• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

পরীমনিকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার গাড়ি দিল কে?

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৯

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিত্রনায়িকা পরীমনির এবার বিলাসবহুল গাড়ির বিষয়টি সামনে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি ব্যাংক লোন নিয়ে গাড়িটি কিনেছেন বলে দাবি করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র বলছে, এটি তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন।

শুক্রবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ।

সেখানে তিনি বলেন, পরীমনির ‘অবৈধ কাজের’ সহযোগীদের নাম পাওয়া গেছে। নায়িকা পরীমনি যেসব অবৈধ কাজ ও ব্যবসা করত, সেগুলো কাদেরকে নিয়ে করত, কাদের সহযোগিতায় করত, কারা তার নেপথ্যে রয়েছে, আমরা তাদের নাম পেয়েছি। যারাই তার সঙ্গে জড়িত ছিল সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সূত্র জানায়, পরীমনি বিলাবসহুল যে গাড়িটি ব্যবহার করেন সেটি ফিয়াট অটোমোবাইলসের ‘মাসেরাতি’ ব্র্যান্ডের গাড়ি। সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়িটি পরীমনিকে কে উপহার দিয়েছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। যদিও সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খোলেননি পরীমনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরীমনি বলেছেন, তিনি গাড়িটি ব্যাংক লোন নিয়ে কিনেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, পরীমনি গাড়িটি ব্যাংক লোন অথবা ক্যাশ টাকা দিয়ে কেনেননি। দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ওই সম্পর্কের ভিত্তিতে পরীমনি তার কাছ থেকে গাড়িটি উপহার হিসেবে পেয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, পরীমনির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ওই ব্যাংক চেয়ারম্যানের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তিনিও নজরদারিতে রয়েছেন। এছাড়া ওই ব্যাংকে পরীমণির বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেগুলো ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে, ২০২০ সালের ২৪ জুন পরীমনির সাদা রঙের হ্যারিয়ার গাড়িটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই তিনি প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার রয়েল ব্লু রঙের মাসেরাতি গাড়িটি কেনেন।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বনানী থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয় পরীর বিরুদ্ধে। ওইদিনই সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয় পরীমনিকে। তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মাদকে আসক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন পরীমনি। জানিয়েছেন, ২০১৬ সাল থেকে অ্যালকোহলে আসক্ত তিনি। নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য নিজের ফ্ল্যাটে মিনি বার স্থাপন করেছেন। পরীর বারে বিদেশি মদ থাকত। সেগুলো সরবরাহ করত নজরুল রাজ।

এর আগে বুধবার (৪ আগস্ট) বনানীর বাসা থেকে আটক করা হয় পরীমনিকে। র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া যায় তার বাসায়। এরপর থেকে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
শোনা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আমলা, রাজনীতিবিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতেন পরীমনি। বিশেষ লোকদের ডাকে শুটিং সেট থেকেও চলে গিয়েছিলেন এ নায়িকা। দেশের বাইরে ঘুরতে যেতেন তাদের আশীর্বাদ নিয়ে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরীকে দামি গাড়ি উপহার দিয়েছেন। সবশেষ দুবাই ভ্রমণ করেছেন ওই চেয়ারম্যানের কল্যাণেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..