• রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৫:২২ অপরাহ্ন

ম্যাজিষ্টেটকে অবরুদ্ধ করে ৫ আসামী ছিনতাই আ.লীগ নেতার

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ২৩৫

রাজিব হোসেন রাজন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার সময় আট ব্যক্তিকে আটক করেন উপজেলা ভূমি কার্যালযের সহকারি কমিশনার ।

ভ্রাম্যমান আদালতের ওই নির্বাহী ম্যাজিষ্টেটকে অবরুদ্ধ করে আটক পাঁচ আসামীকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নড়িয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তফা সিকদারে বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় পুলিশ তার ভাই সুমন সিকদকরকে আটক করেছেন।

নড়িয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যাল সূত্র জানায়,নড়িয়ার পদ্মা নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তফা সিকদার। তিনি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তারের স্বামী।

মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ও নড়িয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার রাশেদুজ্জামান ওই খননযন্ত্রটি জব্দ করেন। সেখানে বালু উত্তোলনে জরিত আট ব্যক্তিকে আটক করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামীদের নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের দল নড়িয়া লঞ্চঘাট এলাকায় পৌছলে মোস্তাফা সিকদার ও তার ভাই সুমন সিকদারের নেতৃত্বে তার সমর্থরা ভ্রাম্যমান আদালতের ওই দলকে অবরুদ্ধ করে পাঁচ আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট মোস্তফা সিকদারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলে সে দৌড়ে পালায়। তখন পুলিশ তার ভাই সুমন সিকদারকে আটক করেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নড়িয়া উপজেলা আ.লীগের এক নেতা বলেন,ভাঙন ঠেকাতে নড়িয়া লঞ্চঘাট এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ওই ঠিকাদারি কাজটি করছেন মোস্তফা সিকদার। তিনি ওই কাজে ব্যবহারের বালু অবৈধ ভাবে পদ্মা নদী থেকে উত্তোলন করছিলেন।

উপজেলাভূমি অফিসের অফিস সহায়ক রতন কুমার দে জানান, নড়িয়ার পদ্মা নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন আ.লীগ নেতা মোস্তফা সিকদার এই খবর শুনার পর সেখানে আমরা অভিযানে গেলে ভিপি মোস্তফার লোকজন আমাদের হামকি হুমকি দেয় এবং বলে কাউকে নিতে পারবে না, আমরা লঞ্চ ঘাটে আসলে ভিপি মোস্তফাসহ তার লোক জন আমাদের উপর হামলা করে আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

মোস্তফা সিকদারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী নড়িয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার স্বামী অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের সাথে যুক্ত নয়। তিনি নড়িয়া লঞ্চঘাট এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ করছেন। তখন সেখানে হৈচৈ দেখে এগিয়ে যান। ওই সময় এসিল্যান্ড তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলে সে দৌড়ে পালায়।

নিবার্হী ম্যাজিষ্টেট ও উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার রাশেদুজ্জামান করেন,নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করার সময় একটি খনন যন্ত্র জব্দ করি। এ কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটজনকে আটক করি। স্থানীয় এ আ.লীগ নেতা ওই খনন যন্ত্র ও আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়। সে বারবার পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের রেফারেন্স দিচ্ছিলেন আর আমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছিলেন। পরবর্তীতে তাকে আটক করার নির্দেশ দিলে সে পালায়। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করা হবে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন,সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আর ওই আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..