• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১০ অপরাহ্ন

নেত্রকোনায় অটোরিক্সা চালক হত্যাকারী সাত দিন পর গ্রেফতার ৩জন

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ১৭ বার পঠিত

 

ইকবাল হাসান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দূর্গাপুরে অটোরিক্সা চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনার সাতদিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িত তিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকারী সেকুলকে দূর্গাপুরের লক্ষীপুর বাজার হতে আটকের পর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা থেকে সবুজ মিয়াকে এবং শেরপুর জেলার সদর থানার পাকুরিয়া গ্রামের গণই মমিনাকান্দা থেকে মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আকবর আলী মুনসীর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এস.এম আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে মোঃ আল আমিন হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার)সহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে উক্ত মামলার ০৩জন আসামীকে গ্রেফতার ও চোরাই অটো উদ্ধার করে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মামলার বিবরনে পুলিশ জানায়,জেলার দূগাপুর উপজেলার পশ্চিম বিলাশপুর গ্রামের সদর আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (২৭) ২ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের ন্যায় ব্যাটারি চালিত অটো নিয়ে বাড়ী হতে বাহির হয়ে যথাসময়ে বাড়িতে ফিরে না আসলে তার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন তাকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে পরদিন দুর্গাপুর থানার জিডি করে।

পরবর্তীতে গত ৫ সেপ্টেম্বর জেলার দুর্গাপুর থানাধীন মিনকি ফান্দা সাকিনের মরাখলা পাহাড়ের পাশে স্থানীয়রা বান্দরের টিলা পাহাড়ের আনুমানিক ৪০ ফুট উপরে দূর্গম জঙ্গলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। দুর্গাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে হাত পা এবং মুখমন্ডল পড়নের শার্ট ও প্যান্ট দ্বারা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। মৃত ব্যক্তির পড়নের প্যান্ট ও শার্ট দেখে তার নিকটত্মীস্বজন মৃত দেহটি শনাক্ত করে। মৃতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে জানা যায়,গাজীপুর হতে শাহীন ওরফে মোল্লা, মানিক মিয়া এবং তাহাদের অন্যতম সহযোগী দুর্গাপুরের বাসিন্দা সেকুল ইসলামের সহযোগিতায় অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ১ সেপ্টেম্বর শাহীন ওরফে মোল্লা এবং মানিক গাজীপুর থেকে দুর্গাপুর আসে।

পরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিম সাইদুলকে সাদাসিধা দেখে তারা ০৩জন তার অটো ভাড়া করে ঘুরে বেড়ায় ও তার মোবাইল নাম্বার রেখে দেয় এবং রাতে তারা বিরিশিরি স্বর্ণা গেষ্ট হাউজে রাত কাটায়।

২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাইদুলকে তারা ডেকে নিয়ে এসে পুনরায় অটোযোগে ঘুরতে থাকে। ভিকটিম সাইদুলকে তারা মদ্য পান করিয়ে বান্দর টিলা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। হত্যার পরিকল্পনা মোতাবেক পূর্বেই দুর্গাপুর বাজার হতে গামছা কিনে রাখে।

তারা সন্ধ্যার দিকে ভিকটিমকে দূর্গম বান্দর টিলা পাহাড়ে আনুমানিক ৪০ ফুট উপরে নিয়ে হাত পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করে অটো নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলার হক্কানি সাউন্ড এন্ড ব্যাটারির মালিক সবুজের কাছে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। সবুজ মিয়ার সাথে পূর্বেই পুরাতন অটো বিক্রয় করবে বলে জানায় এবং অধিক রাত পর্যন্ত দোকান খুলে রাখতে বলে।
এ ব্যাপারে দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সোমবার রাত থেকে গত কাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে হত্যাকারী সেকুলকে দুর্গাপুরের লক্ষীপুর বাজার হতে আটকের পর ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা হতে আসামী সবুজ মিয়ার হেফাজত হতে চোরাই অটো উদ্ধার করা হয় এবং আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

আসামীদের দেয়া তথ্য মতে শেরপুর জেলার সদর থানার পাকুরিয়া গ্রামের গণই মমিনাকান্দা হতে অন্যতম আসামী মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ কার হয়েছে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..