• সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

জাপানে ক্যারিয়ার গড়লেন বেরোবির সৌরভ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৮৭

ইসমাইল রিফাত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় , রংপুর

মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। মানুষ জীবনে যা ভাবে, জীবনকে যেমন দেখতে চায় সেটার প্রতিফলন ঘটে স্বপ্নে। কোন স্বপ্ন পূরণ হয় কোনটা পূরণ হয় না। তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে। তেমনি একজন স্বপ্নের পথিক হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাফি উদ দৌলা সৌরভ ।

 

শাফি উদ দৌলা সৌরভ বেড়ে উঠেছেন নানা বাড়িতে । গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামে। তবে এলাকায় সবাই সৌরভ নামেই চেনেন। বাবা মো সিরাজুল ইসলাম দশম শ্রেণীতেই বাবাকে হারিয়েছেন। তাই মা শাহিনুর বেগমকেই সামলাতে হয়েছে একটি যৌথ বড় পরিবার কে। মা পেশায় একজন সরকারি চাকুরীজীবি । ১১ ভাই-বোন । ভাইদের মধ্যে সৌরভ সবার ছোট , তার ছোট দুই বোন যার একজন পড়াশুনা করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েই ।

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পূর্ণ করেছেন তিনি। পড়াশুনা শেষ করে তার বন্ধু-বান্ধবরা যখন চাকরির পেছনে ছুটছেন। তখন তিনি চাকরির সুযোগ পান জাপানের টোকিও শহরে । দেশ ছেড়েছেন চলতি মাসের ২৪ তারিখ।

অনার্স শেষ করইে নিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ মিজানুর রহমানের “সেমান্টিক ল্যাব”এ রচিার্সার ও ডিভেলপার হিসেবেই তার হাতে খড়ি। সেখান থেকেই জাপানের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজেন্স প্রতিষ্ঠান ”ÒDeloitte Touch Tohmatsu LLCÓ ” রিক্রুটমেন্ট ভাইভা নেয় । ভাইভা প্রসেসিং চলে প্রায় এক বছর ধরে । সর্বশেষ এই বছরেই ওরা অফার লেটার পাঠিয়ে দেয়। মুলত এই প্রতিষ্ঠানটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে রিসার্চ করে। সৌরভ সেখানেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইঞ্জিনিয়ার পদে ১ সেপ্টেম্বরেই যোগদান করবেন ।

 

ছোট থেকে কি হবেন এমন করে সাজানো ছিলো না তার স্বপ্নে । তবে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের কনটেস্টে অংশগ্রহণ করতেন, সর্বশেষ বাংলাদেশ ইউথফেস্ট-২০১৬ ডিভিশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। স্বপ্ন দেখতেন মানুষের কর্মসংস্থান করার । সেই লক্ষ্যেই তিনি আর তার বান্ধুবী মিলে গড়েছেন ‘খাইদাই টুডে” নামে অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান । যা এখন রংপুর ও বগুড়া পর্যন্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

 

সৌরভ ছিলেন মিশুক স্বভাবের। তাইতো টানা ৬ টা সেমিস্টারেই ছিলেন ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সি-আর)। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও । জুনিয়রদের সাথে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়ায় ক্যাম্পাস জীবনে সেরা সময় কাটিয়েছেন তাদেরকে ঘিরেই। পড়াতে ভাল লাগত বলে করাতেন টিউশনি । সৌরভ ছলিনে ভ্রমণপ্রিয় সময় পেলেই প্রচুর ঘোরাঘুরি করতেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়নরত রংপুরের শিক্ষার্থীরা যখন ছুটিতে রংপুরে আসত তাদের সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন । এভাবেই বিভাগের শিক্ষক থেকে শুরু করে সিনিয়র জুনিয়রের সবার প্রিয় মুখ হয়ে উঠেন সৌরভ!

 

বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার অনুভুতি কেমন সেটা বুঝানো যাবে না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যত নেগেটিভ কথা বার্তাই হোক না কেন আসলেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা অনেক সুন্দর। এখন তো আরো বেশি সুন্দর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও অনেক মেধাবী। বিশ্ববিদ্যালয়টাকে সুস্থ রাখতে পারলে সৌন্দর্যে আর গুনগতমানে হয়ে উঠবে সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়। #

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..