• রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না’

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
  • ১০১

একে একে থলে থেকে বেরিয়েছে বেশ কিছু বিড়াল। তবে থলের মালিক কে? জানে না কেউ। বলছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কথা। করোনার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে, গ্রেফতারও হয়েছেন অনেকে। তবে এর কলকাঠি যারা নাড়ছেন তারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এজন্যই লাগাম টানা যাচ্ছে না দুর্নীতির। কিছুতেই মন্ত্রী জাহিদ মালেক এর দায় এড়াতে পারেন না বলেও মনে করেন তারা।

আইসিইউ আছে তবে অক্সিজেন নেই। নেই এক্সরে কিংবা রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা। চিকিৎসার নামে কেবল পকেট কাটা অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে পেয়ে যায় কোভিড হাসপাতালের স্বীকৃতি। মিলেছে বরাদ্দ। এমন কথা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রিজেন্ট আর সাহেদের কথা। করোনাকালে এমন কত ঘটনাই তো সামনে এসেছে। আরিফ আর সাবরিনা মন্ত্রণালয়ের গ্রিন কার্ড হাতে নিতে মনগড়া রিপোর্ট দিয়েছেন কত শত রোগীকে।

এরপরে মাস্ক আর পিপিই কেলেঙ্কারি। করোনা যুদ্ধে সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের এক রকম মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েই মানহীন মাস্ক আর পিপিই সরবাহের প্রমাণ মেলে। শুধু কী তাই, মেপিকের ইকুইপমেন্ট থেকে শুরু করে ওষুধ সরবারহ সবকিছুতেই অনিয়ম আর দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে। অধিদপ্তরের তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তাদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া আফজাল কিংবা মালেক ড্রাইভারের সম্পদের পাহাড় বেড়িয়ে আসে আড়াল থেকে।

চোখের সামনে যাদের দেখা গেছে তারাই উঠেছে কাঠগড়ায় অথচ এত্তো এত্তো অভিযোগ এত দুর্নীতির পেছনে কারা সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এক স্বাস্থ্যের সাবেক মহাপরিচালক ছাড়া এখনো মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরের কাউকেই কখনো আনা হয়নি অভিযুক্তের তালিকায়। ফলে গাছ কেটে নিলেও শেকড় রয়েছে রয়ে গেছে গভীরেই। এ দায় মন্ত্রী এড়াতে পারবেন না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সেনাল বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অথবা বা দুর্নীতির ক্রীড়নক হিসেবে যারা কাজ করে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু এই দুর্নীতি করার যে সুযোগগুলো তৈরি হচ্ছে, সেই সুযোগগুলো কেন তৈরি হচ্ছে, কিভাবে তৈরি হচ্ছে, কাদের দ্বারা তৈরি হচ্ছে সে জায়গাটা উদঘাটন হওয়া উচিত। দায়িত্ব কেউ এড়াতে পারে না। আপনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) সংস্থার প্রধান, অবশ্যই দায় নিতে হবে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুবই পুরাতন। পুরাতন নিয়ম বদলে নতুনে আনতে হবে। যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকেন তাকে দায়িত্ব নিতেই হবে।

স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা আনতে পুরো ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের তাগিদ দেন তিনি।সময় টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..