• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১১ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গারা ফিরে যাক তাদের আরাকান রাজ্যে সেটাই হোক আজকের দাবী-এম,এ,কাশেম পাপ্পু

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩১৮০ বার পঠিত
রোহিঙ্গারা ফিরে যাক তাদের আরাকান রাজ্যে সেটাই হোক আজকের দাবী-
 এম,এ,কাশেম পাপ্পু

কথায় আছে- “দু’পেট খাবার দিতে প্রস্তুত সবাই কিন্তু থাকার জায়গা না”। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মহান মানবতার পরিচয় দিয়েছে। যেখানে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো এমনকি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোও প্রায় নিরব ভূমিকা পালন করছে। অথচ কম আয়তন নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সাধ্যের অধিক করে যাচ্ছে।

এটা ভেবে অবাক লাগছিলো যে, কয়েক বছর থেকে মিয়ানমার রোহিঙ্গা সংকট অথচ রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব দেওয়ার মত কেউ নেই! একটা নেতৃত্বহীন জাতি কিভাবে ধংস হয় রোহিঙ্গাদের দেখে গত দুই বছর আগে বুঝা যাচ্ছিলো ।
কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের দুই বছর আগে আমরা মানবতার কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু সেই মানবতাই এখন আমাদের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের কে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে দেশ বিদেশের ভিবিন্ন এনজিয় গুলু এখন থাদের কে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে ।

অথচ গত দুই বছর আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব দেওয়ার মত কোন ব্যাক্তি বা এনজিয় ছিলোনা।
রোহিঙ্গা পরিবারগুলো ছিল পরস্পর বিচ্ছিন্ন সেখানে সভা-সমাবেশ তো দূরের কথা, গ্রামের বাইরে বের হতেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হতো।
মিয়ানমার বাহিনীর হামলা থেকে প্রাণে বাঁচতে এ দেশে ছুটে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে অতিথির মতোই স্বাগত জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আসা রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ গত রবিবার একটি সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন

সে রোহিঙ্গারা এক বিশাল সমাবেশে বলেছে, একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।
রোহিঙ্গাদের সুসংগঠিত বিপুল জমায়েত ও কঠোর বক্তব্যে বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এখন সবার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি তারা মাত্র দুই বছরে এখানে এত সংগঠিত কিভাবে হলো? শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীকে ইংরেজিতে লেখা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার কারা সরবরাহ করেছে? বিশাল আকৃতির ব্যানারগুলোই বা তারা কোথায় পেয়েছে?
সমাবেশটির আয়োজনের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সমাবেশ আয়োজনে
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের সহযোগিতা করেছে।

বিশ্ব নেত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে স্যালুট।
আপনি কত মহৎ তার জলন্ত উদাহরণ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া। বর্তমান পৃথিবীতে আপনি একমাএ রাষ্টনায়ক যিনি কিনা কোন সার্থ ছাড়া অন্যদেশের অত্যাচারিত মানুষদের আশ্রয় দিয়েছেন পাহাড় কেঁটে বস্তি তৈরি করে দেওয়া,ত্রান দেওয়া, এবং তাদের নির্যাতনের চিত্র,ভিডিও, বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অকুণ্ঠ সর্মথন আদায় করা আরো অনেক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাকছেন।

যেহেতু আমাদের দেশে এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতেই হয়েছিলো।
বাংলাদেশ সরকারের এখন মূল কাজ হবে
জাতিসংঘ সহ বিশ্বের ভিবিন্ন দেশের মাধ্যমে
মিয়ানমার সরকার কে চাপ সৃষ্টি করে তার দেশে রোহিঙ্গাদের যেন ফেরত নেয়ে।
রোহিঙ্গারা ফিরে যাক তাদের আরাকান রাজ্যে সেটাই হোক আজকের দাবী

আর যদি ফেরত না নেয়ে তাহলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘের এবং অন্যান্য দেশ গুলো সঙ্গে চুক্তি করা। অন্তত রি-সেটেল্ড রেফিউজি কোটায় এই রোহিঙ্গারা যাতে অন্যান্য দেশে আশ্রয় পায়।
এছাড়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও হতে পারে নানান দেশের সঙ্গে। যাতে অন্তত অর্ধেক কিংবা একটা মোটামুটি সংখ্যার রহিঙ্গা শরণার্থীদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা যায়।

এই কাজটি ঠিক এই মুহূর্তে’ই করতে হবে। কারন এটি এখন বিশ্ব-মিডিয়ায় স্থান পাচ্ছে। ভুলে গেলে চলবে না, দ্বিতীয় বিশ্ব-যুদ্ধের পর এই মুহূর্তে পৃথিবী সব চাইতে ভয়াবহ শরণার্থী সমস্যার মাঝ দিয়ে যাচ্ছে । আমার মনে হয় বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে এখন’ই এই ব্যাপারটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..