• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫১ অপরাহ্ন

কমলগঞ্জে বড় ভাই ঘরের দরজার সামনে বিষপানে বিদেশ ফেরৎ ছোট বোনের মৃত্যু

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৭

কমলগঞ্জ,মৌলভীবাজারঃ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের প্রথম স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর কাছে একমাত্র ছেলেকে রেখে স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য গিয়েছিলেন বাদে সোনাপুর গ্রামের মৃত বশির মিয়ার মেয়ে পারুল বেগম (৩৫)। মায়ের অসুস্থ্যতার কথা শুনে পারুল বেগম করোনা দুর্যোগ শুরুর আগেই দেশে ফিরেন। দেশে ফিরে ভাই বাছিত মিয়ার কাছে তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে শুরু হয় বিরোধ। এ নিয়ে নিকট আত্নীয়দের কাছে বিচার চেয়ে কোন বিচার না পেয়ে অবশেষে রোববার (২ আগষ্ট) রাত ১২টায় বড় ভাই বাছিত মিয়ার বসত ঘরের দরজার সামনে বিষপানে আত্নত্যা করেন বিদেশ ফেরৎ ১ সন্তানের জননী পারুল বেগম।

বাদে সোনাপুর গ্রাম ও তার আত্নীয় স্বজন সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে থাকাকালীন পারুল বেগম অর্জিত টাকা তার ভাই বাছিত মিয়ার কাছে পাঠাতেন। দেশে ফেরার পর ভাই বাছিত মিয়া বোনের টাকা ফেরৎ না দিয়ে উল্টো তার ওপর নানাভাবে অত্যাচার করতেন। ফলে পারুল বেগম নিকট আত্নীদের কাছে এসব ঘটনার বিচার প্রার্থনা করে তাদের বাড়িতে থাকতেন। ঈদের সময় কেনা কাটার জন্য ভাইয়ের কাছে টাকা চেয়ে তিনি পাননি। এ অভিমানে ঈদের পরদিন রবিবার দিবাগত রাত ১২টায় ভাইয়ের বসত ঘরের দরজার সামনে বিষ পান করে বিদেশ ফেরেরৎ পারুল বেগম। তাকে উদ্ধার করে রাতেই কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে পারুলের লাশ উদ্ধার করে। সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পেরণ করা হয়। বাছিতের স্ত্রী রেবা বেগম বলেন আমরা ঈদের আগের দিন টাকা দিযেছি আত্যহত্যার রাতের দিন পুলিশ ১৯ হাজার টাকা বেগ তেকে পায়। শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি এস আই শাহা আলম বলেন আমরা এইধরনে টাকা পয়সা পাইনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মারা যাওয়া পারুল বেগমের এক আত্নীয় সজন বলেন, তার টাকা পয়সা বড় ভাই আত্যসাৎ করেছেন। টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। এসব ঘটনার বিচার চেয়েও তিনি বিচার না পেয়ে অভিমানে আত্ন্যহত্যা করেছেন।

নিহত পারুলের বড় ভাই বাছিত মিয়া বলেন, সে বিসপানে আত্ন্যহত্যা করেছে ঠিক তবে সে এমনিতেই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তার কোন টাকা পয়সা কেউ আত্ন্যসাৎ করেনি।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নারীর মৃত্যু নিয়ে অনেক গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। পুলিশি তদন্তকালে এসব গুঞ্জন গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..