• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

জীবনের বিনিময়ে সন্তানকে বাঁচানো এক মায়ের গল্প

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৬

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

২০ দিন আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে সন্তানসহ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬৫ বছর বয়সী এক মা। ওই মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন চিকিৎসকরা। এদিকে, ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে ওই মায়ের ৩৮ বছর বয়সী ছেলে শিমুল পালের।

হাসপাতালের আইসিইউ সংকট থাকায় শ্বাসকষ্ট তীব্রতর হতে থাকে তার। এদিকে, এ খবর চলে যায় আইসিইউতে ভর্তি থাকা ওই মায়ের কাছে। জানতে পেরে নিজের লাইফ সাপোর্টের সরঞ্জাম খুলে তার সন্তানকে আইসিইউ বেডে আনতে ছটফট করতে থাকেন ওই মা।

এ ঘটনা দেখে চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মায়ের জেদের কাছে হার মানে তারা। মায়ের আইসিইউতে তোলা হয় ছেলেকে। আর আইসিইউ থেকে বের করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজের সন্তানকে বাঁচিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান মা কানন প্রভা পাল।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, নগরীর সিএন্ডবি কলোনী এলাকা থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬৫ বছর বয়সী মা কানন প্রভা পাল ও তার আটত্রিশ বছর বয়সী ছেলে শিমুল পাল। মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আইসিইউতে নিয়ে যান চিকিৎসকরা। ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে ছেলের অবস্থাও।

আইসিইউ সংকট থাকায় ছেলের জন্য আইসিইউ না পাওয়ার খবর চলে যায় মায়ের কাছে। নিজের হাতে লাইফ সাপোর্টের সরঞ্জাম খুলে ছেলেকে নিজের আইসিইউতে আনতে ছটফট করতে থাকেন। ডাক্তাররা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও কোন কথা শুনছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত মায়ের জেদের কাছে হার মানতে হয় সবাইকে। মায়ের আইসিইউতে তোলা হয়েছিল ছেলেকে। আইসিইউ থেকে বের করার কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু হয়েছিল মা কানন প্রভা পালের।

চট্টগ্রামে মায়ের ছেড়ে দেয়া আইসিইউর কারণে সুস্থ হয়ে উঠেছে ছেলে শিমুল পাল। ভর্তির বিশ দিন পর সোমবার (১৬ আগস্ট) জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে তাকে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ওই মাকে বাঁচানো না গেলেও তার ছেলেকে অনেকটা সুস্থ করে তুলতে পেরে খুশি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

বিশ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন আটত্রিশ বছর বয়সী শিমুল পাল। হুইল চেয়ারে করে আইসিইউ থেকে তাকে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. রাজদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতালের আইসিইউ বেডে শুয়ে আইসিইউ সংকটের খবর শুনে তার মা ইশারা করেন, তাকে বাদ দিয়ে যেন ছেলে শিমুলকে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়। শেষে পরিবারের সবার সম্মতিতে চিকিৎসকরা মাকে বাদ দিয়ে ছেলে শিমুল পালকে আইসিইউ বেডে শিফট করান এবং মাকে আইসোলেশন বেডে নিয়ে যান। এ ঘটনার ঘণ্টা খানেক পরই বৃদ্ধ মা কানন প্রভার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু জেনেও কিছুই করার নেই। মায়ের অবস্থাও খারাপ ছিল। তারপরও ছেলেকে যদি অন্য কোথাও আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া যেত, তাহলে মাকে আইসোলেশন বেডে নেওয়া লাগত না। বর্তমানে ছেলের অবস্থাও বেশি ভালো না।’ এ সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধও জানান এই চিকিৎসক।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিট প্রধান ডা. আব্দুর রব জানান, একটা হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। মা ও ছেলের মধ্যে আইসিইউ বেড পরিবর্তন করতে হয়েছিল। মাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ওয়ার্ডে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শিমুল পালের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের অক্লান্ত পরিশ্রমে সে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠে।

বর্তমানে তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ১০০ পারসেন্ট আছে। তিন থেকে চার লিটার অক্সিজেন লাগছে। শরীরের অন্যান্য প্যারামিটারও অনেক ভালো। বর্তমানে সে সুস্থ আছে। আইসিইউ থেকে তাকে ওয়ার্ডে শিফট করা হয়েছে। কয়েকদিন থাকার পর বাসায় চলে যেতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আব্দুর রব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..