• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

খালের বাঁধ উধাও, পানিতে তলিয়ে গেছে দুইশতাধিক বিঘা রোপা আমন ধানের জমি

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৮

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

মনিরুজ্জামান মনির,নন্দীগ্রাম (বগুড়া) ঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে নামুইট খালের বাঁধের মাটি সরিয়ে ফেলায় অন্তন দুই শতাধিক বিঘা রোপা আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পচন ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোপা আমন ধানের চারা। এতে দিশেহারা হয়ে পরেছে ভুক্তভোগী কৃষকরা।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮/১৯ অর্থ বছরে উপজেলার নিনগ্রাম হতে ভোবানিপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়। এতে করে ওই এলাকার কৃষকরা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পায়।

কিন্তু নামুইট ব্রিজ থেকে শীলাল মাজার মোড় পর্যন্ত খালের বাঁধের মাটি সরিয়ে ফেলার কারণে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয়েছে দুই শতাধিক বিঘা রোপা আমন ধানের জমি। তাই আবারও সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ নামুইট ব্রিজ থেকে শীলাল মাজার মোড় পর্যন্ত খালের বাঁধের মাটি কেটে (কাথম-কালিগঞ্জ) সড়ক সম্প্রসারণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা তাদের প্লাবিত জমির পানি নিস্কাশনের কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেনা। এবিষয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আশরাফুল আলম, আব্দুল হান্নান, আব্দুস সামাদ ও নজরুল ইসলাম সহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, উপজেলার কাথম-কালিগঞ্জ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি করার সময় নামুইট ব্রিজটি ভেঙ্গে নতুন করে ব্রিজ নির্মান করে। সে সময় নামুইট ব্রিজ থেকে শীলাল মাজার মোড় পর্যন্ত খালের বাঁধের মাটি কেটে ওই মাটি দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরী করে। ওই সময় এলাকার জনসাধারণ খালের বাঁধের মাটি কাটতে বাধা প্রদান করলেও রাতের আধারে তারা ওই বাঁধের মাটি কেটে বিকল্প রাস্তা তৈরী করে।

তারা আরও জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নতুন ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বাঁধ নির্মাণ করে দেয়নি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই বাঁধের মাটি রাস্তার কাজে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের প্রজেক্ট ম্যানেজার আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বাঁধের মাটি নিয়েছি এটা সত্য। তবে বর্ষার কারণে আমরা ওই খালের বাঁধটি নির্মাণ করে দিতে পারছিনা।

এবিষয়ে মঙ্গলবার (১০ আগষ্ট) নন্দীগ্রাম বিএডিসি’র ক্ষুদ্রসেচ ইউনিটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাকসুদুল করিম রানা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নামুইট খালের বাাঁধের মাটি আমাদের অনুমতি ছাড়াই কাটা হয়েছে। এবিষয়ে আমাদের কোন কিছু না জানিয়েই (কাথম-কালিগঞ্জ) সড়ক সম্প্রসারণকারী একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাঁধের মাঠি কেটে ফেলে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে জানানো হয়েছে।.

মনিরুজ্জামান মনির

নন্দীগ্রাম বগুড়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..