• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

পরীমনির জামিন আবেদনে কী আছে?

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৪

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় বর্তমানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে আছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। দুই দফায় ৬ দিন রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রজনীগন্ধা ভবনে কোয়ারেন্টাইনে আছেন তিনি।

এদিকে পরীমনির জামিন আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। নিয়ম মেনে সোমবার (১৬ আগস্ট) জামিন আবেদন করা হয়েছে। আগামী বুধবার (১৮ আগস্ট) জামিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। জামিন আবেদন, পরীমনি নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান।

জামিন আবেদনে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, আসামি একজন নারী। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৭(১) (গ) মোতাবেক জামিন পেতে পারেন। জামিন পেলে আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের নির্দেশ মতে জামিনদার প্রদান করবেন। আসামি দীর্ঘ ছয়দিন রিমান্ডে থাকাসহ প্রায় ২৬ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে থাকলেও মামলা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আসামি ‘ভারটিগো’ এবং ‘প্যানিক অ্যাটাক’ এর রোগী, দীর্ঘসময় পুলিশ কাস্টডিতে থেকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার স্বার্থে দরখাস্তকারী আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া আবশ্যক। আসামির দখল ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মদ ও মাদক উদ্ধার হয়নি। আসামি নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার বিধায় আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া আবশ্যক।

জামিন আবেদনে আরও বলা হয়, এজাহার মোতাবেক ঘটনার অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব টিম ‘দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯’ এর ৬ এবং ৬-এর এ ধারা লঙ্ঘন করে অভিযান পরিচালনা করে। যার ফলে একটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করার কারণে আসামি জামিন পাওয়ার হকদার। আসামি পরীমনি একজন প্রথম সারির চিত্রনায়িকা। ‘ফোর্বস ম্যাগাজিন’ ডিজিটাল তারকা হিসেবে বিশ্বের ১০০ জনের মধ্যে তার নাম অন্তর্ভুক্ত। আসামি জেলহাজতে আটক থাকলে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

গেল ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে আটক করে র‌্যাব। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে পরীমনির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়ার দাবি করে র‌্যাব। ৫ আগস্ট র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদকে আসক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন পরীমনি, দাবি র‌্যাবের।

পরীমনির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, ২০১৪ সালে ঢালিউডে অভিষেক হয় তার। ২০১৬ সাল থেকে অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়েন। প্রয়োজন মেটাতেই বাসায় মিনিবার স্থাপন করেছেন। মদ খাওয়ার লাইসেন্সও আছে পরীমনির।

ওই দিনই বনানী থানায় মাদক মামলা দায়ের করা হয় পরীমনির বিরুদ্ধে। সন্ধ্যায় সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে তোলা হয় পরীমনিকে। শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।

চারদিনের রিমান্ড শেষে পরীমনিকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে সিআইডি। শুনানি শেষে ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..