• রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৫:১২ অপরাহ্ন

জয়পুরহাটে আক্কেলপুরে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৬ শ্রমিক মারা যান। 

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩৭৮

জয়পুরহাটে আক্কেলপুরে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৬ শ্রমিক মারা যান। 

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরের একটি গ্রামে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে চার শ্রমিকসহ ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনাটি মর্মান্তিক। একইসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যুতে স্বভাবতই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যে সেপটিক ট্যাংকটিতে তারা নেমেছিলেন তার মুখটি অপেক্ষাকৃত ছোট হওয়ায় এবং তা ঢেকে রাখার কারণে ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর ফলে তাদের মৃত্যু হয়।

সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে মৃত্যুর খবর প্রায়ই শোনা যায়। এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে ম্যানহোল, কূপ, পানির ট্যাংক ও সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৮টি দুর্ঘটনায় উদ্ধারের জন্য দমকল বাহিনীর ডাক পড়েছিল। সেসব দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ২১ জন।

মাটির নিচে গর্ত দীর্ঘদিন বদ্ধ অবস্থায় থাকলে তার ভেতর অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, মিথেন, কার্বন মনোক্সাইডসহ নানা ধরনের বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে। বদ্ধ থাকার ফলে এসব গ্যাস ক্রমশ ঘন হতে থাকে, সেই সঙ্গে দেখা দেয় অক্সিজেনের ঘাটতি। কখনও কখনও এ ধরনের বদ্ধ কূপ একেবারে অক্সিজেনশূন্য হয়ে যেতে পারে। ফলে মানুষ এসব গর্তে ঢুকলে অক্সিজেনের অভাবে দ্রুত অচেতন হয়ে যেতে পারে এবং তার জীবন হুমকিতে পড়তে পারে। এ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের ধারণা না থাকায় মাঝেমধ্যেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

বস্তুত এ ধরনের কাজ করার সময় সংশ্লিষ্টদের অক্সিজেন মাস্ক ও অক্সিজেন ডিটেক্টর যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত। এগুলো পাওয়া না গেলে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সহজ কিছু উপায়ে সেপটিক ট্যাংক, কুয়া বা গভীর কোনো গর্ত কতটা নিরাপদ সেটা বোঝা সম্ভব। একটি হারিকেন বা কুপি জ্বালিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে তা সেপটিক ট্যাংক বা কূপের ভেতর নামিয়ে দিলে সেটি যদি দ্রুত দপ করে নিভে যায়, তাহলে বোঝা যাবে সেখানে অক্সিজেনের স্বল্পতা রয়েছে।

অথবা একটি মুরগির বাচ্চার পায়ে দড়ি ঝুলিয়ে গর্তের মধ্যে নামিয়ে দিলে যদি সেটি মারা যায় বা তার মরণাপন্ন অবস্থা হয়, তাহলেও বিপদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সমস্যা হল, এই সাধারণ বিষয়গুলোও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ জানে না। তাই আমরা মনে করি, এসব ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো উচিত। বিশেষ করে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যারা নিয়োজিত, তাদের মধ্যে এসব জ্ঞান ভালোভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর ফলে সেপটিক ট্যাংকে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..