• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

কর্পোরেট লাইফে চ্যালেঞ্জ জয় করতে চান? জেনে নিন কিছু টিপস

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
  • ৪৪৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট/বাংলারজমিন২৪

পৃথিবীতে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যার মধ্যে চ্যালেঞ্জ নামক শব্দটির উপস্থিতি নেই। সামাজিক থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি সেক্টরেই আমাদেরকে কঠিন থেকে কঠিনতম চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়। আর চ্যালেঞ্জ মানেই তো বুদ্ধির খেল, আপনি হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে আর যা-ই হোক, ঠিকঠাকভাবে চ্যালেঞ্জকে জয় করতে পারবেন না। চ্যালেঞ্জকে জয় করতে হলে, সবার আগে চাই টেকনিক্যাল কিছু বুদ্ধি।

আজ আমাদের এই লেখায় আপনারা জানতে পারবেন, কর্পোরেট সেক্টরের সকল চ্যালেঞ্জকে জয় করে যেভাবে কর্পোরেট জীবনে উন্নতি করা যায়।

হাতে-কলমে শেখানো

শুনে কিংবা দেখে যে কাজ যত সময়ে যত ভালো বোঝা যায়, তার চেয়ে আরও কম সময়ে হাতে-কলমে বেশি ভালো বোঝা যায়।

প্র্যাকটিকাল কথাটির তাৎপর্য বলে শেষ করা যাবে না। তাই, আপনি কাউকে কোনো জিনিস শেখাতে চাইলে, মুখোমুখি বসে শেখানোর চেষ্টা করুন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার ইত্যাদি মাধ্যমে বকবক করে সময় অপচয় করার কোনো মানে হয় না।

মিলে–মিশে কাজ করা

আমরা প্রায় সবাই-ই নিজেদের চিন্তাটাই সবচেয়ে বেশি করি। অন্যের কোনটা ভালো লাগে, অন্যের কোনটা ভালো লাগে না, সে কথা ভাবার সময় নেই আমাদের। কর্পোরেট সেক্টরে এমনটা কখনোই করা যাবে না। আপনাকে অবশ্যই এবং অবশ্যই অন্যের মন বুঝতে হবে। অন্যের ভালোলাগা-খারাপ লাগা বুঝে কাজ এগোতে হবে। ধরুন, আপনি আর আপনার এক বন্ধু ব্যবসা শুরু করলেন। আপনার বন্ধু একটু বদমেজাজী, এখন আপনার করণীয় কী? বন্ধুর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া? না, একদমই না!

আপনার কাজ হচ্ছে, আপনার বন্ধু যে ব্যাপারটায় রাগ করে, তা চিহ্নিত করে রাখা। পরবর্তীতে এই একই কাজ করে তার রাগ না তোলাই হবে বুদ্ধিমানেরর কাজ। এমনটা কর্পোরেটে খুব দরকার।

অন্যকে প্রাধান্য

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ব্যাপারটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকেই আমরা সবাই নিজেদের নিয়ে ভাবি। মোদ্দাকথা, এ জগতের অধিকাংশ মানুষই বেশি মশগুল থাকে তাদের নিজের ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে। অথবা কথাটিকে সাজিয়ে বললে, একজন মানুষ আপনার ব্যাপারে বা অন্য কারো ব্যপারে হাজার গুণ আগ্রহী হোন না কেন, তার চেয়ে কোটি গুণ বেশি আগ্রহী তার নিজের ব্যাপারে। অতএব, যখন আপনি অন্য কাউকে প্রাধান্য দেবেন, তখন সে মনে মনে প্রচণ্ড খুশি হবে। অন্যকে প্রাধান্য দিলে, পৃথিবীর সব কঠিন কাজই খুব সহজে সমাধান করা সম্ভব।

যখন আপনি অন্যকে গুরুত্ব দেবেন, তখন সেও আপনার কাজের বেলায় অবশ্যই এবং অবশ্যই সঠিক গুরুত্বটাই দেবে। সোজা কথা, ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ সমীকরণ। আপনি দিলে, আপনি পাবেন।

শ্রোতা

কেউ কিছু বলছে, অথচ অডিয়েন্স অমনোযোগী, সেক্ষেত্রে বক্তার কথা বলার আগ্রহ অনেকাংশে কমে যায়।

আপনি যত বেশি অন্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, ততই বক্তা মনে মনে খুশি হবেন। সবচেয়ে মজার কথা হলো, যখন আপনি কারো কথা না বুঝেও মনোযোগ দিয়ে মাথাটা সামনে ঝুঁকে কথাগুলো শুনবেন, বক্তা এটিকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেবে।

ভালো শ্রোতা হওয়া খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। এ সম্পর্কেও কিছু বেসিক টিপস আছে।

