• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জ বাজুনিয়া-গান্ধিয়াশুর আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশা;সংস্কারের দাবী এলাকাবাসীর

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৩

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বাজুনিয়া-গান্ধিয়্শুর আঞ্চলিক সড়কটির বেহাল দশা।রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে।খানাখন্দ আর জল কাদায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।এ পথে চলাচল করা যানবাহন চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না হওয়ায় ঝুকি নিয়ে চলছে যাত্রি ও মালবাহি যানবাহন।

বাজুনিয়া থেকে গান্ধিয়াশুর ১৫ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ওই সড়কটির অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মারাত্মক ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়কে শত শত ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।কোথাও কোথ্ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল হচ্ছে। ভ্যানে ও ইজিবাইকে করে যাতায়াত করতে সময়ও বেশী লাগে। এলাকার মানুষের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি পন্য বিক্রির জন্য হাটে-বাজারে নিতে হয়। কিন্তু এই ভাংগা-চোরা সড়কের কারনে কৃষিপন্য নিয়ে ভ্যান চালকেরা যেতে চান না। গেলেও আবার অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়।এ ছাড়া এ এলাকায় জে,কে পলিমার ইন্ডাসট্রিসহ বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পন্য পরিবহনেও সমস্যা হয়।শুধু তাই নয় মুমুর্ষ রোগী ও গর্ভবতি মহিলাদের ওই রাস্তা দিয়ে নিযে যেতে খুবই অসুবিধা হয়।এলাকাবাসি দ্রুত এ সড়কটি সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন।

ভ্যান চালক বলেন, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু সড়কে বড় বড় গর্ত হওয়ার কারণে প্রায়ই ভ্যান উল্টে যায়। এছাড়া সময়ও লাগে দ্বিগুণ। ভ্যানের টায়ার ও টিউব পূর্বের থেকে কম সময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা।

স্থানিয় বাসিন্দা পলাশ মোল্লা, সঞ্জিত কির্কনীয়,কাগতি বালা বলেন,রাস্তার পিচ ও খোয়া এমনভাবে উঠে গেছে যে এটি যে একটি বিচঢালা রাস্তা তা বোঝার উপায় নেই, খানাখন্দে ভরা। একটু বৃষ্টি হলেই পিচঢালা এ রাস্তা পরিণত হয় কাদাময় সড়কে। এছাড়া অনেক জায়গায় ছোটখাটো খানাখন্দের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

জেকে পলিমার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক কামরুজ্জামান সিকদার,গৌরাঙ্গ বালা,সজল বালা বলেন, দীর্ঘ চার থেকে পাচ বছর ধরে গান্ধিয়াশুর থেকে বাজুনিয় ১৫ কিলোমিটার সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে চলা চলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে।আমাদের এলাকায় পলিমার ইন্ডাষ্ট্রিজসহ বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য চিটাগাং ও মোংলা পোর্ট থেকে প্রতিনিয়ত কাচামাল আসে।কিন্তু রাস্তাটি খারাপ থাকার কারনে মালামাল পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া কৃষকের উৎপাদিত ফসল পরিবহনে সমস্যার কারনে তারা ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।শুধু তাই নয় মুমুর্ষ রোগী ও গর্ভবতি মহিলাদের ওই রাস্তা দিয়ে নিযে যেতে খুবই অসুবিধা হয়। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন, আমি বাজুনিয়া-গান্ধিয়্শুর সড়কটি পরিদর্শন করেছি এবং এর দুরাবস্থা দেখেছি।বিষটি নিয়ে সওজ গোপালগঞ্জ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। অতিসত্তর ডিপিপি করে মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হবে।সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..