• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১২ অপরাহ্ন

যথাযথ নিয়ম মেনেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে বললেন ডিন

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৩৮ বার পঠিত

ঢাবি প্রতিবেদক: যথাযথ নিয়ম মেনেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। তিনি আরও দাবি করেছেন কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়েছে বা কোন বহিরাগতকে ডাকসু নির্বাচনে আনা হয়েছে বলে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা আট নেতাসহ ছাত্রলীগের ৩৪ নেতার ভর্তির বিষয়ে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেছেন,‌‘ইভিনিং প্রোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, এটা অনুষদের নিজস্ব প্রোগ্রাম। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের সার্কুলারের বাইরেও ভর্তি করানোর সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা একবার লিখিত পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হয়েছে, দ্বিতীয়বার দেয়ার যৌক্তিকতা নেই।’

ডিন বলেছেন,‘আমি মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা একবার তো ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। ইভিনিং প্রোগ্রামে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তাদেরকে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে লেখাপড়ার সুযোগ প্রদানের বিষয়টি দেড় বছর আগে অনুমোদিত হয়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের যথাযথ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার বিধানটি চালু আছে।’

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেছেন,‘ছাত্রদের আর্থিক অস্বচ্ছলতা, শারীরিক সমস্যা কিংবা পরিবারের প্রয়োজনে দিনে বেলায় অনেকেই চাকরি করে থাকেন; তাদের বিষয় বিবেচনা করে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ ওঠা ছাত্রদের বেলায় এটাই হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।’

প্রসঙ্গত, রোববার(৮ সেপ্টেম্বর) একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ডাকসু ও হল সংসদের আট নেতার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযুক্তরা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ায় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তারা ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একটি সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ওই কোর্সে ভর্তি হওয়া গেলেও তাদের কেউই তাতে অংশ নেননি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগের ৩৪ জন বর্তমান ও সাবেক নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং এ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন।

তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সম্পাদক ও সদস্য পদে মোট আটজন নির্বাচনে অংশ নেন, বিজয়ী হন সাতজন। হল সংসদের ভিপি পদে অংশ নেন দুজন। এরমধ্যে একজন নির্বাচিত হন এবং অন্যজন পরাজিত হন। অপরজন, ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য।

সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমে ভর্তির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এসব পরীক্ষার ফল, আগের একাডেমিক ফলাফল ও কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে সমন্বিত ফলাফল তৈরি করা হবে। ডাকসু নির্বাচনের আগে এই প্রোগ্রামের সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। ৩০ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় জানুয়ারিতে। কিন্তু এই ৩৪ শিক্ষার্থী ভর্তি হন ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসুর তফসিল ঘোষণার পর। তবে ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডিন আজ মঙ্গলবার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যথাযথ নিয়ম মেনেই ভর্তি নেয়া হয়েছে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..