• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

কুয়াকাটা সৈকতে ফের ভেসে এল মৃত ডলফিন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৬

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত থেকে আবারও একটি সাত ফুট লম্বা মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ আগস্ট) শেষ বিকেলে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে ভেসে আসা ডলফিনটির ঠোট রক্তাক্ত ছিল। এসময় স্থানীয় জেলেরা বালুচাপা দিয়ে রেখেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

কুয়াকাটার সমুদ্রগামী জেলে আব্দুল গাফফার জানান, সৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মৃত ডলফিনটির ঠোট রক্তাক্ত ছিল। তার মতে, এটি কোন মাছধরা জেলেদের জালে আটকা পড়েছিল। ডলফিন শিকার এবং বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় বিধায় এটি জেলেরা পরে সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৬-৭ ফুট দৈর্ঘের ডলফিনটির মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের জালের আঘাতে মাছটি মারা গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, শুশক প্রজাতির ডলফিনটি শনিবার কোনো এক সময় জেলেদের জালে আটকা পড়েছিল বলে ধারণা করছি। এ ধরনের ডলফিন সাধারণত সমুদ্রের ছোট মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে।
এর আগে গত ৯ মে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসে ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত ডলফিন। লেম্বুর বন সংলগ্ন সৈকতে মৃত ডলফিনটি দেখতে পায় স্থানীয় জেলেরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, মাছটির শীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের জালের আঘাতে মাছটির মৃত্যু হয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকটি মৃত ডলফিন ও তিমি সৈকতে ভেসে এসেছিল।
এদিকে চলতি বছরের গত ৬ জুলাই চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে সাত ফুট লম্বা একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়। হালদা নদীর শাখা খাল চানখালি খালে মৃত ডলফিনটি ভেসে ওঠে।

হালদা নদী গবেষক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া জানিয়েছিলেন, ডলফিনটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে সাত ফুট এবং ওজন প্রায় ১২০ কেজি। গত কয়েক বছরে এটি ২৯তম ডলফিনের মৃত্যু।
মৃত ডলফিনটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। দেশীয় প্রজাতির এসব ডলফিনের গড় আয়ু বিশ বছর। বয়সজনিত কারণে এটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ড. কিবরিয়া।

তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত হালদায় পাওয়া ২৯টি ডলফিনের মধ্যে সাতটিতে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সেগুলোর স্বাভাবিত মৃত্যু হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়েছে। বাকি ডলফিনগুলো বিভিন্ন আঘাতজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। গবেষণায় সেগুলো ‘মেকানিক্যাল ট্রমা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন, বেসরকারি সংস্থা আইডিএফ এবং বন বিভাগ (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ইউনিট) যৌথভাবে ডলফিনটি প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী গবেষণা কাজের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি ডলফিনটির কিছু নমুনা সংরক্ষণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..