• বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

কেন হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১
  • ৫৭

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

রোগীপ্রতি ব্যবহার ১৬ জোড়া গ্লাভস! ইকুইপমেন্ট আর ল্যাব খরচের নামে বিলের পাহাড়। রোগনির্ণয় আর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রয়োজন আর অপ্রয়োজনের ধোঁয়াশার ভুতুড়ে বিলে নিঃস্ব হওয়ার অবস্থা কোভিড রোগীদের। স্বাস্থ্য অর্থনীতি গবেষকরা বলছেন, হাসপাতালগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি গ্রেডিং পদ্ধতি প্রয়োজন। জবাবদিহি না থাকায় এমন স্বেচ্ছাচারিতা বলছেন স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসায় আইসিইউর বেড সংখ্যা ২২। আইসিইউর বেডপ্রতি ১৬ জোড়া গ্লাভসের বিল নেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন মোট ৩৫২ জোড়ার অর্থ রাখছে হাসপাতালটি। সে হিসেবে তিন বেলায় ১১৭ জোড়া ব্যবহার করার কথা, যা ব্যবহারের জন্য প্রতি বেলার ডিউটিতে থাকতে হবে ৩৯ জন কর্তব্যরত ব্যক্তি। কিন্তু তা কি আছে?

বেসরকারি হাসপাতালে এমন সব অস্বাভাবিক খরচের বোঝা নিচ্ছেন কোভিড রোগীরা। মাসে কেন ৮বার প্লাজমা খরচ নিচ্ছে হাসপাতাল বা দিনে রোগী প্রতি ১৬ জোড়া গ্লাভসের ব্যবহারের যৌক্তিকতা জানেন না কেউ। রোগীদের পাঠানো বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা কাগজ পর্যালোচনা বলছে, রোগনির্ণয় খাতে সরকারি হাসপাতালে যেখানে খরচ ২ দশমিক ৪ শতাংশ, সেখানে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ খরচ বেসরকারি হাসপাতালে। ফলে খরচের ভয়ে ঝুঁকি নিয়েই করোনা রোগীদের বাড়িতেই চিকিৎসা ব্যবস্থা করছেন স্বজনরা। যার ফলাফল আরো ভয়াবহ বলছে স্বাস্থ্য অর্থনীতি গবেষণা ইউনিট।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক (গবেষক) ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, সরকারি হাসপাতালে যেন চিকিৎসার মাত্র ৩ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়েছে তাদের ইনভেস্টিগেশনের জন্য আর বেসরকারি হাসপাতালে সেখানে ৪১ হাজার টাকা। প্রায় সাড়ে ১২ গুণ ব্যয় হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। সাধারণ রোগীর ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে ওষুধ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। আর বেসরকারি হাসপাতালে ৬৬ হাজারের মতো।    

এ ছাড়া বেশির ভাগ সময় পরীক্ষা নিরীক্ষার কারণও পরিষ্কার নয় রোগীদের কাছে। সেবার ব্যয় উচ্চমূল্যের কারণে চিকিৎসার মাঝেই হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন আবার অনেকে। তাই প্রয়োজন হাসপাতালের মান অনুযায়ী গ্রেডিং পদ্ধতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে অন্যান্য সার্ভিস যেগুলো আছে সেই জায়গাতেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যদি র‍্যাংক করা যেত যে, হাসপাতালের কাট্যাগরি এ, বি, সি অনুসারে তাহলে সেভাবে বিল করা যেত। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি।  

স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ দাখিলের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..