• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০২ অপরাহ্ন

৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ৮১

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। প্রায় দেড় বছরের মধ্যে অবলোপনসহ মন্দ ঋণে ডাউনপেমেন্ট দিয়ে পুনঃতফসিল করাসহ ঋণগ্রহীতাদের বিভিন্ন সুবিধা দিলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে খেলাপির পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই, যা মোট ঋণের আট দশমিক ১৭ শতাংশ। খেলাপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকায়।
৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা তৎপরতার পরও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না খেলাপি ঋণ। উল্টো করোনার মধ্যে বেড়েই চলেছে আর্থিক খাতের এই ‘বিষফোড়া’।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি ‘ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা মার্চ শেষে ছিল ৯৪ হাজার ২৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি বেড়েছে ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।

দেশে বিতরণ করা মোট ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে বছরের প্রথম ছয় মাসে জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৭০১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং গত মার্চে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খেলাপির হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। দেশে বিতরণ করা মোট ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি কমাতে হলে ঋণের মান বাড়াতে হবে। প্রতিটি ঋণ ভালোভাবে যাচাই করে প্রদান করতে হবে। সুশাসন বাড়িয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। যারা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের দৃশ্যমান শাস্তির আওতায় না আনলে এটা বন্ধ হবে না। স্বচ্ছতাই ঋণখেলাপি কমিয়ে আনতে পারে বলেও মনে করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন মাস অন্তর খেলাপি ঋণের যে হিসাব তৈরি করে, তাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। এর সঙ্গে অবলোপন করা আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার যোগ করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের অঙ্ক আরও বেড়ে যাবে। এ ছাড়া পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন আছে বিপুল অঙ্কের ঋণ। এর বাইরে আরও লাখ কোটি টাকার মতো আছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট বা এসএমএ ঋণ, যা খেলাপি হওয়ার আগের ধাপে আছে।

এদিকে, করোনার কারণে খেলাপি ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ ছাড় শুরু হয়েছে। প্রথম বছরে সব ঋণেরই ছাড় ছিল। তবে গত পয়লা জানুয়ারি থেকে সব ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়নি। তবে বড় বড় ঋণের ক্ষেত্রে চলতি আগস্ট পর্যন্ত ওই ছাড় বহাল রয়েছে। এই ছাড়ের পরও ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। আগস্টের পর ছাড়ের সময়সীমা আর না বাড়ানো হলে খেলাপি ঋণ আগামীতে আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে। এসব ব্যাংকে খেলাপির পরিমাণ ৪৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ২০ দশমকি ৬২ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯ হাজার ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপির পরিমাণ দুই হাজার ৪৯২ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে এর পরিমাণ তিন হাজার ৬৮৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..