• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১১ অপরাহ্ন

কোলকাতা শহরে রাতদিন…….

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৬৬ বার পঠিত

 

বাংলাদেশ সরকারের সম্ভবতঃ বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের একটি বিজ্ঞাপন ছিল” দেশী পন্য কিনে হোন ধন্য” মাননীয় সরকার বাহাদুর বাংলাদেশ সবচেয়ে নিকটতম বিদেশি শহর কোলকাতায় গিয়ে আপনাদের বিজ্ঞাপনের অপমৃত্যু দেখে আসুন।

কলকাতা শহরে তিনদিন থাকলেই যে তিনটি জিনিস আপনার চোখে পড়বে কুকুর, দালাল ও অশ্লীল পোষাকের নারী।

গত চার বছর আগে ভারতের নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আমি ভারতে ছিলাম, মোদী ঝরে কাঁপছিল গোটা হিন্দুস্থান। স্পষ্টই মনে পরে নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু বিমান বন্দরে ডুকার মুখে একটি বড় আকারের বিলবোর্ডে লেখা ছিল “বহুত হওয়া নিন্দাবাদ আপকা বার মোদি সরকার”। সে বারই নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধান মন্ত্রী হন।

কাকতালীয় ভাবে এবারও ভারতের নির্বাচনের আগেই ঘোরে আসলাম ভারত, এবার কেমন জানে মোদির পালে হাওয়া কম। পশ্চিমবঙ্গ কাঁপাচ্ছে তৃনমুল কংগ্রেসের মমতা দিদি। মেট্রোরেলে মহানায়ক উত্তম কুমার রেলস্টেশনে নেমে হাতের বামপাশ্বে তাকালেই চোখে পড়বে আরেকটি বিলবোর্ড “মোদি বহুত খাওয়াইছ ঘাস, এবার দিদি তোমায় দিবে বাঁশ”।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরের বিভিন্ন দেওয়ালের লিখন ও বিলবোর্ডের লেখা আপনি ভালোভাবে দেখলে রীতিমতো চকমকে যাবেন। কলকাতা শহরের এটিও একটি পন্যের বিজ্ঞাপনেরই ডায়লগ, “বিজ্ঞাপনে ষোলকলা বাস্তবতবে কাঁচাকাল”।

চোখকান খোলা যে কোন বাংলাদেশী মানুষ রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যাবে কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের মানুষের কেনাকাটা দেখে।

আপনি অবাক হবেন হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন কোলকাতা যাচ্ছে শুধু মাত্র কেনাকাটা করার জন্য। চুলের শ্যাম্পু থেকে নিয়ে নখ কাটার মেশিন, চানাচুর থেকে নিয়ে তরকারি রান্নার গরম মশলা, জাঙ্গিয়া থেকে নিয়ে শার্ট, প্যন্ট, থ্রীপিচ, শাড়ি, কসমেটিক এমনকি কপালের টিপটা পর্যন্ত কোলকাতার বাজার থেকে কেনাকাটা করে। দেশের মার্কেটে বসে বসে দোকানীরা মশা-মাছি মারে।

আমাদের বাংলাদেশীদের সৌর্য বীর্য, ক্ষমতা দাপট, শুধু মাত্র বাংলাদেশের রিকশার ড্রাইভার, হোটেলের বয়, ভিক্ষারীদের জন্য বরাদ্দ। একটু পান থেকে চুন খসলেই ক্ষমতার দাপট আর দেখে কে।

কোলকাতার শহরে হরহামেশাই আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার, টেক্সির ড্রাইভার, রিক্সাওয়ালা, দোকানদার অল্পতেই বাংলাদেশীদের সাথে দূর্ব্যবহার করে, আবাসিক হোটেলের দালাল, খাবার হোটেলের দালাল, দোকানের দালালতো রীতিমতো আপনাকে হাটতেই দিবেনা। বাংলাদেশেরীরা তা চোখ বুঁজে সহ্য করে, আরো দিগুণ উৎসাহে কেনাকাটা করে। কারন বাংলাদেশীদেরতো সকল ক্ষমতা দাপট দেশের গরীব মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকে।

আমার বুকের মঝে সঞ্চিত দেশ প্রেম থেকে বলছি, প্রয়োজন পড়লে কোলকাতা শহরে আরো শতবার যাব, কিন্তু দেশে প্রয়োজন এমন কোন জিনিস কোলকাতা থেকে কিনবো না। কেউ না মানলেও আমি মানব “দেশী পন্য কিনে হবো ধন্য”।

কোলকাতা থেকে ঘুরে এসে অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন জাকির হোসেন।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..