• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে চাঁদা দাবি, ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৭

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

আশরাফুল আলম সাগর ‘মাগুরা সংবাদ’ নামে অনিবন্ধিত একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের সম্পাদক পরিচয় দিতেন।

ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মাগুরার মহম্মদপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর উপকারভোগীদের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগে আটক ভুয়া সাংবাদিক আশরাফুল আলম সাগরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে মাগুরার সিনিয়র বিচারক মো. হাসিবুল হাসানের আদালতে হাজির করা হয় সাগরকে। এ সময় বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার (১৫ আগস্ট) দিনগত রাতে উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওই ভুয়া সাংবাদিককে।

আশরাফুল আলম সাগর ‘মাগুরা সংবাদ’ নামে অনিবন্ধিত একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের সম্পাদক পরিচয় দিতেন। তিনি উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের মৈফুলকান্দি গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে।

চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর বাসিন্দা ওবাদুর রহমান বাদী হয়ে সাগর ও আব্দুল্লাহ নামে দুইজনের বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। আব্দুল্লাহ উপজেলা সদরের বাঐজানি গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মহম্মদপুর উপজেলা সদরে মধুমতি নদীর পূর্বপাড়ে জাঙ্গালিয়া গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় সম্প্রতি ১৩টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর করা হয়। গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে সাগর ও আব্দুল্লাহ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের বাড়িতে যান। এ সময় তারা পরিবার প্রতি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। একটি ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আরও ভালো ঘর পাইয়ে দেবেন বলে প্রলোভন দেখান।

টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওবায়দুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করেন। এসময় লোকজন জড়ো হয়ে ধাওয়া করে সাগরকে আটকে রাখে ও আবদুল্লাহ পালিয়ে যান। এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পালকে মোবাইল ফোনে জানায় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে সাগরকে গ্রেপ্তার করে।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন জানান, গত রাতে (১৫ আগস্ট) আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের হাতে আটক সাগরকে থানায় আনা হয়। আজ (১৬ আগস্ট) মামলার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আরেক আসামি আব্দুল্লাহ ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন। পুলিশ অভিযুক্ত সাগরের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভুয়া ফরম ও আবেদনের কাগজপত্র জব্দ করেছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামানন্দ পাল সময় নিউজকে জানান, মধুমতি নদীর শেখ হাসিনা সেতুর পূর্বপাশে চর জাঙ্গালিয়া মৌজায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় ২য় পর্যায়ে গুচ্ছাকারে ১৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে উপকারভোগীরা সেখানে নিয়মিত বসবাস করছেন। গতকাল (১৫ আগস্ট) রাতে ২ জন লোক সেখানে যান। তারা উপকারভোগীদের বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভনে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। এ সময় তারা নিজেদের ‘সাংবাদিক পরিচয়’ দেন।

উপকারভোগীদের বরাত দিয়ে ইউএনও আরও জানান, ওই দুই ব্যক্তি তাদের বলেন, এই কাগজে স্বাক্ষর দাও, আর ১০,০০০/- করে টাকা দাও। তাহলে তোমাদের আরও ভালো ঘর পাইয়ে দেওয়া হবে। এ সময় স্বাক্ষর না করতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী এ সময় সাগরকে আটক করলেও অন্যজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

রামানন্দ পাল বলেন, এরই মধ্যে আমাকে অবহিত করা হলে আমি সেখানে পুলিশ পাঠাই এবং নিজেও যাই। পুলিশ গিয়ে সাগরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..