• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

থমথমে বরিশাল, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নামছে বিজিবিও

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৩

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাড়িতে হামলা-পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর রাস্তাঘাটে লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে যানবাহনও কম। স্থানীয়রা বলছেন, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে যাচ্ছেন না।

এদিকে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তাদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। গাড়িতে করে রাস্তায় রাস্তায় পুলিশকে টহলও দিতে দেখা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নগরীতে বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয় বৃহস্পতিবার। ইতোমধ্যে খুলনা থেকে রওনা হয়েছেন তারা। দিনের যে কোনো সময় ১০ প্লাটুন বিজিবি বরিশালে পৌঁছাবে।

এ ছাড়া পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি পিরোজপুর ও পটুয়াখালী থেকে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও আনা হয়েছে। বিজিবি-পুলিশের সঙ্গে তারাও মাঠে থাকবেন।

আরও পড়ুন : উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ইউএনও’র বাসভবনে ভাঙচুর, গুলিবিদ্ধ কয়েকজন

এদিকে বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাড়িতে হামলার ঘটনায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসোসিয়েশন।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের আইনের মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হবে।

এদিকে ইউএনওর বাসভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়েছে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে। একটি মামলার বাদী ইউএনও নিজে, অপরটির বাদী পুলিশ।

নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, ইউএনওর বাসায় হামলার ঘটনায় নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকশ’ জনকে আসামি করে আলাদা দুটি মামলা দায়ের হয়েছে থানায়। এই মামলায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন : ইউএনওর বাসভবনে হামলায় দুই মামলা, গ্রেপ্তার ১২

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফজালুল করীম বলেন, পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দল এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে বরিশাল সদর ‍উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ‍উচ্ছেদ করতে অভিযান চালান বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাদের অভিযান বন্ধ করে সকালে অভিযানে চালাতে বলেন। কিন্তু সেটি না মেনে ইউএনওর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন সিটি করপোরেশন কর্মী এবং আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা ইউএনওর বাসভবনে হামলা চালান। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা গুলি চালালে বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে পুলিশের সঙ্গেও হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..