• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

জন্মদিনে মাইকেল জ্যাকসনের কিছু অজানা তথ্য

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৯
  • ৪১ বার পঠিত

প্রয়াত ‘পপ কিং’ মাইকেল জোসেফ জ্যাকসনের ৬০তম জন্মদিন আজ। ১৯৫৮ সালের আজকের এই দিনে গ্যারি ইন্ডিয়ানায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।  জ্যাকসন পরিবারের ৭ম সন্তান মাইকেল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তখন জ্যাকসন ফাইভ নামের সঙ্গীত গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে গান গাইতেন।

তার জীবনটাই রহস্যে ঘেরা। এতে আরও রহস্য ঢেলে দেয় তার আকস্মিক মৃত্যু। তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় তারই ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. কনরাড মারেকে এবং সে কারণে তাকে চার বছরের জন্য কারাদণ্ডও দেয়া হয়। এক মাইকেল জ্যাকসনের যত ক্রেজ ছিল এবং যতটা উন্মাদ ফ্যানবেজ ছিল, সেটা মনে হয় একক কোন শিল্পীর ক্ষেত্রে ছিল না।

‘পপ কিং’ এর জন্মদিনে জেনে নেয়া যাক তাকে নিয়ে কিছু অজানা কথা।

★মাইকেল জ্যাকসনের একটি অ্যালবামের ৫ টি গান বিলবোর্ডের ১ নং অবস্থান অর্জন করে। মিউজিকের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিলো অভূতপূর্ব।

★মাইকেল জ্যাকসন দু’বার রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফেইমে নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনিই এই পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি যিনি গান লেখক,নাচের (সর্বপ্রথম এবং একমাত্র),”আর এন বি” হল অফ ফেইমে যায়গা করে নিয়েছেন। সঙ্গীত জগতের কেউ এত ক্যাটাগরিতে হল অফ ফেইমে নিজেকে নিতে পারেন নি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে মাইকেল সর্বকালের সবচেয়ে সফল শিল্পী – ১৩টি গ্র্যামি পুরস্কার, ১৩টি ১নম্বর একক সঙ্গীত, এবং ৩৫ কোটিরও বেশি মাইকেলের অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে।

★২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫শে জুন মাইকেল জ্যাকসন মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে সারা পৃথিবীতে আলোড়ন পরে যায়। তার মৃত্যুর ফলে পৃথিবীর ইন্টারনেট ব্যাবস্থা এক প্রকার ভেঙে পড়ে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পৃথিবীর সকল অঞ্চল থেকে তার ভক্ত ও সাধারণ মানুষ গুগল এ সার্চ করা শুরু করে। “Michael Jackson” শব্দটি এত বেশি(মিলিয়ন মিলিয়ন) ইনপুট হবার কারনে তারা ভেবেই বসে DDoS Virus এ তাদের সার্চ ইঞ্জিন আক্রান্ত হয়েছে যার ফলে তারা প্রায় ৩০ মিনিট গুগল বন্ধ রাখে। উইকিপিডিয়া তে ১ ঘন্টার মধ্যে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ মাইকেলের বায়োগ্রাফি দেখে, আর এই চাপ উইকিপিডিয়া লোড নিতে সক্ষম না হওয়াতে Crash করে(পরে কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের ইতিহাসে এরকম ঘটনা এই প্রথম), একই রকম ভাবে টুইটার-ও Crash হয়,যেখানে মোট টুইটের ১৫ % মেনশন করা হচ্ছিল মাইকেল (প্রতি মিনিটে ৫০০০+ টুইট)।

এছাড়াও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে,ইন্টারনেটে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারন ইন্টারনেট ট্রাফিকের ১১% হতে তা ২০% এ উন্নিত হয়। এমটিভি ২৪ ঘন্টা ধরে তার মিউজিক ভিডিও, ডকুমেন্টারি, ভক্ত, ফ্যামিলি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার শেষ কৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠান পৃথিবীর ২.৫ বিলিয়ন মানুষ সরাসরি টেলিভিশন ও অনলাইনে দেখে,যা এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ কারো কৃত্যানুষ্ঠান দেখা হয়েছে।

★ তার দানকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলার.

★জীবদ্দশায় নিজের অর্থায়নে লিউকেমিয়া এবং ক্যান্সার ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন মাইকেল জ্যাকসন। শিশুদের জন্য এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য তিনি কোটি কোটি ডলার দান করে গেছেন। ১৯৯৬ সালে তার আয়ের অর্থ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।

★পপ সংগীতের রাজা মাইকেল ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুরাগী। অবসর সময় শুনতেন বেঠোভেন এর গান।

★মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন বইয়ের পোকা। একবার লাস ভেগাস-এর একটি বইয়ের দোকান তাঁর খুব পছন্দ হয় এবং তিনি সেটা কিনে নেন এক লক্ষ ডলার এর বিনিময়ে।

★বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বার পুরস্কৃত হওয়া শিল্পী হলেন মাইকেল জ্যাকসন।

★মার্কিন এই পপসম্রাটের শিল্প ছিল আগাগোড়া চমকে মোড়ানো। তাই প্রয়াত তারকাদের মধ্যে আয়ের দিক দিয়ে তিনি এখনও আছেন ওপরের সারিতে।

তিনি যেন থেকেও নেই। তার অমর সব সৃষ্টি নিয়ে আজও সংগীতপ্রিয় মানুষেরা গর্ব করে। সময় এর থেকে এগিয়ে থাকা আর্টিস্ট ছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..