• শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করলেন। সুন্দরগঞ্জে কিশোরী ভাতিজীকে ধর্ষণ চেষ্টায় চাচা গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে এমপি’র সহায়তা প্রদান আজ ১৯শে ডিসেম্বর ২০২০ইং, আজকের রাশিফল। যুগান্তকারী অধ্যায়ে পৌঁছেছে বন্ধুত্ব, অর্থনীতি আরো সংহত করার প্রত্যয় লোহাগড়ায় কৃষকলীগ নেতার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ ‘মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি, পকেটের জন্য নয়’ যশোরে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান বিজয় দিবস পালিত  আল্লামা শফিকে হত্যার অভিযোগে মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা ৫৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, চালু হলো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করলেন।

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০
সুজন মহিনুল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীর বেশি (৫৫ বছর) বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি ট্রেন চলাচল।বৃহস্পতিবার(১৭ ডিসেম্বর)দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন থেকে এ রেলপথ উদ্বোধনের পর দুপুরে চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে পণ্যবাহী একটি ট্রেন ভারতের হলদিবাড়ির উদ্যেশ্যে ছেড়ে যায়।
বাংলাদেশের একটি রেল ইঞ্জিন ভারতীয় ৩২টি খালি ওয়াগন নিয়ে এ যাত্রা করে। এসব ওয়াগন হলদিবাড়ি রেলস্টেশনে রেখে পুনরায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরে আসবে ইঞ্জিনটি।
ব্রিটিশ আমল থেকেই চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দার্জিলিং থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত এ রেলপথে নিয়মিত একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করত।তবে ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।সে সময় এ রেল যোগাযোগকে ঘিরে চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মার্চেন্ট সমিতি। সেই স্মৃতি বহন করছে চিলাহাটি মার্চেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়।
আবার এ রেলপথ চালু হওয়ায় উৎসুক মানুষ দুপুরে ট্রেনের যাত্রা দেখতে চিলাহাটি স্টেশনের দুইপাশে ব্যাপক ভিড় করে।
১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর রেল যোগাযোগ বন্ধ হলেও স্বাধীনতার পর চিলাহাটিতে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চেকপোস্ট চালু হয়। তবে ২০০২ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থবির হয়ে পড়ে উত্তরের এ জনপদের ব্যবসা-বাণিজ্য।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল পূর্ণাঙ্গ একটি স্থলবন্দর। বর্তমান সরকার সেটি স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই আলোকে রেলসংযোগ স্থাপনের কাজটি সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ রেল পথ চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ রেলপথ উদ্বোধনে চিলহাটিতে এসে রেলপথ মন্ত্রী নূরল ইসলাম সুজন জানান, এ পথে দিয়ে আপাতত দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। দুই দেশের সম্মতিক্রমে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আমাদের বিশ্বাস উভয় দেশের সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে ২৬ মার্চেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করতে পারব।
বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী আশা ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এ পথ দিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারব। বাণিজ্য সম্প্রসারণ হলে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল সংযোগ পুনরায় চালুর উদ্বোধনের জন্য চিলাহাটি রেল স্টেশনকে বর্ণিল সাজানো হয়।
ট্রেন উদ্বোধনকালে চিলাহাটিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার,নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, সংসদ সদস্য জনাব রাবেয়া আলীম(সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩২৩) রেল সচিব সেলিম রেজা,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন,জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, নীলফামারীর পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান,রেল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী,বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি,গণমাধ্যমকর্মীরা সহ হাজার-হাজার উৎসুক মানুষ।
Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..