• বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২০ অপরাহ্ন

নড়াইলে হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১

শরিফুল ইসলাম, নড়াইল প্রতিনিধিঃ 

নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহানারা খানম লাকির বিরুদ্ধে ২১ মাসের ইউজার ফি-এর (হাসপাতালের বিভিন্ন খাত থেকে আয়ের টাকা) ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের
এ অর্থ জমা দেয়ার কথা। হিসাবরক্ষক ব্যাংকে অর্থ জমা দেয়ার কিছু চালান দেখাচ্ছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছেন এসব চালান জাল।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে জাহানারা খানম লাকির নির্দেশে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বদলিসহ সব কিছুই চলতো। এই নেত্রী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরকারি দলীয় স্থানীয়দের ম্যানেজ করেই আছেন বহাল তবিয়তে। জাহানারা খানম লাকি শহরের আলাদাতপুর এলাকার জেলা বিএনপির বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী মন্ডলের স্ত্রী। জাহানারা খানম লাকি ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক
হিসেবে যোগদান করেন। হাসপাতালের রোগি ভর্তি ফি, অপারেশন থিয়েটার, বহিঃ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা ফি, এক্সরে, প্যাথলজি, আলট্রাসনো ও ব্লাড ব্যাংক, কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ফি, অ্যাম্বুলেন্স, ইসিজি, কেবিন ও পেইন বেড ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে যে আয় হয় তা প্রতি মাসে একবার করে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দিতে হয় এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা
হয়। কিন্তু বর্তমান হিসাবরক্ষক হাসপাতালে যোগদানের পর কোনো অর্থ জমা দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতালে যোগদানের পর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ৪৫ লাখ টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ৯ মাসের ২৫ লাখ টাকা ব্যংকে জমা দেননি। তবে তিনি সোনালী ব্যাংকে এসব অর্থ জমা দেয়ার চালান দেখাচ্ছেন, যা ভুয়া বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাহানারা খানম লাকি বলেন, কিছু টাকা জমা দিতে বাকি আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দেবো। তবে কত টাকা বাকি রয়েছে তা বলতে পারেননি। এর বেশী আর কিছু বলতে চাননি। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.
আব্দুর শুকুর বলেন, ইউজার ফি সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা পড়ছে কি না তা যাচাই করার জন্য হিসাবরক্ষকের কাছ থেকে ব্যাংকের সই ও সিল স্বাক্ষরিত চালান নিয়ে মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখি গত ২১ মাসে ৭০ লাখ টাকার এক টাকাও জমা পড়েনি। সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার জানিয়েছেন চালানগুলোর সই ও সিল তাদের না।‘এ ঘটনার পর হিসাবরক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি এবং ৩ দিনের মধ্যে সমুদয় অর্থ ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য বলেছি। তার বিরুদ্ধে কেনো আইনুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জন্য তাকে চিঠি দেয়া হবে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষককে পরবর্তীতে ইউজার ফি জমা দেয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..