• বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

প্রথমবার ছেলে অ্যারেসকে নিয়ে ক্যামেরার সামনে মডেল পিয়া জান্নাতুল

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ২৩৭

‘প্রত্যেক নারীর জন্যই মাতৃত্ব এক অনন্য অনুভূতি। আমার বেলায়ও তা ব্যতিক্রম নয়।’ এভাবেই বললেন মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল পিয়া, যখন জানতে চাওয়া হলো তাঁর প্রথম মাতৃত্ব প্রসঙ্গে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছে। আরও জানালেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে যেমন কিছু মৌলিক চাওয়া থাকে, তাঁর জীবনেও তা–ই। আর তেমন চাওয়ার মধ্যে শুধু মাতৃত্বই বাকি ছিল। মা হওয়ার পর তাঁর কেমন লাগছে? এক কথায় জানালেন অ্যারেস হাসানের মা জান্নাতুল পিয়া, তিনি সুখী। ২ ও ৩ মে দুই দফায় মুঠোফোনে নিজের অনুভূতির কথা অধুনাকে বললেন পিয়া।

বদলে যাওয়া জীবন

মা হওয়ার আগে আর মা হওয়ার পরে, দুটি ধাপে জীবন ধরা দেয় ভিন্ন ধারায়, ভিন্ন রূপে। কেমন সে ভিন্নতা? পিয়া মনে করেন, সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধই সব ভিন্নতার মূলে। আগে হয়তো হুটহাট একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারতেন, হয়তো বাইরে যেতে ইচ্ছা করল, সেইমতো সাজিয়ে ফেলতেন একটা পরিকল্পনা। কিন্তু এখন হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবনায় আসে প্রাণপ্রিয় সন্তানের কথা। সন্তানের দেখভালের একটা না একটা ব্যবস্থা তো হতেই পারে, কিন্তু মায়ের নাড়িছেঁড়া ধনকে মায়ের মতো করে কেই–বা আগলে রাখতে পারে? তাই কাজের প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলেও পিয়া আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে নেন, যাতে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর স্বামী ফারুক হাসান কিংবা শাশুড়ি অ্যারেসের কাছে থাকে। কাজের সময়টা এমনভাবে ঠিক করে নেন, যাতে কাজটাও হয়, সন্তানের যত্নেরও ত্রুটি না হয়।

মা ও শিশুর সুস্থতায়

মা ও শিশু, দুজনের জন্যই প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস। তেমন অভ্যাস রপ্ত করেছেন পিয়া, গর্ভাবস্থায় তা মেনে চলেছেন। ব্যায়ামও করেছেন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে। গর্ভাবস্থায় কাজও করেছেন, বিশ্রামও নিয়েছেন পর্যাপ্ত। সন্তানের জন্মের পর তিনি নিজে সুস্থ আছেন, সুস্থ আছে তাঁর আদরের সন্তানটিও। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই পুরোটা সময়ে পিয়ার উপলব্ধি, অকারণে মোটেই কাঁদে না তাঁর সন্তান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ মেনেই সন্তান পালন করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেওয়া হয়নি অ্যারেসকে। আর এই সময়েও পিয়া সুষম খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়ামের অভ্যাস বজায় রেখেছেন।

মা পিয়া জান্নাতুল ও ছেলে অ্যারেস

মন থাক প্রফুল্ল

মনের প্রফুল্লতা সুস্থতারই অংশ। গর্ভধারণ এবং সন্তান পালনের সময়টাতে একা একজন নারীর পক্ষে সব দিক থেকে সব সময় ‘পজিটিভিটি’ ধরে রাখা সম্ভব না-ও হতে পারে। বিজ্ঞান বলে, হরমোনের প্রভাব পড়ে মনেও, তাই মন হয় এলোমেলো। এ সময় নারীর চাই মানসিক সমর্থন। জীবনসঙ্গী আর পরিবারের অন্য সবাই ছিলেন পিয়ার পাশে। মায়ের মনের আনন্দ, মনের শান্তি শিশুর জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় ভালো লাগার কাজগুলোই করেছেন পিয়া। ভালো লাগলে রান্না করেছেন, কখনো বই পড়েছেন, টেলিভিশনও দেখেছেন; কখনো আবার আঙুল রেখেছেন পিয়ানোয়, ডুবে থেকেছেন সুরের সাগরে।

ভাবনায় মাতৃত্ব

বিয়ের বেশ ক বছর পর প্রথমবারের মতো মা হয়েছেন পিয়া। তিনি মনে করেন, একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনার ইচ্ছা করতে হলে তার ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত সবার আগে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানান সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী করা হয় সন্তান পালনে অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়াটাকে। তাই জীবনের যে পর্যায়ে গিয়ে সন্তানকে সব দিক থেকে সুন্দরভাবে প্রতিপালন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছেন, সেই সময়েই পিয়া ভেবেছেন মা হওয়ার কথা; তাঁর স্বামী ও পরিবারের অন্যরাও তাঁর মতো করেই ভাবেন। পিয়া বড় হয়েছেন যৌথ পরিবারে, সন্তানকে সেই দারুণ পরিবেশটা দিতে না পারলেও অন্তত আপনজনদের সঙ্গ যাতে পায় অ্যারেস, সেটি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেন পিয়া। অ্যারেস এখন থেকেই ভিডিও কলে যুক্ত হয় তার নানির সঙ্গে। কথা বলতে না পারলে কী হবে, নিজের ভাষায় ঠিকই কিন্তু নানির সঙ্গে ভাব জমায় তিন মাস ছুঁই ছুঁই এই শিশু।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..