• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

কিভাবে বুঝতে পারবেন আপনি লিভার সিরোসিসে ভুগছেন

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৪

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

লিভার সিরোসিস রোগটির কথা শুনলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কারণ এ অসুখটি সারে না। দীর্ঘ দিনের লিভারের কোনও অসুখ থাকলে বা জন্ডিস হয়ে থাকলে কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপান করলে এ রোগ হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস বা ওবেসিটি রয়েছে যাদের তারাও সতর্ক না হলে এ রোগ থাবা বসাতে পারে।

লিভার সিরোসিস একটি মারাত্মক ও অনিরাময়যোগ্য রোগ। এতে যকৃৎ বা লিভারের কোষকলা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যায় যে তা সম্পূর্ণ বিকৃত ও অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে যকৃতের যেসব স্বাভাবিক কাজ আছে যেমন বিপাক ক্রিয়া, পুষ্টি উপাদান সঞ্চয়, ওষুধ ও নানা রাসায়নিকের শোষণ, রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি ইত্যাদি কাজ ব্যাহত হয়। দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। ধীরে ধীরে এ রোগ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মানুষকে।

সময়ে ধরা পড়লে এ রোগটির জটিলতা থেকে অনেকখানিই মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগটি ধরা পড়তেই দেরি হয়ে যায়, তখন আর কিছুই করা সম্ভব হয়ে উঠে না। লিভার সিরোসিস হওয়ার শুরুতেই শরীর কিছু কিছু সঙ্কেত দিতে থাকে। এগুলো কখনওই উপেক্ষা করবেন না।

কেন হয়?
হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস সংক্রমণ কারও কারও ক্ষেত্রে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করে সিরোসিসে পরিণত হয়। বিশ্বজুড়ে এটাই প্রধানতম কারণ। তবে সব ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ সিরোসিসে পরিণত নাও হতে পারে। দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হেপাটাইটিস বি পজিটিভ রোগীর পাঁচ থেকে ২০ বছর পর লিভার সিরোসিস হতে পারে। তবে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই হার অনেক বেশি। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের মদ্যপানের অভ্যাস, যকৃতে চর্বি জমা থেকে জটিলতা, কিছু জিনগত সমস্যা, কিছু ইমিউন সিস্টেমের জটিলতায়ও লিভার সিরোসিস হতে পারে।

কালশিটে:
কালশিটে কি? এ প্রসঙ্গে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ফ্যামিলি মেডিসিন ফিজিশিয়ান কোরি ফিশার বলেন, কালশিটে হলো ত্বকের পৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত রক্তনালিতে ছোটখাট ইনজুরির প্রতিবিম্ব। এসব রক্তনালি ড্যামেজ হলে অল্প পরিমাণে রক্ত লিক করে, যার ফলে আমরা ত্বকে নীল, কালো বা পার্পল দাগ দেখি- এ দাগকেই কালশিটে বলে।

শরীরে ঘনঘন কালশিটে পড়ে কি? তা হলে সতর্ক হোন। আমাদের লিভার ভিটামিন কে-এর সাহায্যে একটি প্রোটিন উৎপাদন করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। লিভার পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত রক্তের কোষগুলির ভাঙনেও সহায়তা করে। লিভার যদি ক্ষতিগ্রস্ত থাকে তাহলে এটি প্রয়োজন মতো প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে না। কাজেই সহজেই কালশিটে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
জন্ডিস খুবই পরিচিত একটি অসুখ। এই অসুখে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলদে হয়ে যায়। লিভার থেকে নিঃসৃত হওয়া হলুদ-কমলা রঙের পিত্ত বিলিরুবিনের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে জন্ডিস হয়। লিভারে ক্ষত তৈরি হলে লিভার শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। তখনই এ অসুখ হয়।

প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে দেরি হয়:
হঠাৎ রক্তে লিভার এনজাইমের অস্বাভাবিকতা বা আলট্রাসনোগ্রাফিতে যকৃতের আকার-আকৃতির পরিবর্তনের কারণ খুঁজতে গিয়ে লক্ষণ ধরা পড়ে।

উপসর্গ:
সাধারণত খাদ্যে অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি ভাব বা বমি, বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরে পানি আসা ইত্যাদি হলো মূল উপসর্গ। পরে যকৃতের অকার্যকারিতার সঙ্গে কিডনির অকার্যকারিতা, রক্তবমি, রক্তে আমিষ ও লবণের অসামঞ্জস্য ইত্যাদি জটিলতা।
চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ একমাত্র উপায়:
লিভার সিরোসিসে সেরে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মাত্র ২৫ শতাংশ রোগী পাঁচ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন। সিরোসিস থেকে যকৃতের ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে। তাই রোগ হওয়ার আগে প্রতিরোধ করাই ভালো। হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, যেমন শিরায় নেশাদ্রব্য ব্যবহার, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ বা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন। যারা হেপাটাইটিস বি নেগেটিভে আক্রান্ত, তারা সংক্রমণ এড়াতে টিকা দিয়ে নিতে পারেন।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এড়িয়ে চলুন। হেপাটাইটিসে সংক্রমণ হলে ঝাড়ফুঁক-জাতীয় চিকিৎসা না করে দ্রুত বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..