে, চরের যতটুকু উঁচু জায়গা ছিল সেটাও তলিয়েছে। তাই এখন প্রিয় পশুগুলোর খাবার নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তারা। হাসেম-সোকিনার মতো চরাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারের একই সমস্যা বিরাজ করছে। পানির কারণে তাদের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে, সবার নৌকা নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

সেখানকার বাসিন্দা মজিবর বলেন, আমি পরিবারসহ পানিবন্দি। ঘরে যে খাবার আছে তাতে ২ থেকে ৩ দিন চলবে। তারপরে কী খাব, ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব, কিছুই জানা নেই।

ডিগ্রিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসার মিন্টু ফকির জানালেন, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে চরের মানুষের চলাফেরা, গবাদি পশুর খাবারসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির হার যদি এভাবে থাকে তাহলে দু’একদিনের মধ্যে অনেক পরিবারকে বেড়িবাঁধে নিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গায় পানি উঠেছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, এভাবে পানি আরও দুই তিনদিন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে পানিবন্দি মানুষের বিষয়ে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। যেখানে খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হবে সেখানেই পৌঁছে যাবে প্রয়োজনীয় দ্রব্য। এই মৌসুমের পানির কথা বিবেচনা নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি রয়েছে আমদের। যে কোনো সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..