• মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুরের ওসিদের আটক আসামীদের নিয়মিত আদালতে সোপর্দের নির্দেশ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ২২২

 

অমরেশ দত্ত জয়

 চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জগন(ওসি) প্রতিনিয়ত আইন লঙ্গন করছেন।প্রায়ই দেখা যাচ্ছে থানা কর্তৃক আটক আসামীদেরকে নিয়মিত আদালতে তারা সোপর্দ করছেনা।বরং ওসিরা সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট(ইউএনও এবং এসি ল্যান্ড) এর নিকট উপস্থাপন করছেন।যেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণও মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর সুষ্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করছেন।সেই সাথে আসামীদের আইন বর্হিভূতভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হচ্ছে।যা দেশের সংবিধান ও অন্যান্য প্রচলিত আইন এর সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

২৬ আগষ্ট সোমবার বিকালে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরে আলম।তিনি আরো জানান,মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর ৬(১) ধারা মতে “…..৫ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ধারা ১১ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করিবার সময় তফসিলে বর্ণিত আইনের অধীন কোন অপরাধ,যা শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য।

তিনি বলেন,তার সম্মুখে সংঘঠিত বা উদঘাটিত হইয়া থাকিলে তিনি ওই অপরাধ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে গ্রহন করবে।সেই সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে,স্বীকারোক্তি ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্থ করে এই আইনের নির্ধারিত দন্ড আরোপ করতে পারবেন।এ ধরনের আইন বর্হিভূত মোবাইল কোর্ট বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক Suo-moto Rule No. 09 of 2016 এর The state Vs UNO of Sakhipur,Tangail and another,2017(1) LNJ 239 এ প্রচারিত ১৫.০৫.২০১৭ খ্রিঃ তারিখের সিদ্ধান্ত নিম্নরূপঃ ” There is no scope to convict a person under the Ain,2009 who was apprehended or arrested or detained by the police prior to his trail that is before commencement of Mobile Court proceeding.And if anyone is convieted in the aforsaid manner.The whole proceeding of the Mobile Court will be vitiated and the order of convietion is illegal and without jurisdiction”. এই রায় বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলের উপর বাধ্যকর।

তিনি আরো জানান,এই রায়ের মাধ্যমে ঐ আইন বহির্ভূত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এবং অফিসার্স ইনচার্জ(ওসি) এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছিলো।এ প্রেক্ষিতে চাঁদপুর জেলার সকল অফিসার্স ইনচার্জগণ-কে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।সেই সাথে পুলিশ কর্তৃক ধৃত আসামীদের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় হাইকোর্ট এর উপযুক্ত রায়ের সিদ্ধান্ত মান্য না করে আইন বহির্ভূত মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা করার কোন সংবাদ এই কার্যালয়ে গোচরীভূত হলে।তাদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের কারণে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং এ ব্যপারে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টকে অবহিত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..