যেমন বক্তার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনলে, বক্তা কথা বলার আগ্রহ পায়।
মাঝেমধ্যে প্রশ্ন করতে হবে। এতে করে বক্তা নিশ্চিত হবেন যে, আপনার মনোযোগ তার দিকেই।
আলোচনার বিষয়বস্তু একটা, অথচ আপনি প্রশ্ন করে বসলেন অন্য কিছু। কোনো ভালো শ্রোতা এমন কাজ কোনোদিনও করেন না। প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়। কারণ এতে করে বক্তা তার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু থেকে সরে যান।

বিশ্বাস

“বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর” তা আমরা প্রত্যেকেই জানি। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, একজন মানুষ অপর একজন মানুষকে বিশ্বাস করার চাইতে সন্দেহই বেশি করে। কাঁচ আর বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে, তা ফের আগের মতো করে আর ফেরত পাওয়া যায় না। বর্তমান সময়ে কারো বিশ্বাস অর্জন করাটা খুবই কঠিন বিষয়। এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। জেনে না জেনে আমরা প্রায়ই কথার খেলাপ করি; যা বলি, তা করি না, যা করি, তা বলি না। একবার যদি আমরা কেউ কাউকে কথা দিয়ে কথা না রাখি, তবে পরবর্তী সব কাজেই আপনাকে আর কেউ বিশ্বাস করবে না।

করবে তো? আসবে তো? সত্যি তো? এই জাতীয় প্রশ্ন আপনার ব্যক্তিত্বের জন্য বরাদ্দ হয়ে যাবে তাদের মনে।

জীবনে ভালো কিছু পেতে চাইলে সবার আগে বিশ্বাস অর্জন করাটা প্রত্যেকের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা হতে পারে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অথবা হতে পারে আপনার বন্ধুদের ক্ষেত্রে। চারিত্রিক মানদণ্ডের সবচেয়ে উপরে কিছু থেকে থাকলে, তার নাম বিশ্বাস।

সমালোচনা

গ্লাসের উপরের অংশে এক আঙুল কম জল নিয়ে একটি গ্লাস আপনার সামনে রাখা হলো। বলা হলো, সেই গ্লাস নিয়ে মন্তব্য করতে। অধিকাংশই মন্তব্য শুরু করবেন এক আঙুল কম জল নিয়ে। অথচ এক আঙুলের চাইতেও বেশি বিবেচ্য হওয়া উচিত ছিলো গ্লাসের বেশি অংশেই তো জল। একদম একইভাবে আমরা কিছু মানুষ সমালোচনার ক্ষেত্রে আগেভাগেই দোষ দিয়ে শুরু করি, অথচ এমনটা কখনোই স্মার্টনেসের পরিচয় বহন করে না। কারো সমালোচনা করতে হলে, আগে তার সুনাম করতে হয়। মাঝেমধ্যে সুনামের ফাঁক-ফোকরে তার দোষগুলো নিয়ে কথা বলা উচিত।

 

বাদ দিন অজুহাত 

আমাদের খুব কমন সমস্যা হলো আমরা কারণে অকারণে অজুহাত দেই। ক্লাসের টিচার থেকে শুরু করে অফিসের বস সব জায়গায় আমাদের অজুহাতের শেষ নেই। এসব দেখলে মনে হয় আমরা নিমিষেই লিখে ফেলতে পারবো ‘অজুহাত সমগ্র’ নামের এক পেট মোটা সাইজের বই। কিন্তু আপনি কি জানেন সামান্য অজুহাতের কারণে অন্যের নিকট আপনার গ্রহণযোগ্যতা কমতে পারে!

ধরুন আপনি একটা কর্পোরেট অফিসে চাকরি করেন। আপনার কাজও বেশ ভালোই। কিন্তু আপনি মাঝেমধ্যেই অফিসে দেরি করে ঢোকেন। আর বসের কাছে আস্ত অজুহাতের বুলি ঝাড়তে থাকেন। একদিন জরুরি কাজ, অন্যদিন ছোট ভাইকে স্কুলে দিয়ে এসেছেন অথবা রাস্তার জ্যাম তো আছেই। কিন্তু হয়তো এ কারণেই ভবিষ্যতে কোম্পানীর বড় কোন প্রোজেক্টে কাজ করার সুযোগ আপনি হারাতে পারেন।

কেননা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুধু আপনার কাজই দেখবেন না; বরং সাথে সাথে দেখবেন আপনার কাজের গতি এবং চালচলন এমনকি কথা বার্তাও। যেখানে আপনি সামান্য দেরিতে ইয়া বড় বড় অভিযোগ দেন সেখানে বিশাল এক প্রোজেক্টে আপনাকে নেবার ঝুঁকি নেবেই বা কেন! সুতরাং অন্যদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে অথবা মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে নিতে হলে কিন্তু আপনার বাদ দিতে হবে সকল ধরণের অজুহাত।

