• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

নড়াইলের প্রতীমা শিল্পীদের রাতের ঘুম হারাম: পূজার ক’দিন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে সমগ্র জেলা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৩৮ বার পঠিত

উজ্জ্বল রায়,নড়াইল ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট:  নড়াইলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দেবী দূর্গা পুজার বাকী প্রায় এক মাস। আর এরই মধ্যে শরতের শুরুতেই মর্তে বাজতে শুরু করেছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা।

অন্যান্য বছরের মতো এবছরও বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশী পূজা মন্ডপ তৈরী হচ্ছে নড়াইলের জেলায় ও উপজেলায়। প্রচুর মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে তাই প্রতীমা তৈরীতে এখন মহাব্যস্ত সময় পার করছেন নড়াইলের পাল পাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

পাল পাড়ার প্রতীমা নির্মাণ শিল্পী রাজিব পালের ছেলে রাজু পাল, একই বাড়ির কিশোর পালের ছেলে বাসুদেব পাল ও একই বাড়ির দেবাসিষ পাল জানান, জেলা ও উপজেলায় এ পাল পাড়া হিসেবে তাদের রয়েছে খুব সু-প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যর খ্যাতি। বাপ-দাদার আমল থেকেই তারা বিভিন্ন সময়ে প্রতীমা নির্মাণসহ বিভিন্ন মেলায় খেলনা সামগ্রী ও তৈজসপত্র নির্মান করে আগুনে পুড়িয়ে হরেক রকমের রং করে তা বিক্রি করে আসছেন। তাদের গ্রামে নির্মান শিল্পী হিসেবে বিপুল পরিবার রয়েছে।শ

এই পরিবারের মধ্যে পুরুষ শিল্পী ও অনেক নারী শিল্পী রয়েছেন। প্রত্যেক পরিবারের নারীদের শিল্প কাজে রয়েছে নিতুন দক্ষতা। তাই পুরুষ শিল্পীদের পাশাপাশি পাল পাড়ার প্রত্যেক নারীরাই মাটির তৈরী শিল্প কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। বিশেষ করে প্রতীমার মুখ মন্ডল তৈরীর নিপুন কাজে নারী শিল্পীরা খুবই দক্ষ।

পাল পাড়ার আরও কয়েকজন জানান, এলাকার পরিচিত লোকজনের কারণে এসকল প্রতীমা নির্মানে পারিশ্রমিক কম নিয়ে অন্তত ৫০হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেবেন তারা।

শিল্পীরা জানান, শুভ দিন হিসেবে শ্রাবন মাসে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের দিন থেকেই তারা প্রতীমা নির্মাণের কাজে হাত লাগান। এর পর মূল প্রতীমায় মাটির প্রলেপের কাজ করেন মনসা পূজার পর থেকে। পাল পাড়ার শিল্পীরা ইতোমধ্যেই দেবীর প্রতীমা নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। এখন চলছে সর্বশেষ মাটির প্রলেপের কাজ। যাকে বলা হয় দো’মাটি করা। এর পর রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলবেন প্রতীমার দৃষ্টি নন্দিত রূপ।

তাদের বাড়ির শিল্পীরা জেলা ব্যতীত, নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার নড়াইলের কালিয় উপজেলার গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরী করেছেন। সকল প্রতীমার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এর পর চলবে আলোক সজ্জার কাজ। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বেড়ে চলেছে নির্মার শিল্পীদের ব্যস্ততা। মন্ডপে প্রতীমা নির্মাণের সাথে চলছে লোক সমাগমের জন্য স-ুদৃশ্য গেট ও প্যান্ডেল নির্মান। যাতে পুজার সময় করা হবে আলোক সজ্জা।

পঞ্জিকা মতে, ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্তলোকে দেবীর আগমনী বার্তা বেজে ওঠবে। ৪ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবীর নবপত্র কল্পারম্ভ ষষ্ঠী পূজা; ওইদিন মন্ডপে মন্ডপে বেঁজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাজনার শব্দ। ৫ অক্টোবর সপ্তমী পূজা, ৬ অক্টোবর মহা অষ্টমী পুজা,৭ অক্টোবর নবমী পূজা ও ৮ অক্টোবর দশমী বিহিত পুজা ও দশহরার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ব্যাপি পূজার অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) বলেন নড়াইল জেলা ও উপজেলায় প্রচুর পরিমান মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। শারদীয় দুর্গা পুজায় যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্ডপ এলাকায় চৌকিদার-দফাদার, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মন্দির কমিটি ও স্থানীয় সেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ‘সম্প্রিতি’ কমিটি গঠন করা হবে। পুজার সময় ৪টি থানার পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে থাকবে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্য। মন্ডপের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরীতে থানা পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি পুজা মন্ডপে র‌্যাব ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে অব্যাহত। পূজার ক’দিন নিরাপত্তার চাদরে থাকবে সমগ্র জেলা ও উপজেলার। উল্লেখযোগ্য সড়ক গুলোতে বসানো হবে চেক পোষ্ট ও নির্বিঘ্নে পুজা অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে যা যা করার তাই করা হবে। বিভিন্ন এলকা থেকে এখন পর্যন্ত পুজা মন্ডপ নির্মানের কথা তাদের জানিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আরও দু’একটি পুজা মন্ডপ বাড়তে কমতে পারে। এখন পর্যন্ত জেলা ও উপজেলার ইউনিয়নে। নির্বিঘ্নে পুজা করতে পুলিশ প্রশাসন পুজারীদের সব রকম সাহায্য সহযোগীতা করবেন বলেও জানান।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..