• বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

কালিহাতীতে ব্রীজ আছে, চলাচলের রাস্তা নাই!!

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ২২১

ফুয়াদ হাসান রঞ্জু,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

ব্রীজ আছে, রাস্তা নাই ! টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নগরবাড়ি মোদকপাড়া গ্রামে এক ব্যক্তির বসতবাড়ির সামনে ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রীজের এক পাশে রাস্তা থাকলেও অন্যপাশে নেই রাস্তা। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২৩ লক্ষ ৪৫ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয় এই ব্রীজটি। তখন তার বাড়ির প্রায় দেড় শতাংশ জায়গা সেখানে চলে যায় । আবার সেখান দিয়ে নতুন করে রাস্তা তৈরি করা হলে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির প্রায় পুরো জায়গাই চলে যাবে। এ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ব্রীজ নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার অনুরোধ করেও কোন কাজ হয়নি।

নগরবাড়ী খেজুর তলা পাকা রাস্তা হতে নারান্দিয়া বাজার রাস্তায় ঠান্ডু মেকারের বাড়ির নিকট খালের ওপর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তরের সেতু / কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়ক থেকে নারান্দিয়া বাজার এলাকা দিয়ে কিছুদূর গেলেই সেই ব্রীজটি । একপাশে রাস্তা থাকলেও ব্রীজের উঠার স্থানে মাটি ধসে গেছে। অপরপ্রান্তে কোন রাস্তা নেই। সেখানে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ কিসমত আলীর বসতবাড়ি। ব্রীজ ঘেষে তার কাঠবাগান। সেই বাগানের ভেতর দিয়েই মানুষ যাতায়াত করছে।

কিসমত আলী জানান, “হঠাৎ করেই একদিন তার বাড়ির পূর্বপাশে খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের জন্য তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর লোকজন নিয়ে উপস্থিত হন। তখন তাকে জানানো হয় ব্রীজ নির্মাণের কথা। এ নিয়ে আপত্তি করলে মোজহারুল ইসলাম তালুকদার তাকে কড়া ভাষায় শাসান। বেশি আপত্তি করলে তার সবটুকু জায়গা নেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি অনুরোধ করেন, ব্রীজটি একটু বাঁকা করে নির্মাণ করতে। এতে তিনি তার এক অংশের প্রায় দুই শতাংশ জায়গা ছেড়ে দিতেও রাজি হন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। ব্রীজ করতে গিয়ে তার লাগানো প্রায় ৩০ টি গাছ কাটা হয় বলে কিসমত আলী অভিযোগ করেন। এখন সেখান দিয়ে রাস্তা নেয়া হলে বাড়ির জায়গাই থাকবে না।” কিসমত আলীর ভাই শরবত আলী বলেন, ব্রীজ করার সময় অনেক কান্নাকাটি করছি। কোন কাজ হয় নাই।

এ ব্যাপারে কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন বলেন, “আমি নতুন এসেছি। লোক পাঠিয়ে খবর নিয়েছি এবং ব্রীজের ছবি দেখেছি, শুকনো মৌসুমে খালের পাশ দিয়ে রাস্তা করে দিব। যাতে কিসমত আলীর কোন ক্ষতি না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..