• রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

পানের গোড়াপচা প্রতিরোধী জাত শনাক্ত

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৭৮

 

ওলী আহম্মেদ
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

আবহমানকাল থেকেই দেশে পানপাতা মোটামুটি সব বয়সি মানুষের কাছে সমাদৃত হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে পান একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত। তবে পান উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠীকে সচরাচরই পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। মৃত্তিকাবাহিত গোড়াপচা (ফুট অ্যান্ড রুটরট) রোগ এ দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। ৪-৫ বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা বিশাল পানের বরজ নিমিষেই বিনষ্ট করতে এ রোগ আবির্ভূত হয় যমদূতরূপে। সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এক গবেষণায় লালডিঙ্গি নামক স্থানীয় একটি পানের জাত শনাক্ত হয়েছে যা সম্পূর্ণরুপে পানের রোগ প্রতিরোধী।

শেকৃবি উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট’র (বারি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।

কথা বলে জানা যায়, গবেষণাকারী দল প্রথমত ৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৩টি স্থানীয় পানের জাত সংগ্রহ করে প্যাথোজেন আইসোলেশন এর মাধ্যমে একই ক্ষতিকর জীবাণুর ২০ থেকে ২৫ টি ধরণ শনাক্ত করেন।

গবেষণাকালীন সময়ে গোড়াপচা রোগে আক্রান্ত গাছ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় বরিশালের গৌরনদীতে ও চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায় সবচেয়ে কম। চলমান এ গবেষণা থেকেই পরবর্তীতে ‘লালডিঙ্গি’ নামক একটি স্থানীয় জাত শনাক্ত করতে সক্ষম হন গবেষকদল যা সম্পূর্ণরুপে সংশ্লিষ্ট রোগ প্রতিরোধী।

গবেষকদলের প্রধান ড. রফিক বাংলার জমিনকে বলেন, ছত্রাকজনিত এ রোগ সরাসরি পানগাছের মূলে আক্রমণ করে বিধায় মূল পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ক্রমেই গাছের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়াতেও ব্যাঘাত ঘটে ফলে গাছ মরে যায়। মাটিবাহিত রোগ হওয়ায় পুরো বরজেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ফলে কাক্সিক্ষত উৎপাদনমাত্রা তো দূরের কথা পুরো পুঁজিই হারিয়ে বসেন চাষিরা। তিনি জানান, ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি ঘটে। লালডিঙ্গি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্বিক সহায়তা পেলে জাতটির উন্নয়নকল্পে ধারাবাহিক আরও কিছু কাজ সমাপ্ত করে পান চাষিদের কল্যাণে একটি নতুন উন্নত জাত অবমুক্ত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..