তারিফ করতে দোষ কী

একটা গল্প বলি আগে। একবার এক রাজা নিজের একই রকম দু’টো ছবি বানাতে বললো তার রাজসভার শিল্পীকে। তো ছবি দুটো নিয়ে একটা রাজ্যের দরজায় লাগানো হলো। এবং ঘোষণা করা হলো এটা রাজসভার শিল্পীর আঁকা ছবি। ছবিতে কোন ভুল দেখলে সেখানে দাগ দেয়ার জন্য। তো এক সপ্তাহ পর দেখা গেলো দাগাদাগিতে ছবির আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পরের সপ্তাহে অন্য ছবিটা দরজায় ঝুলিয়ে সেই একই ঘোষণা। কিন্তু এবার সবাইকে বলা হলো ছবিটা এঁকেছেন ভীনদেশের এক বিখ্যাত চিত্রকর। সপ্তাহ যায় মাস যায় কিন্তু কোন দাগ ছবিতে পড়েনা। এভাবেই রাজা বুঝতে পারলেন যে আসলে আমরা নিজেদের মানুষকে কখনোই প্রশংসা করতে পারি না।

এটা অবশ্য আমাদের শুধু অভ্যাস না; বরং বিশাল বদ অভ্যাস। তারিফের বেলায় আমরা বেজায় কৃপণ। অথচ বয়সে ছোট একটা মানুষকে সামান্য প্রশংসা করলে সে অনেক অনুপ্রাণিত হতে পারে। যেটিতে হয়তো আপনার নিজেরও বড় কোন উপকার লুকিয়ে আছে। আমরা ঐ রাজ্যের প্রজাদের মত সবার কাজের মন্তব্যে দাগ দাগ দিতে দিতে তবে নষ্ট করে ফেলছি। কিন্তু সামান্য কাউকে ধন্যবাদ বা ছোট কাজে যদি একটু বড় প্রশংসা দিন তবে সমস্যাটা কোথায়! বরং মানুষ আপনাকেই পছন্দ করবেন।

শেখার নেইকো শেষ

Never stop learning-বাক্যটার সাথে নিশ্চয়ই আগে থেকে পরিচিত। আমরা বেশিরভাগ সময়ই যেটা মনে করি যে, যেহেতু আমি এই বিষয়ের সাথে অনেক দিন ধরে আছি, তাই হয়তো অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি জানি। এই ধারণা পোষণ করাটা কিন্তু একদম বোকামি। আপনি একটা বিষয়ের সাথে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন মানে এটা হতে পারে যে আপনি আপনার সামনে বসে থাকা মানুষ থেকে বেশিই অভিজ্ঞ। কিন্তু এর মানে এই না যে আপনি তার থেকে সবসময়ই বেশি জানেন।

সুতরাং তার থেকে আপনি কিছু শিখতে পারবেননা এটা ভুল। বরং এই ভেবে রাখা উচিত যে আপনি সবার থেকে শিখবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজেরও প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিস শিখতে ভালো লাগে। আমার থেকে ক্লাসে জুনিয়র একটা মেয়ে আমাকে ডিকশনারির হার্ড কপি থেকে শব্দের অর্থ খুঁজে বের করার কৌশল শিখিয়েছিলো। এজন্য এখনো আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। শেখার মনোভাব নিয়ে থাকলে আপনার উন্নতির ধাপ বাড়বে। শেখার ক্ষেত্রে ছোট বড় বা দাম্ভিকতা রাখা মোটেও উচিত নয়। এজন্যই কিন্তু টেন মিনিট স্কুলের ট্যাগলাইন হলো নেভার স্টপ লার্নিং।

এ তো গেলো সামান্য কয়েকটা টিপস। এরকম হাজারো টিপস রয়েছে কর্পোরেট উন্নতির জন্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা কতটুকু তা বাস্তবে পরিলক্ষিত করতে পারছি। বেশির ভাগ সময়তেই দেখা যায় আমাদের কাজের ভাবনার সাথে কাজের কোনই মিল পাওয়া যায়না। এজন্য আরেকটি এক্সট্রা টিপস হিসেবে এটা দেয়া যেতে পারে যে, কোন কাজের আগে প্ল্যান মোতাবেক একটা খসড়া চূড়ান্ত করা।

ধরুন আপনি একটা নতুন প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছেন। এখন প্রোজেক্টে কী কী হবে সেটার প্ল্যান করতে হবে। সেটাতে কী কী থাকবে কী কী থাকবে, না সেটা নিয়ে একটা খসড়া তৈরি করে ফেলুন। ওখানেই নির্ধারণ করে ফেলুন কার উপরে কোন কাজের দায়িত্ব পড়বে। এরকম একটি খসড়ার কাগজ সহজ করে দিতে পারে কাজের ইয়া বিশাল বোঝাও। সুতরাং প্ল্যান আর খসড়াও মাস্ট।

তো যাইহোক, উপরের সহজ সহজ কথাগুলো সহজ সহজ ভাবে পালন করে আপনিও কর্পোরেট দুনিয়ায় উন্নতিতে এক ধাপ এগোতে পারেন খুব সহজেই। এখন থেকেই বন্ধুদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করে ছক কষে ফেলুন বিশাল কিছু করার। মহাযজ্ঞের শুরু না হয় হোক এখান থেকেই!

এম,এ,কাশেম পাপ্পু-চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্ট গ্রুপ

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..