• বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

আপনি কি ফ্যাশন সচেতন?(ভিডিও)

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩৮৭

>বাংলারজমিন২৪/অনলাইন প্রতিনিধি-নিজেকে সময়ের সঙ্গে মেলাতে চাই সময় বুঝে ফ্যাশন। কিন্তু আপনার স্টাইল কোনটি? সেটি কে ঠিক করে? শৈলী জরিপে পাওয়া গেল উত্তর।
সময়ের সঙ্গে পাল্টাচ্ছে আমাদের পোশাকের ধারা। কয়েক বছর আগেও যা পরতে ভালো লাগত, তাও কেন যেন এখন বিদঘুটে মনে হয়। সময়ের সঙ্গে শুধু যে এর ডিজাইন পাল্টেছে তা নয়, সে সঙ্গে পাল্টাচ্ছে রঙের ব্যবহার। কিন্তু কোথা থেকে আসছে এসব পরিবর্তন। কারাই বা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এসব পরিবর্তনের? ডিজাইনাররা কি সেট করছেন এসব ধারা, নাকি তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন ক্রেতাদের চাহিদা আর রুচিকে? কিংবা আপনি আজ যে পোশাক পরেছেন তার সিদ্ধান্ত আপনাকে কে দিচ্ছে? নিজের রুচি আর চাহিদাই কি এর অন্যতম কারণ, নাকি আরামদায়ক কাপড়েই স্বাচ্ছন্দ্য খোঁজেন সবাই। টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে এমনই কিছু উপাদানের, যা আমাদের ফ্যাশনের নতুন ধারা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেলিব্রেটি, ডিজাইনার, সামাজিক রীতিনীতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং নিজস্ব চিন্তাচেতনা, যা প্রতিনিয়ত তৈরি করছে ফ্যাশনের নতুন ধারা।

  • বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া শেহরীন বলেন, দিন শেষে আমার কাছে স্বস্তিটাই বড় ব্যাপার। তাই পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে বরং নতুন ধারার পোশাক নয়, যা আমার মনের মতো হয় সেটাই বেছে নিই। আমি যেহেতু হিজাব পরি তাই হিজাবের সঙ্গে মানানসই হয় এমন পোশাকই আমার প্রথম পছন্দ। এ ক্ষেত্রে পছন্দের রঙ কিংবা কাটিংয়ের ক্ষেত্রে কখনও কখনও কিছুটা ভিন্নতা এলেও আরামদায়ক পোশাকের ব্যাপারটা সব সময়ই মাথায় রাখি।
  • সম্প্রতি শৈলী থেকে করা এক জরিপে উঠে এসেছে ফ্যাশন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের উত্তর। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ছিলেন বয়সে তরুণ। তাদের ৮৩ শতাংশই বলেছেন তারা নিজেরাই তাদের ধারা তৈরি করেন, অর্থাৎ তারা কী পরবেন সে সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের। এর কারণ জানাতে গিয়ে ৪২ শতাংশ বলেছেন, অন্যদের চেয়ে নিজেকে কিছুটা অনন্য দেখানোই এর মূল কারণ। ২৫ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের স্বাতন্ত্র্যবোধের পরিচয় প্রকাশ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এর মাঝে ৬৭ শতাংশ বলেছেন, ফ্যাশন যাই হোক না কেন, স্বস্তির ব্যাপারটাই বড়। ২৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের কাছে সুতার বুনন কিংবা কাপড়ের স্থায়িত্ব প্রাধান্য পেয়ে থাকে।
  • বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোস্তফা তানভির বলেন, বাসার সময়টাতে, অফিসের ক্ষেত্রে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পোশাকের ভিন্নতা সব সময়ই থাকে। এ ক্ষেত্রে আমি যে সব সময় নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড কিংবা ফ্যাশন হাউসের ওপর নির্ভর করি, ঠিক তা নয়। তবে আমি পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখি, যা পরলে আমাকে অন্যদের চেয়ে কিছুটা আলাদা মনে হবে, অন্তত আমার স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে এমন পোশাকই বেছে নেওয়ার। সেক্ষেত্রে শার্টের কলার কিংবা কাটিং প্রচলিত নিয়মে না করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী অন্য কিছু করারও চেষ্টা করি। তবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে পোশাক যতই আধুনিক হোক সেটা আর পরা হয়ে ওঠে না।
  • অন্য অনেক দেশের ফ্যাশন জগতের নিজস্ব পরিচয় থাকলেও আমাদের দেশে ঐতিহ্য বহন করা কিছু পোশাক আর রঙ ছাড়া কেন যেন সেভাবে নিজস্ব কোনো ধারা তৈরি হয়নি। নিত্যউপহারের কর্ণধার বাহার রহমান বলেন, আমাদের দেশে ৯৫ শতাংশ টিশার্টের ধারাই পশ্চিমা। ফ্যাশনে পরিবর্তন আনতে গেলে ধারাবাহিক চর্চার প্রয়োজন হয়। এটা একটি ধারাবাহিক চর্চার ব্যাপার। নিত্যউপহারের মাধ্যমে আমরা বিষয় কিংবা রঙের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি; কিন্তু আমরা তো সেই দাবিও করতে পারছি না যে, নিত্যউপহার নতুন করে কোনো ধারা সৃষ্টি করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো পরিবর্তন এসেছে। আজিজ মার্কেটের টিশার্ট এখন হয়তো কিছুটা পরিচিত।
  • ফ্যাশন ডিজাইনার বাহার রহমান বলেন, টিশার্ট কিংবা শাড়িতে ওই অর্থে পরিবর্তন বলতে কিছু নেই। অন্যান্য দেশে যেমন সবাই মিলেই নতুন ধারা তৈরি করছে, সেখানে আমাদের দেশে এখনও সে রকম কিছু হয়নি। এমনকি ভারত কিংবা পাকিস্তানে ওরা যেটা নতুন করে সৃষ্টি করছে তারা চেষ্টা করছে অন্য মার্কেটে কীভাবে সেটা পরিচিত করা যায়। নতুন ধারা তৈরি করতে আমাদের মনের জিনিস, প্রাণের জিনিস করতে হবে। ৫-১০ বছর পর গিয়ে আমরা হয়তো আমাদের নিজস্ব একটা জায়গা পাব। পাব নিজস্ব একটা ধারা।
  • মূল ব্যাপারটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও। তবে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, জরিপে অংশ নেওয়া ৪২ শতাংশ বলেছেন তাদের কাছে দামের চেয়ে বরং পছন্দমতো পোশাক পাওয়াটাই বড় ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে তাদের কাছে দাম মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। ৫০ শতাংশ বলেছেন, তাদের কাছে দামটা অত্যন্ত গুরুপূর্ণ।
    ফ্যাশন ডিজাইনার তাহসিনা শাহিন বলেছিলেন, দাম সব সময়ই মাথায় রাখতে হয়। কেননা ডিজাইন যেমনই হোক না কেন সেটা তো কাউকে না কাউকে মাথায় রেখেই করা হয়।
  • তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের ফ্যাশন ডিজাইনিং সেক্টরটাই নতুন। ফ্রান্সে যেমন দুই বছর আগেই ঠিক করে রাখা হয় নতুন করে কী করবে। আমাদের দেশে এখনও সেই ধারা তৈরি হয়নি। এখানে যারা কাজ করছেন তারা অধিকাংশই চারুকলার। নতুন যারা বের হয়ে আসছেন তারা ভালো করছেন। তবে নতুন ধারা তৈরি হতে সময় দিতে হবে। যেমন এখন হয়তো বড় কাটের কামিজ পরছেন সবাই। এর পর হয়তো ছোট কাটের কামিজ আসবে। এটা তো সবারই জানা। খুব ভিন্ন কিছু আসছে না। তবে আমাদের একদমই যে নতুন কিছু হচ্ছে না, তা নয়। এর সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত তারাই মূলত এটা সেট করছেন। যারা একেবারেই নিজের মতো কিছু বেছে নিতে চাচ্ছেন, তারা হয়তো দর্জির কাছে যাচ্ছেন।
    মজার ব্যাপার হচ্ছে, ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করছেন এটা মোটামুটি কঠিন পোশাক নির্বাচন করা। ৩৩ শতাংশ বলেছেন একেবারেই কঠিন নয়।লেখা : এম,এ,কাশেম পাপ্পু”! ছবি : অনলাইন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..